দেশছাড়া মানুষ যখন নিজ দেশে ফেরেন

12170217_997692690252531_1369781861_nকানিজ আকলিমা সুলতানা: সব সময় শুনে এসেছি দুর্গাপূজায় মানুষজন ভারত যায়। এইবার অনেক পরিচিত জনকে দেখলাম পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছে। তাদের কাছে শুনলাম, গত কয়দিন পেট্রাপোল-বেনাপোলে নাকি এদিকমুখী হাজার হাজার যাত্রীর লম্বা লাইন ছিল।

এরা বোধকরি এপার থেকে ওপারে চলে যাওয়া মানুষজনদেরই অংশ। শিকড়ের টানে চেনা উৎসবে অংশ নিতে এসেছে। হয়তো শিকড়ের কিছু অংশ এখনও রয়ে গেছে এখানে! হয়তো বা ছেড়ে যাওয়া বসতে পূজোটা কাটিয়ে যাবার মতো সুবাতাস বইছে এখন!

আজ বিজয়া দশমী শেষে আগামিকাল বিসর্জনের মাধ্যমে এইবারের দূর্গাপূজা শেষ হবে। এই দেশে বেড়াতে আসা এসব মানুষ আবার ফিরে যাবে বেনাপোল হয়ে হরিদাসপুর পেট্রাপোল বর্ডার দিয়ে।

কিন্তু এই মানুষেরা একদিন এই দেশেরই নাগরিক ছিল। এখানে তাদের পূর্বপুরুষের আবাস ছিল। ঘর ছিল, বাড়ি ছিল, জমি ছিল, সবচেয়ে বেশি যা ছিল, তাহলো স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ভেঙে তারা একদিন পাড়ি জমিয়েছিলেন ভিনভূমে। তাদের যে অংশ সেদিন এখানে থেকে গিয়েছিল, কালক্রমে তারা সংখ্যালঘু হয়ে গেছে।

আর ফিরে যাওয়া অংশ ভিনদেশে ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘু না হলেও, সামাজিকভাবে সংখ্যালঘুই। একদিন তারা হয়েছিলেন উদ্বাস্তু।  বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, উকিল, শ্রমজীবী- কে ছিলো না সেই উদ্বাস্তু মিছিলে! নিজ জন্মস্থানের পরিচয় লুকিয়ে রেখে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট লুকিয়ে রেখে, বাঙ্গাল ভাষা বদলে অন্য ভূখণ্ডের বাংলা বলে এই উদ্বাস্তুরা টিকে থাকার যুদ্ধ করেছেন দীর্ঘদিন। আজও অনেকেই করছেন। তাদের কথায়-আচার-আচরণে এখনও এইদেশের আঞ্চলিকতার টান।

আচ্ছা, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এই মানুষেরা যখন সবুজ ছেড়ে অন্য রঙের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বেড়াতে আসে একদা নিজের দেশে, তখন নিজ ভূমের সীমান্তে পা রেখে তাদের মনের কী অবস্থা হয়? তারা কি হু হু করে কাঁদতে থাকেন? আবেগে আনন্দে হাসতে থাকেন? জানা হয় না কখনও। জানতে ভয় লাগে, নিজেকে তখন বেমানান লাগে এইদেশের মাটিতে, অপরাধী লাগে।

হয়তো তারা এসব কিছুই করেন না। বর্ডারে দাঁড়িয়ে শুধু বুক ভরে নিঃশ্বাস নেন। নিজ দেশের বাতাসের গন্ধ নেন। আর বেনাপোল কাস্টম অফিসার যখন ওদের পাসপোর্টে এন্ট্রি সিল মারেন, তখন ওরা ঘাড় কাত করে ডানদিকে অফিস রুমের বাইরে চেনা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে। অত:পর সিলমারা পাসপোর্ট হাতে হৃৎপিণ্ডে শিরশিরানি অনুভূতি নিয়ে ব্যাগ কাঁধে ছুটতে থাকেন বাসে উঠবেন বলে!

শেয়ার করুন:

আমার বাড়ীতেই তো আসছে আমার কাছের জনেরা। আমি দেখেছি অনেক আনন্দের ভিতর ও তাদের চাপা যন্ত্রনা । অনেকে আসতে পারিনী ভিসা জটিলতার কারনে। বার বার কত কিছু জানতে চেয়েছে যেন হাজার মাইল দুরে থেকেও বুঝতে চেয়েছে তাদের আমরা মনে করছি কিনা। এ যন্ত্রনা সত্যিই বড় ভয়াবহ।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.