এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে-৫

Lonely Girl 1লীনা হাসিনা হক: ঘুমাতে পারছি না কাল রাত থেকে। কাজে মন দিতে পারছি না। অস্থিরতা ছেয়ে ফেলছে আমাকে। কাল সন্ধ্যায় যখন ফোন কলটা পেলাম যে আমার খুব কাছের বন্ধুর বোনের মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে, হাতের টেলিফোন সেটকে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিলো। সত্যি এটাই যে ২৩ বছরের মেয়েটি – যে নিজের ভালোবাসার ছেলেটিকে বিয়ে করেছিলো পরিবারের অমতে, সেই মেয়েটি স্বামীর অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে নিজের জীবন নিজেই শেষ করেছে।

পড়ছিল মেয়েটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছেলেটিও। মন দেয়া নেয়া। মন মেয়েটিই হয়তো দিয়েছিলো শুধু। পরিবারের আপত্তি, বিয়ে সবকিছুই আমার জানার মধ্যে গত এক বছরের ভেতরে।

মেয়ের বাবা আরেকটি বিয়ে করাতে মা ডিভোর্স দিয়েছে। মামাদের সহযোগিতায় তিন সন্তানকে বড় করে তুলেছে। এতো আপত্তির পরেও শুধুমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মেয়ের মা এবং মামা তিন লাখ টাকা নগদ আর পঞ্চাশ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছে। ছেলেটি যেহেতু কোন চাকরি করে না, তাছাড়া ছেলের পরিবারের আপত্তি ছিল এই বিয়েতে, মেয়েকে তুলে নেয়নি ছেলের পরিবার। বাইশ বছরের প্রজাপতি তরুণী স্বপ্ন দেখেছিলো তার ভালোবাসার মানুষটি পড়া শেষ করে চাকরি করবে, তখন তারা সংসার পাতবে।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ছেলেটির চেহারা বদল। নিজের পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা তো দূর, উলটে এই বাড়িতে এসে মানসিক-শারীরিক নানা রকম অত্যাচার। মেয়ে বা মেয়ের মা সো-কলড লজ্জার কারণে না পাড়া প্রতিবেশীকে বুঝতে দিয়েছে, না থানায় কোনও জিডি করেছে। গত বিকেলে ছেলেটি মেরেছে মেয়েটিকে, প্রচণ্ড মেরেছে, মেরে-পিটে সে বাইরে চলে গেছে। মা বাইরে ছিলেন, ঘরে ফিরলে মেয়ে বলেছে স্বামীর সাথে ঝগড়ার কথা, মাকে পাঠিয়েছে ব্যথানাশক ওষুধ আনতে আর একা বাড়িতে অভিমানী মেয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যান থেকে ঝুলে নিজের জীবন নিজে শেষ করেছে!

এটা এপারেন্টলি আত্মহত্যা। কোন সুইসাইড নোট রেখে যায়নি সে। থানা পুলিশ করা হয়েছে। পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ স্বামী (পড়ুন খুনি) ছেলেটিকে থানায় ধরে এনে আটকে রাখে। মেয়ের মামা যখন হাসপাতালে ভাগ্নীর মৃতদেহের দ্রুত ময়নাতদন্ত করানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে, ওদিকে তখন ছেলের প্রভাবশালী আত্মীয়রা দেন দরবার করছে থানার কর্মকর্তাদের সাথে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। টাকা পয়সার লেনদেনের কথাবার্তাও চলছে।

মেয়ের মামা-মামীর শক্ত অবস্থানের কারণে মামলার বর্ণনায় প্রথমে লেখা হয়েছিলো আত্মহত্যার প্ররোচনার কথা। ইতোমধ্যে মামলা আরো শক্ত করার জন্য পরিচিত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে থানা বলানো হলো। অত্যন্ত সৎ সেই কর্মকর্তা ওসিকে বললেন, সত্য ঘটনার উপরেই মামলা লিখতে। থানার পুলিশ তো প্রথম থেকেই মেয়ের পরিবারকে বলছিল, মিটিয়ে ফেলতে, এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এই বাক্যে অতি উৎসাহী তারা প্রথম মামলা বাদ দিয়ে মামলা নিয়েছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর। কারণ পাড়া-প্রতিবেশীও তো অ-বনিবনা বা অত্যাচারের কথা কিছু বলতে পারে নাই! আপাতত আর বদলানো গেলো না সেই মামলা।

