বিষন্ন পর্যবেক্ষণ

Tulshi Raniকাবেরী গায়েন: আজও এক আড্ডায় বেশ জোরেশোরে শুনলাম কেনো ফ্রান্সের ঘটনায় এতো হা-হুতাশ, যেখানে লেবানন, বৈরুত, সিরিয়ার ঘটনায় কোন প্রোফাইল রাঙ্গানো নেই। ইত্যাদি। কেউ কেউ জুকারবার্গের ধর্মীয় পরিচয়কেও ইঙ্গিত করলেন। এই আলোচনাটি এতো বেশি হয়েছে যে ভেবেছিলাম এ’বিষয়ে কিছু লিখবো না। কিন্তু আমি সত্যিই একটু ভাবলাম। আসলে কেনো হয়নি?

১। যাঁরা আজ ফ্রান্সের পতাকার রঙ্গে প্রোফাইল রাঙ্গানো নিয়ে এতো ক্রুদ্ধকণ্ঠ, তাঁরা কেনো সেসব ঘটনায় নিজেদের প্রোফাইল পাল্টালেন না? তার মানে কি এই তাঁদের মনে বেদনা ছিলো না? নিশ্চয় ছিলো, আছে। তবুও কেনো তাঁরা এই সাধারণ কাজটি করলেন না? সেটা কি এই কারণে যে এই জাতীয় এক ক্লিকে বা বহু ক্লিকে পরস্পরের মধ্যে শেয়ারযোগ্য প্রতীকের নির্মাণে যে মেধা আর শ্রম ব্যয় করতে হয়, সেদিকে মনোনিবেশের চেয়ে অনেক সোজা অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠুকে অন্তরের ক্ষোভ প্রকাশ করে দায় মেটানো? আমাদের ক্ষোভের বা সংহতির প্রতীকগুলোও অন্য কেউ তৈরী করে দেবে, তারপর আমরা সেগুলো ব্যবহার করবো? আমাদের ক্ষোভের বা সংহতির প্রতীকগুলো কেনো পাশ্চাত্য তৈরি করে দেয়নি, সেই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ একটু কেমন হয়ে যায় না? বেচারা জুকারবার্গ!

২। আমাদের দেশে তুলসী রানীর পেটে লাথি মেরে সন্তান বের করে ফেলার মতো মারাত্মক ঘটনা আমাদের কতোজনের প্রোফাইল ছবি হয়েছিলো? কিন্তু সিরীয় শিশু আয়লানের মৃতদেহ সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। সে’জন্য কি ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে? আমি তো মনে করি, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের এক শিশুর বিপন্নতার ছবিই প্রোফাইল ছবি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে পৃথিবীটা যে শিশুদের বসবাসযোগ্য করা যায় নি, সেটি প্রতীকায়িত করার জন্য।

৩। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই যখন কোন নিরীহ মানুষ খুন করা হয়, তাকে কেনো আমরা মানবতার উপরে আক্রমণ মনে করে একটু শোক করতে পারবো না? কেনো কৈফিয়ত দিতেই হবে?

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.