অনন্যাদের মাঝে আপনি অনন্যা

Tasmima Hossainসুলতানা রহমান: দিনাজপুরের সাধারণ মেয়ে ‘টিপটিপ’ বউ হয়ে এলেন বিরাট এক পরিবারে। অর্থে, সম্মানে, ইতিহাসে, ঐতিহ্যে সেই পরিবার সত্যিই বিরাট। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পুত্রবধু টিপটিপ। মানিক মিয়ার পুত্রবধু হিসেবে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাকে বরন করে ঘরে তোলেন।

স্বামী-সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি, যৌথ পরিবারের সুখ দু:খ, টানাপোড়েন নিয়ে ভরপুর সংসার। তবু এক শূন্যতা টিপটিপ নামের মেয়েটার মনে। সবার মাঝে নিজেরে হারায়ে খুঁজে বেড়ায় আপনার ছায়া। সেই ছায়া ভালোবাসে নারীর আপন ভুবন, খুঁজে বেড়ায় নারীর নিজস্ব সত্ত্বা। রক্ষণশীল পরিবারের টিপটিপ নামের সাধারণ মেয়েটা তিলতিল করে হয়ে ওঠেন একজন তাসমিমা হোসেন।

‘বড়লোকের’ বউ হলে যা হয়-কেউ গভীরতা মাপতে চায়না, স্বামীর সম্মানের কিছুটা ভাগ স্ত্রীকে দেয় সৌজন্যতাবশত। তাসমিমা হোসেন সেই গণ্ডি ভেঙ্গে ১৯৮৮ সালে প্রকাশ করেন পাক্ষিক ‘অনন্যা’। দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে নারীর খোলা জানালা। সেই জানালা দিয়ে বয়ে যায় নারীর মুক্ত চিন্তার হাওয়া-কখনো তপ্ত, কখনো শীতল। পাক্ষিক অনন্যা হয়ে ওঠে দেশের অনন্য নারীদের প্ল্যাটফর্ম।

নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের ক্ষুরধার সাহসি লেখা মুগ্ধ করে তাসমিমা হোসেনকে। এমন সাহসী নারীদের মাঝেই তিনি দেখেন নিজের প্রতিবিম্ব। মূলত তসলিমা নাসরিনকে স্বীকৃতি কিংবা পুরস্কৃত করার আকাঙ্খা থেকেই তাসমিমা হোসেন শুরু করেন ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’ পুরষ্কার। সেটা ছিল ১৯৯৩ সাল।

তুলে আনেন প্রথম ব্ল্যাকবেল্ট প্রাপ্ত নারী রানী পাদামসি, প্রথম নারী বিচারক জিনাত আরা, প্রথম পাইলট ইয়াসমিন রহমানকে। গত ২১ বছরে তিনি ২১০ নারীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মানিত করেছেন। তাসমিমা হোসেনের আগে সেই কাজটি কেউ করেনি। নারীদের সাহিত্য ও গবেষণা উৎসাহিত করতেও চালু করেন অনন্যা সাহিত্য পুরষ্কার।
টিপটিপ থেকে তাসমিমা হোসেন হওয়ার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিত্বের সংঘাত, নিজস্ব জীবনবোধ, চিন্তার গভীরতা। জীবনের বাঁকে বাঁকে যা শিখেছেন, দেখেছেন, বুঝেছেন-তা বিলিয়ে দিয়েছেন অকাতরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

আপনাকে সালাম। শুভ জন্মদিন আপা। আপনি অনন্যাদের মাঝে অনন্যা।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.