সেই পদস্থ কর্মকর্তাকে বুঝাতে সক্ষম হইনি যে, ছেলেটি দোষী কি নির্দোষ সেটা আদালত বিচার করবে, কিন্তু প্ররোচনার মামলার উপরে ভিত্তি করে তাকে রিমান্ডে নেয়া যেতো, এর মধ্যে পোস্টমর্টেম রিপোর্টও এসে যেতো। কর্মকর্তার কথা হলো, আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে আজ পর্যন্ত কারো কোন সাজা হয় নাই। কারণ এটা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাছাড়া মেয়ের পরিবার কোন জিডি বা সালিশও করে নাই, কোন সুইসাইড নোটও নাই, শেষ পর্যন্ত এই মামলা টিকতো না।

মেয়ের মা যেহেতু একাকি, তার কষ্ট এই মামলায় বাড়বেই শুধু। আর যদি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে শারীরিক অত্যাচারের আলামত পাওয়া যায়, তখন নতুন মামলা করা যাবে। মেয়ে তো গেছেই, মায়ের কষ্ট বাড়িয়ে লাভ কী! সবই অতি খাঁটি যুক্তিসঙ্গত কেতাবি কথা! বাংলাদেশের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যিও! তবু…

মেয়ের মা যখন আকাশ বিদীর্ণ করে কাঁদছিলেন, ‘আমার মেয়ের খুনিকে তোরা ছেড়ে দিলি!’ নিজের ভেতরের মা সত্ত্বা ভয়ে-আতংকে অসহায়ত্বে কেঁপে উঠছিল। খুনের আসামীকে বজ্র আঁটুনিতে ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে ফসকা গেরোর ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যেতে দেয়া হলো। ছেলেকে দুপুরে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে, সকাল দশটার মধ্যে চালান করার কথা কোর্টে। যেহেতু তার অপরাধ প্রমানিত হয় নাই, কোন সাক্ষী নাই, মামলাও তার বিরুদ্ধে আপাতত যায় না, কাজেই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যদিও বা হত্যা অথবা শরীরে আঘাতের আলামত পাওয়াও যায়, খুনী তো পগারপার।

সততার ডেফিনেশন আসলে কি? ছেলেটি নিজের হাতে যদি নাও খুন করে থাকে মেয়েটিকে, মানসিক অত্যাচার তো করেছিলো, গায়ে আঘাত তো করেছিলো। আগে যদি পরিবার জিডি নাই-ই করে থাকে, তাতে ছেলেটি যে প্ররোচনা করেছে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিলো মেয়েটিকে, সেকি মিথ্যা? ‘মেয়ে তো গেছেই’- তাইতো আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন- এইতো আপ্তবাক্য আমাদের।

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে সমভাবে দহে! কী লাভ এই কাল্পনিক ঘৃণার দহনে? আমার নিজের আত্মার কাছে অপরাধী হয়ে রইবো সারাজীবন, মা হিসাবে, মানুষ হিসাবে, নারী হিসাবে…ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাটিকে যে আমার মাধ্যমেই যোগাযোগ করা হয়েছিলো!

এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে? পারছি না…পারবো না।।

শেয়ার করুন:

নারি তো অবশ্যই নারি।প্রক্রিতিগত ভাবেই তার শরির অন্য রকম ।তবু তাকে মানুশ হিশেবেই গড়ে তোলার চেশটা করতে হবে।সেজন্য তার শরির চর্চার প্রয়োজন আছে।তার জিবন ঘনিঠ শিকখার প্রয়োজ়ন আছে।একটা মেয়েকে একটা পুরুশ কখনই ধর্শন করতে পারবে না,যদি সে একটু শক্তি রাখে দেহে।গ্যাং রেপ অন্য জিনিশ।মুরগি ধরে জবাই করার মত। বা কোরবানির গরু জবাই করার মতো।আর একটা কথা, দুর্ঘটনা যখন ঘটেই যায়,তখন নারিরাই তাকে সবচেয়ে বেশি মার্ক করে রাখে।বয়সিরা তো তাকে পচা মনে করে।এটাকে এক্সিডেন্ট মনে করে না।তাই আমি বলতে চাই, অনাকাঙ্খিত ধর্শনকে দুর্ঘটনা মনে করতে হবে।যেমন মানুশ পড়ে গিয়ে হাত বা পা কাটে।গাড়ি চাপা পড়ে হাত বা পা আলাদা হয়ে যায়।তখন তো সে অছ্যুত হয় না।

প্রমিত বাঙলা ভাশার এই রকম বানানই আমি লেখি।এটাই বাঙলা বানান।অবশ্যই আমার যুক্তি আছে।সে কথা এখানে নয়।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.