পারভারশন যখন ওভারলোডেড

 

girls 3মারজিয়া প্রভা: বেশ কিছুদিন আগে ভারতের দুটি কাহিনী পড়েছিলাম।  মেট্রোতে এক বিদেশীকে দেখে মাস্টারবেট করছে এক যুবক। আরেকটি ঘটনা ঘটেছে মুম্বাইয়ের রাস্তায়। ওদেশে নাকি রাস্তাঘাটে বাড়ছে হস্তমৈথুন করা যুবকের সংখ্যা, যারা মেয়েদের দেখলেই উত্তেজিত হয় এবং রাস্তায় শুরু করে বাথরুমের কাজটা।  তা উপমহাদেশীয় ছেলে লুঙ্গি তুলে সেই কবে থেকে ড্রেনে রাস্তায় ছোট কাজটি সারে, এখন তো আপডেট ভার্সন হবেই!

রাস্তায় প্রস্রাব করা গেলে স্বমেহন করা যাবে না কেন, জাতীয় দাবি! বিদেশীরা বড় বেরসিক, টুইটারে ছবি তুলে দিল লোক দুটার, পুলিশও ধরে নিয়ে গেল! বিদেশীর কাছে মানসম্মান রক্ষা করাটা জায়েজ হয়ে যায়! কিন্তু ভারতের রাস্তা বা ট্রামে সেটাই হয়তো প্রথম কাহিনী ছিল না! নিজ দেশের অনেক মেয়েই এই ঝামেলায় পড়েছে। বলেছে কি তারা পুলিশকে? বললেই কি স্টেপ নিত তারা? কি যে বলি না আমরা, ডজন ডজন রেপ কেসের সুরাহা হয় না যে দেশে, সে দেশে কোন ছেলে পাশের বাড়ির আন্টিকে দেখিয়ে দেখিয়ে গোপনাঙ্গ ঘষাঘষি করলো তার কেস লড়বে নাকি পুলিশ! আমি ভাবতেও পারি না!

কাহিনীগুলো ভারতে হচ্ছে, বাংলাদেশ কি করে বাদ যায় বস? ওদেশে চলন্ত মাইক্রোবাসে রেপ হল ‘ভারত কন্যা’, আমাদের উদ্যমী কিছু লোক পেয়ে গেল এই মওকা,  “ আরে কি সুন্দর! বাসে চলতে চলতে ডায়নামিক রেপ হবে এখন থেকে! বেশ একটা দুলানি আমেজ!” সাথে সাথে কয়েকটি ঘটনাও ঘটে গেল এই দেশে।

তো ভারতে রাস্তায় রাস্তায় স্বমেহন হচ্ছে দেখে এই দেশের ওই উদ্যমী লোকেরা ভাবছে, “ কী ঘিঞ্জিতে বসে বসে ঘষাঘষি করি! এখন থেকে হাওয়া লাগাতে লাগাতে ঘষবো ! কী পর্নো দেখি, সব দেখা শেষ, এখন মা-বোনের সামনে তাদের দেখে দেখে ঘষবো”। এইসব ছেলেকে স্যালুট না দিলে কি হয়!

প্রায় এক বছর আগের থেকেই শুনেছিলাম, এমনটা এইদেশের বাসেই হচ্ছে। মেয়েদের গায়ের সাথে গা লাগিয়ে, বা তাদের দেখে দেখে প্যান্টের জিপার খুলে, স্থান কাল ভুলে ছেলেরা স্বমেহন করে যাচ্ছে! ওকে কর! গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে কেন করবি? আমার সামনে নির্লজ্জভাবে অণ্ডকোষ দেখিয়ে কেন করবি?  দূরে গিয়ে কর! আমার চোখের-শরীরের ক্ষতি করে তো তুমি স্বমেহনের অধিকার পাবে না !

