জাগো নারী জাগো

ক্যামেলিয়া (উইমেন চ্যাপ্টার): মানবিক বোধের কাছে আমরা খুব অসহায় হয়ে যাই। তবে বোধ আর নির্বোধ এর মধ্যে পার্থক্য বোঝাটা সব চেয়ে বড় বিষয় । মাঝে মাঝেই আমরা নির্বোধের বিষয়গুলোকে বোধ ভেবে ভুল করি ।

আর নারীদের ক্ষেত্রে এই ভুলের মাত্রা সব চেয়ে বেশি । পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ায় কিছু অনিয়ম কে নিয়ম করে ফেলা হয়েছে সুকৌশলে । আর নারীরা এই নির্বোধ নিয়মগুলোকে ,বোধের গণ্ডিতে নিয়ে , আদর্শদের রূপ দিতে চেষ্টা করে ।

নারীকেই গৃহস্থালি কাজের দায় বহন করতে হবে। সমাজের খুব প্রচলিত একটা নিয়ম এটা । বাচ্চাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা , পারিবারিক সম্প্রীতি রক্ষা , সামাজিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদির দোহাই দিয়ে এই অনিয়মকে নিয়মরুপে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ।

আজকের শতাব্দীতে বেশিরভাগ মেয়েই বিয়ের আগে গৃহস্থালি কাজে তেমন পারদর্শী থাকে না । পড়ালেখা , ক্যারিয়ার , সোশাল নেটওয়ার্ক ইত্যাদি কাজে সময় ব্যয় করে মেয়েদের সংসারে সময় দেবার সময় থাকে না । কিন্তু বিয়ের পরে মেয়েটিকে অপরিপক্ব হাতেই সংসারের দায়ভার নিতে হয় । যৌথ পরিবারের সংখ্যা কম হওয়াতে প্রাথমিকভাবে মেয়েটা একেবারেই একা হাতে সংসার নামক নৌকার হাল ধরে। স্বামীর চাকরি , নিজের চাকরি , সংসারের কাজ সব মিলিয়ে মেয়েটা একাই শারীরিক ও মানসিক চাপের সম্মুখীন হয় । আর সামাজিক নিয়মের কারণে স্বামীটি চাইলেও চাকরি ছেড়ে এই গৃহস্থালি কাজের দায় নিতে পারে না। অথচ সামাজিক নিয়ম যদি এমন হত যে স্বামী কিংবা স্ত্রী যে ইচ্ছা গৃহস্থালি কাজের দায় নিতে পারে তবে মেয়েটি চাইলেই তার স্বামীকে এই দায় দিয়ে পারতো। অন্তত দুজন সমান ভাবে গৃহস্থালি কাজের দায় সমান ভাগে ভাগ করে নিতে পারত।

সামাজিকভাবে এটা বলা হয় যে সংসারে মা যদি গৃহিণী হয় তবে ছেলেমেয়েদের বেড়ে ওঠা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। মা গৃহিণী অথচ সন্তান চোর , বদমাশ হয়েছে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে আমাদের সমাজে । আবার মা মারা গেছেন, বাবার তত্ত্বাবধানে সন্তান আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছে এমন উদাহরণও কম নয় । তাই সমাজের এই যুক্তিটি সঠিক নয় ।

মেয়েরা রান্না ভাল পারে। এমন যুক্তি এক কথায় ভুল প্রমাণ করা যায় । পৃথিবীর সব বড় বড় হোটেল , রেস্টুরেন্ট এর কুক ছেলে । এমন কি ছেলেরা রান্নায় ইদানীং মেয়েদের থেকে অনেক বেশী ভাল করছে। তাই রান্নার জন্য স্ত্রীই এক মাত্র ভরসা কোথাটা পুরাপুরি অযৌক্তিক।

এটা হয়ত কিছুটা সঠিক যে মেয়েরা সংসারের খুঁটিনাটি বিষয়ে অনেক বেশি খেয়ালী হয়, কিন্তু এই একটা কারণেই তাকে গৃহ পরিচালনার দায় নিতে হবে এটা ভাবা অবশ্যই ন্যায়সংগত নয়। একজন নারীর অবশ্যই বেছে নেবার অধিকার থাকা উচিৎ যে, সে সংসারের গৃহ পরিচালনার দায় নেবে কিনা ।
স্বামী কিংবা স্ত্রী যেই গৃহ পরিচালনার দায়িত্ব নিক না কেন যদি আন্তরিকতা থাকে তবে সংসার সুন্দর ভাবে চলবে ।

নারীদের বোধের জায়গাটা শাণ দেবার সময় এসেছে। নারীদের বুঝতে হবে তার ইচ্ছাগুলো অনৈতিক নয়, বরং সামাজিক অনিয়মগুলো সময়ের ক্ষয়ে নিয়ম হয়ে গেছে। সংসার করা, জীবনসঙ্গী বেছে নেয়া ,ক্যারিয়ার , লাইফ স্টাইল , সব কিছুতেই নারীর ইচ্ছার প্রাধান্য থাকবে। নারী নিজেই বেছে নেবে তার আগামী জীবনের পথ ।

শেয়ার করুন:
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.