জয়ের ফেসবুকের জয়

Facebookরুবিনা চৌধুরী: বাংলাদেশে মুখ দেখানো ডিজিটাল বইটাসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম বন্ধ ছিল বেশ কিছুদিন; আনুমানিক সাকা-মুজাহিদের ফাঁসির আগের দিন থেকে, এখন শোনা গেছে যে, সবগুলোই খুলে দেয়া হয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রথমে ফেসবুক এবং পরে টুইটার, ভাইবার, হোয়াটস আপসহ সবগুলো মাধ্যম খোলা হয়েছে। প্রবাসে কান খাড়া করে কানাঘুষা শুনলাম, ব্যাপারটি যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসির আদেশের কার্যকারিতা বিষয়ক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে। আমরা করতালিতে সরকারকে বাহবা দিলাম।

এরপর তারানা হালিম অকারণেই আষাঢ়ে গল্প সংকলন অগ্রহায়ণ মাসে ছাপলেন। যার বক্তব্য বেশ অস্পষ্ট, তাই দুর্বোধ্য ছিল তো বটেই। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, সামাজিক মাধ্যম বন্ধ কিংবা খোলা রাখার মতো গুরুতর কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার চেয়ারের নেই, তার বিবৃতি পড়ে অনেকেই সেটি বুঝতে ভুল করেছেন। সিদ্ধান্তটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের, ডাক বিভাগের মন্ত্রীর দায়িত্ব কার্যসাধন, করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বাহক মা্ত্র। বলাবাহুল্য, সিদ্ধান্তটি সফল। ফাঁসির সময়ে কোন অরাজকতা দেশে ঘটেনি।

তারানা হালিম এটাও জানিয়েছিলেন যে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনমাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ থাকবে। এটার সূত্র কী প্রথম থেকেই সিদ্ধান্তের আওয়ায় ছিল? এদিকে বিভিন্নভাবে সবাই ঢুকছিল নানা পথ ধরে। অবশেষে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ জানালেন আইসিটি পরামর্শক জয়ের মধ্যস্থতা অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল তিন মাস থেকে দুই সপ্তাহে সংকুচিত করার। সামনেই পৌরসভা নির্বাচন।

ফেসবুক বহুল ব্যবহৃত, কিন্তু কখনোই নিরাপদ নয়। সেটি বন্ধ বা খোলা থাকুক, তেমন কিছু এসে যায় না। নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব সামাজিক মাধ্যমের ঘাড়ে চাপানোর প্রয়োজন কী! তাছাড়া, রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য এটিকে ব্যবহার করা হয় না। শাহবাগ আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে থাকেন অনেকেই, কিন্তু তারা বিশাল একটি ছাত্রগোষ্ঠী ছিল। অন্যদিকে, প্রতিক্রিয়াশীলদের হাতে ব্যাপক তৈলাক্ত আমদানির অর্থ আছে, তাদের যোগাযোগের ধারা ভিন্ন।

মার্ক জুকারবার্গের জনপ্রিয় কিন্তু সর্বজনবিদিত নিরাপদহীন মাধ্যমটি জানলো, কোন একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তায় তারও একটি ভূমিকা থাকতে পারে এবং জয়ের আঙুল ধরে সেইদেশে তার জয়যাত্রা সচল হলো।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.