শোনা কথায় অত বুঝা যায় না। নিজের জীবনে ঘটলো বলে এই বেলা এটা নিয়ে পড়লাম। মোহাম্মদপুর থেকে বিআরটিসি বাস ধরে গুলশান আসি। ভিড় বাসে,মহিলা সিট দখল হয়ে আছে, এক লোক উঠে দাঁড়িয়ে বসতে বললো। আমি তো খুশি। থ্যাংকস জানিয়ে সিটে বসলাম। ভিড় বাসে না উঠলে সকাল সাড়ে আটটার অফিস আমি ধরতে পারতাম না।

যাই হোক, লোকটা আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো। আমার সাইকোলজিতে বলল, আমি উঠলে এই সিটে বসবে বলেই দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার। তো বিআরটিসি বাসের সিটগুলো একটু উঁচুতে থাকে। আমার হাঁটুর সঙ্গে শক্ত কিছু লেগে আছে। আমার মন বলল, প্যান্টের পকেটে অনেকের সেলফোন থাকে, তারই কিছু। চলন্ত বাসে সব বুঝাও যায় না। ফার্মগেটে যাবার পর বুঝলাম, উহা সেলফোন না! আমার মাথাতেও যা আসেনি, সেই জিনিসই লাগিয়ে রেখেছে আমার হাঁটুর সঙ্গে।

আমি চিৎকার দিয়ে বললাম “ কই নামবেন আপনি? কি করতেছেন”লোকটা দ্রুত সরে গেল, প্যান্টের জিপার লাগালো, আমি দেখলাম প্যান্টের সাইড দিয়ে ভেজা একটা দাগ, আমি চিৎকার দিচ্ছি, হাত কামড়াচ্ছি।, চলন্ত বাস থেকে লোকটা নেমে গেল। মেয়েরা সান্ত্বনা দিল, বুঝলো,কাউকে বলতে পারছি না, বুঝাতে পারছি না। এমন কিছু কী করে হতে পারে আমার সঙ্গে? বহুদিন পর এইরকম কেসে হুট করে চোখ দিয়ে পানি বের হলো।

বহুদিন এইগুলার সঙ্গে লড়াই করে আসছি। ফেবুতে, ব্লগে, রাস্তায়। আজকাল গায়ে হাত দিলেই চিল্লাফাল্লা করি, মাইর দেই। কিন্তু এই কেস সম্পূর্ণ অন্য। এই অভিজ্ঞতায় পড়িনি। বিশেষ করে যে লোক আমাকে সিট ছেড়ে বসতে দেয়, সম্মান করে, সেই এমন কিছু করতে পারবে, আমার মাথাতেও আসে নাই।

আসা উচিত ছিল! ভিড় বাসে একটা লোক একটু গা ঘেঁষে দাঁড়ালে আমি বেশী কিছু বলি না, মানবিকতা বলে একটা বিষয় আছে, কই তাকে সরতে বলবো এত জাপটাজাপটি বাসে! কিন্তু ইন্টেনশনালি আমার বুকে-নিতম্বে হাত দিবে, আমার হাত-পায়ের সঙ্গে লেগে থেকে স্বমেহন করবে, তাহলে তো আমি আর মানবিকতা দেখাতে পারবো না! এখন গায়ের সঙ্গে হাতের ব্রিফকেসের টাচ লাগলেও তো দেখি আমার ঘেন্না লাগবে, আমি চিৎকার দিয়ে উঠবো! গায়ে হাত তুলব!

We Can এর সমন্বয়কারী জিনাত আপার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এই ঘটনা বললে , উনি বলেন “ এসব লোক আসলে আপনাকে ওই অ্যাবসার্ড চিন্তাই করছে, খাড়াই হয়ে থাকে ওদের ওই সময়, নারী খালি সেক্স করার জিনিষ, ওদের মাথায় এটাই ঘুরে”।

