অন্ত:সত্ত্বা মেয়েকে ১০০ ঘা দোররার পর গ্রামছাড়া

উইমেন চ্যাপ্টার (২৮ জুন): আবারও দোররা ঘটনা ঘটলো বাংলাদেশে! এবারের ঘটনাস্থল সিরাজগঞ্জ জেলার রাজগঞ্জ উপজেলা। গোপনে বিয়ে করার অভিযোগে সাত মাসের অন্ত:সত্ত্বা আলোমতিকে (১৮) ১০০ ঘা বেত্রাঘাতের পর ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তার স্বামী আনিসকেও একই অভিযোগে ১০০ ঘা বেত্রাঘাত করা হয় এবং তার জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি জানায়, জগজীবনপুর গ্রামের আবদুস সালামের মেয়ে আলোমতি এবং আহমেদ আলীর ছেলে আনিসের মধ্যে প্রেমের পরিণতি হিসেবে বিয়ে হয়। কিন্তু গত ২০ জুন আলোমতির গর্ভাবস্থার খবর জানাজানির পর গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জেম স্থানীয় আবু বকরের বাড়িতে সালিশ ডাকেন। সেই সালিশে সবাই দুজনকেই ১০০ ঘা বেত্রাঘাত এবং জরিমানার বিষয়ে একমত হন। সালিশের রায় কার্যকরের পর আলোমতির পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে একঘরে করা হয়।

দক্ষিণ কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক আবদুল আজিজ এবং সলঙ্গা ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য সেকেন্দার আলীর নেতৃত্বে এই সালিশের সময় উপস্থিত ছিলেন আবু বকর, নূর মোহাম্মদ, আবদুস সাত্তার, সোলায়মান হোসেন এবং আবদুল হামিদ। এ বিষয়ে আবদুল আজিজের বক্তব্য, ইসলাম-বিরোধী কাজ করার অপরাধে মেয়েটির বিচার করা হয়েছে। ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী বলেন, মুসলমান হিসেবে শরীয়া আইনেই এই রায় হয়েছে। সলঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন জানান, অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিষয়টি জেনেছেন।

আনিসের প্রথম স্ত্রী বাদুলি জানান, গোপনে বিয়ে করার অভিযোগে সমাজের নেতারা তার স্বামী এবং আলোমতিকে ১০০ ঘা বেত্রাঘাত করেছে এবং ১০ ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উভয়েই। তবে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল হুদা বলেন, কেউ এ বিষয়ে তাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আইন করে ফতোয়া নিষিদ্ধ করা হলেও বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সালিশের ঘটনা ঘটছে। আর তারই শিকার হচ্ছে মেয়েরা। এর আগে ২০১০ সালে হেনা নামের একটি মেয়েকে দোররা মেরে হত্যা করা হয়। তখন এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রচণ্ড বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হলেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.