ধর্ম কি সত্যিই ‘হাইজ্যাকড’?

Islam andতানিয়া মোর্শেদ: আমার মতো বক বক করা মানুষেরও মাঝে মাঝে কিছুই বলতে ইচ্ছে করে না! কী হবে বকে? অশান্ত, অস্থির এই পৃথিবীর মানুষের নীচতা, হিংস্রতা, অমানবিকতা, ধর্মান্ধতা, হিপোক্র্যাসি দেখতে দেখতে ক্লান্ত। আর কতো!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যিনি ধর্মান্ধদের শিকার হলেন তাঁকে আমি চিনতাম না। আমি ক্যাম্পাস, দেশ ছাড়বার পর বা তার কিছু আগ দিয়ে মনে হয় তিনি শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এক জায়গায় লেখা থেকে জানলাম যে তিনি সম্ভবত তাঁর ক্লাসে বোরখা পরা নিষেধ করেছিলেন। বাবার কথা মনে পড়লো। মৌখিক পরীক্ষার সময় কোনো ছাত্রী নেকাব পরে আসলে তিনি তাকে মুখ দেখাতে বলতেন। যুক্তি সংগত কারণেই।

আসলেই কে পরীক্ষা দিচ্ছে তা কীভাবে বোঝা যাবে যদি কেউ শুধুমাত্র চোখ খুলে পুরো মুখ ঢেকে রাখে? অন্য কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে কীনা তা কিভাবে বোঝা যাবে? বাবার এই কাজ নিয়ে অন্য এক শিক্ষক (নারী) কথা হয়েছিল বেশ ক’বার।

তিনি বলেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে জামাতী শিক্ষকরা ভীষণভাবে লেগেছিল ছাত্রীদের এসব বিষয়ে কথা বলবার জন্য। তখন প্রগতিশীল শিক্ষক গ্রুপ তাঁর পাশে দাঁড়াননি। আমি কি বলবো আমার মায়ের থেকেও কিছু বড় অতিচেনা এই মানুষটিকে!

আমার প্রশ্ন, প্রগতিশীলতা মানে কি, (প্রগতিশীল শিক্ষকদের প্রতি)? পোষাক মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে শিক্ষালয়ে কিছু নিয়মনীতি নিশ্চয় মানতে হয়। সেটা রুচিশীলতার দিক দিয়ে যেমন তেমনি নিরাপত্তার বিষয় ও অন্যান্য প্রশ্নবোধক বিষয়েও প্রযোজ্য নয় কি? পুরো বোরখা, নেকাবে ঢেকে অন্য কেউ পরীক্ষা কি দিতে পারে না? কোনো সন্ত্রাসী বোমা নিয়ে ঢুকতে পারে না? তাহলে এসব নিয়ে কেন কেউ কথা বলবেন না? আর কেউ বললে আইসিসের মত তার কল্লা কাটতে হবে?

বোরখা, নেকাবে মুখ ঢেকে যাদের চলতে হবে (ব্যক্তিগত অধিকার) তাদের তাহলে অনেক জায়গায় না যেয়ে অন্যদের অধিকার (বেঁচে থাকবার, প্রশ্ন করবার, অন্য কেউ পরীক্ষা দিচ্ছে না তা নিশ্চিত হবার ইত্যাদি) রক্ষা করা কর্তব্য নয়? আমি তখনই নিজের অধিকার নিয়ে চিল্লাবো যখন আমিও অন্যের অধিকার লংঘন করবো না। যদি পৃথিবীর সব পুরুষকে ধর্ষক মনে হয় তাহলে ঘরে বসে থাকলেই হয়।

বোরখা, নেকাব কোথাও কখনো ধর্ষিত হবার সম্ভাবনা থেকে কাউকে রক্ষা করেছে? ধর্ষণ বিষয়ে প্রায়ই কিছু নির্বোধের মন্তব্য দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এত ধর্ষণ কেন ইত্যাদি। নির্বোধের এটা মাথায় আসে না যে যেখানে ধর্ষণ প্রমাণ করতে দু’জন পুরুষ বা চারজন নারী সাক্ষী লাগে, প্রমাণ না করতে পারলে অবৈধ যৌনতার দায়ে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়, বাবা-ভাই-বর পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে অনার কিলিং করে সেই সব দেশে কোন নারী ধর্ষণের রিপোর্ট করবে? সৌদী আরবসহ মুসলিমদেশগুলোয় কেন ধর্ষণের পরিসংখ্যান নেই তা বুঝতে কি রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয়?

যেসব দেশে ধর্ষণকে “সম্ভ্রমহানি” বলা হয়, ধর্ষিতার দিকে আঙ্গুল তোলা হয়, ধর্ষকের দিকে নয়, সে সব দেশে কোন নারী বা তার পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ আনবে? আর যে দেশে আইনের প্রয়োগ আছে, প্রমাণ হলে শাস্তি আছে, ধর্ষিতার দিকে আঙ্গুল তোলা নেই সেখানেই রিপোর্ট হবে। এখন তো আবার চোখ (নেকাবেও হবে না) নিয়েও কথা হচ্ছে! নেকাবের মধ্যে একটু চোখ দেখা গেলে তা দেখেও এদের কামবোধ হয়! এরপর বোরখা দেখে হবে! তারপর নাম শুনে হবে! তারপর “নারী” শব্দটা শুনে হবে! তারপর?