আমি নারী, আমি মাংস, আমি সেক্স (পড়ুন স্বমেহন) অবজেক্ট! পুরুষদের সাইকোলজি আমি বুঝি না। ওদিকে অনেক পুরুষ ঠিক একইভাবে সমকামী পুরুষ দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছে, আমার কতিপয় বন্ধু শেয়ার করলো এই কথা! পারভার্টের কোন জাতপাত ভেদ নেই, শিক্ষিত হলেও সে পারভার্ট হতে পারে, হয়ও।

একটা ছেলেকে ছোটবেলা থেকে বাইরে ‘ছোট বাথরুম’ করতে পাঠিয়ে দেই, ছোটবেলা থেকে ছেলের সামনে মেয়েকে জাব্বাজুব্বা পরিয়ে বলি “ঢেকে রাখ ঠিকঠাক”, ছেলেমেয়ের সহজ মেলামেশা যে সমাজে ট্যাবু, সেখান থেকে এইসব পারভার্টেরই জন্ম নেয়! তাদের জ্ঞান, সভ্যতা, বুদ্ধি কিচ্ছু নেই মাথায়- আছে খালি ডাণ্ডা!

ভারতের দুটি ঘটনা

http://bangla.eenaduindia.com/News/National/2015/08/18075356/Man-Publicly-Masturbated-At-A-Foreigner-In-Mumbai.vpf

http://bangla.eenaduindia.com/News/International/2015/07/27203744/Police-Find-Man-Photographed-Masturbating-on-Train.vpf

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমি তখন সেভেনে না এইটে পড়ি। বাসে করে যাচ্ছি। দাঁড়ায় আছি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, কয়টা বাজে। সে সময় বললো। তারপর সে যা শুরু করলো তা হচ্ছে একটু পর পর তার হাতটা আমার দুই পায়ের মাঝখানে ছোয়ানো শুরু করলো। আমি খুব লাজুক আর সরল ছিলাম। একপাশ হয় দাড়লাম। নামার সময় আবার সে আমার পিছনে হাতটা লাগায় রাখলো। হাতটা ঠেলে সরায়ে নেমে গেলাম। ৩ বার এলাকার পরিচিত ভাই করার চেষ্টা করছে। একবার এক হুজুর।

আসলে এই পারভার্টদের হাত থেকে নারী, পুরুষ, শিশু – কেউই নিরাপদ না। আমি এখন এদের প্রতি করুণা অনুভব করি। অবদমিত কাম চেপে রাখতে রাখতে এক পর্যায়ে বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়। তখন সে শুরু করে এই ধরনের কাজ। এটাই স্বাভাবিক। কারণ এর জন্য দায়ী আমাদের সমাজের কিছু নিয়ম। যার মধ্যে একটা: ছেলে আর মেয়ে কখনো বন্ধু হইতে পারবে না। কিংবা কাঠ আর আগুন পাশাপাশি রাখলে আগুন ধরবেই।

যত্তসব ফালতু।

প্রথমেই বলব অই অভদ্র লোক যা করেছে তা কোনভাবেই আমি সমর্থন করছি না। কিন্তু আপনি কি মনে করেন না নারী নিজেই নিজের অমর্যাদা করে। যেমন একজন লোক তার সিট ছেড়ে দিয়ে আপনাকে বসতে দিচ্ছে আপনি যদি যথেষ্ট আত্ম মর্যাদা সম্পন্না হতেন তাহলে এটাকে সহানুভূতি হিসেবে দেখে এর কারন খোজার চেষ্টা করতেন। এক টা ছেলে কে কখন ও দেখেছেন বাসে কখন ওঅন্য কোন ছেলে কে সিট ছেড়ে দিতে, না শুধু মেয়েদের কেই দেয়া হয় জানি না তাদের ঔদার্য শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই কেন তবে আমার কাছে এটাও এক টা পার্ভারসন মনে হয়( মেয়েটার কাছে এক টু স্মার্ট নেস যাহির করে ফায়দা আদায় করতে চাওয়ার মৃদু চেষ্টা) , মেয়েটা কোন কারনে অসমর্থা ( গর্ভবতী) হলে অলাদা কথা

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.