‘ম্যারেজ কাউন্সেলিং’ কেন জরুরি

Two fingersহাসান মোরশেদ: চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের চাষের জমি উচ্ছেদ করে শিল্পায়ন বিরোধী আন্দোলনে যখন একজন নারী শ্রমিকের ছবি দেখি কেন্দ্রে, তার পরপরই আরেকজন নারীর আত্মহননের খবর পাই।

দ্বিতীয় নারী চা শ্রমিক নন, তিনি নাগরিক- আধুনিক ও শিক্ষিত ছিলেন। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন, পরিবার বাধ্য হয়েছিলো মেনে নিতে। এমনকি যে মহামান্য পুরুষটিকে তিনি পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন তাকে কয়েক লক্ষ টাকা যৌতুকও দিতে হয়েছিলো এবং তিনি কিছুই করতেন না। বিয়ে পরবর্তী সময়ে বৌকে পেটাতেন, এরকম পিটুনি খেয়েই সেই নারী মায়ের কাছে এসেছিলেন, মাকে পাঠিয়েছিলেন ব্যথানাশক ঔষধ আনতে এবং এই ফাঁকে তিনি আত্মহনন করেন।

জীবন কি এতোই সস্তা?- এ জাতীয় হাপিত্যেশ এ গেলাম না। যার জীবন সে জানবে সস্তা নাকি দামী। কাল রাত থেকে একটা তুলনা মাথায় ঢুকছে কেবল। চুনারুঘাটের চা-শ্রমিক নারীর জীবন কিন্তু সস্তা না। বংশ পরম্পরায় শোষন আর বঞ্চনার শিকার হতে হতে ও এরা আত্মহনন করেনা, বরং রুখে দাঁড়ায়। অনেক বছর আগে ভোরবেলা ক্বিনব্রীজ পার হতে গিয়ে দেখেছিলাম- একজন দেহজীবী নারী রিকশা আটকে এক ‘ভদ্রলোক’কে শার্টের কলার ধরে টেনে নামাচ্ছেন, এর কাছে তার পাওনা ছিলো।

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্তরা তবে আত্মহত্যা করেন কেনো? একজন চাশ্রমিক নারী কিংবা একজন দেহজীবি নারীর থেকে এদের জন্য তো পৃথিবী অধিক কঠিন নয়। মার খেয়ে মরে গিয়ে কী হয়? বেঁচে থাকা পরিবারের বাকী সদস্যরা- মা বাবা ভাই বোন সন্তানেরা সারা জীবন যে ট্রমা’র ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকেন সেটা আত্মহত্যার চেয়ে আরো বেদনাদায়ক, সম্ভবতঃ।

মার খেলে মরে না গিয়ে বরং পুলিশে জিডি করাটা জরুরি। আরো জরুরি বিয়ের আগে সঠিক কাউন্সেলিং। প্রেমপর্বে মানুষ মানুষকে কতোটুকু জানে? যার প্রেমে পূর্ণ চাঁদ হেসে উঠে আকাশে- বিয়ের পর হয়তো প্রকাশ হতে পারে সে একটা সাইকোপ্যাথ, নারী-পুরুষ দুপক্ষেই সেটা হতে পারে।

তাই বিয়ের পর কী কী আশাভঙ্গ হতে পারে, হলে নিজে মরে না গিয়ে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে- এই ধরনের কাউন্সেলিং শিক্ষিত মধ্যবিত্ত/ উচ্চবিত্ত নারীদের জন্য জরুরি বলে মনে হচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু দুঃখজনক ঘটনায়।

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় এরকম কাউন্সেলিং আজ জরুরি। কেউ কী আছেন? নেবেন সেই দায়িত্ব?

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.