নারী সাংসদদের প্রকল্প ডব্লিউপি’র মেয়াদ বাড়ছে

Parliament_innerউইমেন চ্যাপ্টার (২৪ জুন): ‘বিল্ডিং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি টু উইমেন থ্রু দি উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানস বা নারী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নারীসমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করা (ডব্লিউপি)’ শীর্ষক প্রকল্পটি দ্বিতীয় মেয়াদে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জেন্ডার সমতা ও নারী অধিকার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে সর্বদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা থেকে ডব্লিউপি প্রকল্পটির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জাতিসংঘ উইমেনের অর্থায়নের এ প্রকল্পটির নির্ধারিত এক বছরের মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হয়ে যাবে।

সূত্র মতে, এরই মধ্যে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রকল্পের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন সংসদ সচিবালয়ে পেশ করেছে। প্রতিবেদনটি জাতিসংঘ উইমেনের বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাতেও একমত প্রকাশ করা হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে বলে আশা করছেন। জানা গেছে, ডব্লিউপি প্রকল্পটি নারী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা ইস্যুতে অ্যাডভোকেসি করা ও একটি টেকসই সার্বজনীন তথ্য ও জ্ঞানের ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১২ সালের জুন মাস থেকে যাত্রা শুরু করে। ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ের (জিওবি ৫ লাখ) এ প্রকল্পটি জাতিসংঘ উইমেনের অর্থায়ণে বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট পাঁচটি উদ্দেশ্য রয়েছে- জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রণীত জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন নীতিমালা ও অঙ্গীকার সম্পর্কে নারী সংসদ সদস্যদের ধারণা দেয়া, বাস্তবায়নে তাদের উদ্বুদ্ধ করা, একটি সর্বদলীয় নারী ককাস গঠন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান অন্যান্য আঞ্চলিক একই ধরনের ককাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহন বিষয়ক জ্ঞান ও তথ্যভিত্তিক আর্ন্তজাতিক iknowpolitics.org
নামক নেটওয়ার্কের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক সংযোগ স্থাপন করা এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত নারীদের অধিকার সম্পর্কে নারী সংসদ সদস্যদের সচেতন করে তোলা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালাটি ২০১২ সালের ২১ জুন অনুষ্ঠিত হয়। গত এক বছরে ডব্লিউপি প্রকল্পের আওতায় নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নারী দিবসে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ব কর্মসূচীর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন, দক্ষিণ এশিয়ার নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক স্থাপন, গোলটেবিল বৈঠক, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত নারী ও নির্যাতনের শিকার নারীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন ছিলো উল্লেখযোগ্য। ডব্লিউপি প্রকল্পটি শুরু থেকেই নারী সংসদ সদস্যদের ককাস তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। ককাস তৈরির ধারণাপত্র কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। বর্তমানে ককাসের কাঠামোগত বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।

প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক নীতিমালার ওপরে স্বচ্ছ ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে ৬টি পলিসি ব্রিফ ও নয়টি হ্যান্ডআউট তৈরি করে তা সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নারী সংসদ সদস্য কয়েকজন সহিংসতার শিকার নারীদের সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে গঠিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) পরিদর্শন করেন।

২০১২ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে জেন্ডার সমতা নীতিমালা ও আইন বিষয়ে তিনটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল আলোচনা সভার সুপারিশ গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর একটি মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা করা হয়।

ওই বছরের শেষ দিকে ২৯ নভেম্বর জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন ইস্যুতে অ্যাডভোকেসি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট (তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার)। রিসোর্স পারসন ছিলেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ কমলা ভাসিন। ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারী সংসদ সদস্যদের ককাস ও অ্যাডভোকেসি কর্মপরিকল্পনা তৈরি বিষয়ক কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নেপালের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার চিত্রলেখা যাদব ও প্রাক্তন নারী উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী উর্মিলা আড়িয়াল।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা নারী গোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ৪ জন সংসদ সদস্যসহ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল টাঙ্গাইলে যৌনকর্মীদের পল্লী পরিদর্শন করেন।

দক্ষিণ এশীয় নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ৩ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও নেপালে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেন্ডার সমতা ইস্যু ও ককাস বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কাঠমান্ডু ও দিল্লী সফর করেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.