জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কি একজন নারী?

UNউইমেন চ্যাপ্টার: বিষয়টি যদি এরকম হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেন হিলারি ক্লিনটন, আর জাতিসংঘের মহাসচিবও হলেন একজন নারীবাদী নারী। তখন কী দাঁড়াবে? নারী অধিকার কর্মীরা এমনই একটি বিশ্বনেতৃত্ব চাইছেন। এজন্য তারা বিভিন্ন পর্যায়ে তদবিরও চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছেন বান কি মুন। তাঁর উত্তরসুরি হিসেবে একজন নারীকে নির্বাচিত করার তোড়জোর তাই এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

সম্প্রতি এমন ঘোষণাই দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং ৪০টিরও বেশি দেশের প্রেসিডেন্টরা। বান কি মুনের উত্তরসুরি হিসেবে একজন নারীর প্রতি তারা তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা একমত হয়েছেন যে, এখন সময় এসেছে নারীদের জাতিসংঘে নেতৃত্ব দেয়ার।

এপি’র এক খবরে জানা যায়, গত মাসে নিরাপত্তা পরিষদে অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট মোজেনস লিক্কেটফট বলেছেন, গত ৭০ বছরে জাতিসংঘ তার মহাসচিব হিসেবে কোনো নারীকে পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ‘যোগ্য নারী প্রার্থী’ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অজুহাত দেখিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন আর তা চলতে দেয়া যায় না। তাঁর মতে, প্রচুরসংখ্যক সম্ভাব্য নারী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও গত সাত দশকে জাতিসংঘে আটজন পুরুষ নেতৃত্ব দিলেও একজন নারীকেও সেই পদে বসানো হয়নি।  

জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশ, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছরের শুরুতেই তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করবে। পরবর্তীতে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে নির্বাচন হবে চূড়ান্ত প্রার্থী।

মনোয়ন প্রক্রিয়ার জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নাম পুশ করতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য তালিকায় আছেন, ইউনেস্কোর মহাসচিব ইরিনা বোকোভা (বুলগেরিয়া) এবং ক্রোয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির ইউরোপ-পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী ভেসনা পুসিচের নাম। নিজ নিজ দেশে দুজনই এরই মধ্যে মনোনীত হয়ে আছেন।

জাতিসংঘের সাবেক সহকারি মহাসচিব জিলিয়ান সোরেনসেন বলছিলেন, একজন নারীকে জাতিসংঘের নেতা হিসেবে পাওয়া হবে ঐতিহাসিক এক পরিবর্তন। আর এটা বিশ্বের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের পথে অঙ্গীকার পূরণের পথেও এ হবে অন্যতম  পদক্ষেপ।  

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.