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকরা বিভিন্ন দেশে কি মানবেতর জীবন যাপন করে দেশের জিডিপি সমৃদ্ধ করে চলেছেন তা ক’জন মনে রাখেন! নারী শ্রমিকদের বাড়তি পাওনা (!) যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ! আরব দেশে “কাজের মানুষ” কে দাসী ছাড়া অন্য কিছু ভাবার মত মানসিকতা ক’জনের আছে তা ভাবতে খুব বেশী কষ্ট হয় কি?  

আগেও বলেছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কি ভাবে জামাত, শিবিরের হাতে চলে যায় তা নিজে দেখেছি। গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র্, নিম্নবিত্ত  স্টুডেন্টদের পাশে বন্ধুর মত, বড় ভাই-বোনের মত এরা দাঁড়াতো। ধীরে ধীরে ব্রেইন ওয়াশ করতো। আশে পাশের গ্রামের দরিদ্র, অশিক্ষিত, ধর্ম ভীরু মানুষদের ত্রাণকর্তা হিসাবে দাঁড়াতো।

হাতে ছিল ওহাবিজম, গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার সৌদি আরবের ফান্ড। ধর্মের কাছে উচ্চ শিক্ষিত, স্মার্ট মানুষই কুপোকাৎ, এরা তো শিশু! পুরো রাজশাহী এখন এদের দখলে!

বাংলাদেশে এখন যত ধার্মিক, ধর্মান্ধ মানুষ, ধর্ম যদি সত্যিই মানুষের ভেতর আলো আনতে পারতো তবে পৃথিবীর একটি মহা শান্তিময় স্থানে পরিণত হবার কথা ছিল বাংলাদেশের! মডারেট মুসলমানরা কি এখনো জেগে জেগে ঘুমাবেন? আপনাদের কথা মতই যদি ধরি “ইসলামের অপব্যাখ্যা” করছে মুসলিম সন্ত্রাসীরা, তবে এব্যাপারে আপনাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে না?

আপনাদের শান্তির ধর্ম যে হাইজ্যাক হয়ে গেছে তা বোঝেন কি? ধর্ম না সবচেয়ে বড় বিষয় তবে এখনো নিশ্চুপ কেন? কেবলমাত্র বিধর্মী, নাস্তিকরাই ইসলামকে সন্ত্রাসের ধর্ম বলছে না, মুসলমানের ঘরে জন্মানো সন্তান বলছে, “হোয়াই আই ওয়াজ বর্ন টু ইসলাম? হোয়াই রিলিজন ওয়াজ ক্রিয়েটেড?” যেদিন এই ধরনের প্রশ্নকারীর সংখ্যা বাড়বে (?!) সেদিন হয়ত মডারেট মুসলমানদের চৈতন্য হবে! তবে তখন পৃথিবী কি অবস্থায় থাকবে তা কে জানে!

ক’দিন আগে দীপ্ত ফেমিনিজম নিয়ে প্রশ্ন করেছিল (আবারো)। এক বন্ধু না কী ফেমিনিজমকে কটাক্ষ করে কথা বলেছে। বেশ কিছু কথার পর আবারো বলেছি, কাউকে মানবতাবাদী হতে হলে আগে ফেমিনিজম বুঝতে হবে, ফেমিনিস্ট হয়েই হিউম্যানিস্ট হয়।

ধর্ম বিষয়ে কথার এক পর্যায়ে বলেছি, ধার্মিক মানুষ মানবতাবাদী হতে পারে না সতিকার অর্থে। ধর্ম পালন (যে কোনো ধর্ম) করতে গেলে এমন এমন বিষয় আসবে যা মানবতার সাথে কখনো কখনো সাংঘর্ষিক হবেই। সুবিধাজনক অংশ বেছে বেছে ধর্ম পালন কেউ করতে পারেন (ব্যক্তিগত অধিকার), ইসলাম ধর্ম বাদে আজ প্রায় সব ধর্মের মানুষই তাই করছে, ধর্মের মডার্ন লুক এনেছেন (এটাই কাম্য) তবে ইসলাম তার অধিকার দেয় না।

দীপ্ত’র চিন্তা, কীভাবে গড তার প্রতি ভালবাসা-বিশ্বাস পরীক্ষা করবার জন্য একজনকে নিজের সন্তানকে হত্যা করতে বলে! আব্রাহামিক ধর্মগ্রন্থের এই কথা তার মা’কেও শিশু বয়সে ভাবিয়েছে। এখন তাকেও ভাবাচ্ছে! (সে কোনো ধর্মগ্রন্থে পড়েনি, অন্য কোথাও পড়েছে)

(লেখাটি পুরনো, কিন্তু আজও কী প্রযোজ্য নয়?)

 

শেয়ার করুন:
  • 46
  •  
  •  
  •  
  •  
    46
    Shares

http://muslimgirl.net/6728/do-women-need-to-provide-four-witnesses-to-prove-rape/
normally just read…but don’t comment…but could not resist myself….pl know the religion before criticizing cause if someone or any govt even make any law outa Islam…you must not blame islam. I will expect that you will study enough before publishing your controversial thought.

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.