মুক্তিযুদ্ধ তো ছিল সবার, গুটিকয়েকের নয়

Flag 2শারমিন শামস্: আমি শহীদ সন্তান নই, বুদ্ধিজীবীর আত্মজা নই, বীরাঙ্গনার মেয়ে নই, আমি যুদ্ধশিশুও নই। তবু এই দেশ এই স্বাধীনতা এই বিজয় দিবস আমার।

আমার বাবাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়েছিল রাজাকাররা, চাচাকে ধরে নিয়েছিল পাকিস্তানি আর্মি, মা-বাবাকে বাস থেকে নামিয়ে সার বেঁধে দাঁড় করিয়েছিল, আমার বোন তখন দুগ্ধপোষ্য শিশু, আরেকজন তিন বছরের। বাধ্য হয়ে মা মেজবোন, যার বয়স তখন এক বছরও নয়, তাকে পাঠিয়ে দিল তার ননদের কাছে গ্রামে।

সদ্য প্রসূতি তিনি তখন, ইন্ডিয়া পালাচ্ছেন, শরণার্থী ক্যাম্পে থাকেন, কীভাবে সামলাবেন তিনটা ছোট্ট শিশু সন্তান?

মায়ের কাছে শুনেছি কতবার, বাবার কাছে শুনেছি কত-কতবার। এরকম শোনার কাহিনী তো এদেশের লাখ লাখ সন্তানের, কোটি কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে একাত্তরে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ তাই ছিল সবার, প্রতিটা বাঙালির।

আজ এই ৪৪ বছর পরে, আমাদের বাবারা, মায়েরা, বোনেরা, ভাইয়েরা, কার কত আত্মত্যাগ, কে কতটুকু পেলাম তার হিসেব কষে কী হবে? আত্মত্যাগ দিয়েছেন যারা, তারা কি কখনো করেছেন হিসাব? তারা কি কখনো খেয়েছেন লাভের গুড়?

এই অসুস্থ মিডিয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায়, দায়সারা কাজ সারতে গিয়ে আমরা যারা গুটিকয় মানুষকে বারবার হাইলাইট করি, তার মানে এই নয় এদেশের শিকড়ে তারা এবং তাদের পিতামাতাই জল ঢালছেন।

এই জল আমাদের সকলের অশ্রুজল। প্রতিটা দেশপ্রেমিক বাঙালির অধিকার এই বাংলাদেশে। ফেসবুকে কে কত নিজেকে জাহির করছেন, তা দেখছি সকলে, কে কেমন হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন টকশোবাজির শুদ্ধ ভাষা ভুলে গিয়ে তাও দেখছি, কে কথার অন্য মানে করছে আসল কথা বুঝতে না পেরে, তাও দেখছি। আর আমাদের সবাইকে দেখছে বাংলাদেশ। হাহাহাহাহা।

আমার সোনার বাংলা। এই দেশ আমার, আমি এই দেশের সন্তান। মুক্তিযুদ্ধের বহু বহু বছর পর আমার জন্ম, তবু আমার দেশের মাটিতে লেগে আছে আমার পূর্বপুরুষ যে কারো রক্ত। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।

আমি সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, অপমানিত বীরাঙ্গনাদের। তারা আমার কাছে চিরদিনের হিরো। তারা আমার দেশপ্রেমের প্রেরণা। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়। আজ যেন মনে হচ্ছে, তারা ঐ পার থেকে অবাক হয়ে দেখছেন আমাদের আর কষ্ট পাচ্ছেন!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.