প্রতিমা ভাঙার প্রতিবাদী রূপ

12170217_997692690252531_1369781861_nউইমেন চ্যাপ্টার: দেশজুড়ে যখন চলছে প্রতিমা ভাঙার উৎসব, তখন এক অভিনব প্রতিবাদ সবার নজর কাড়ে। চট্টগ্রামের পাথরঘাটা পাঁচবাড়ি পূজামণ্ডপ কমিটির বানানো এবারের পূজার মূল ভাবই ছিল প্রতিবাদ। সামনে চিরায়ত দূর্গা প্রতিমা তাঁর সন্তান-সন্ততিসহ, পেছনে আহাজারিরত মানুষ, তারও পেছনে পত্রিকার সংবাদ, প্রতিমা ভাঙচুর আর সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার খবরাখবর। পেছনের সারির প্রতিমার পরনেও সেই খবরের সমারোহ। 

অভিনব এই প্রতিবাদের সংবাদ ছবিসহ মূহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় অনলাইনে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করে নেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এটাই চরম চপেটাঘাত। অনলাইন জগতের পরিচিত মুখ সৃজিতা মিতু লিখেছেন, “বগুড়ায় প্রতিমা ভাংচুর, বাগেরহাটে মন্দিরে আগুন, ‘মাটির সন্তান’ তছনছ, পালপাড়ায় আতঙ্ক, 12167938_997692786919188_2125438809_nসাতক্ষীরায় চিঠি দিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হুমকি, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রতিমা ভাংচুর, এসব ঘটনায় একত্র হয়ে কেউ ছিন্ন বস্ত্রে, কেউ বিপন্ন-অসহায় হয়ে ধ্যানমগ্ন ‘মা’ দুর্গার সামনে বসে প্রার্থনার ভঙ্গিতে অন্যায়ের প্রতিকার চাইছেন,  নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের নিশ্চয়তা চাইছেন”।

নিরবচ্ছিন্ন প্রতিমা ভাঙার খবরে ব্যতিক্রমী এই পূজামণ্ডপও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।  

চট্টগ্রামের পাথরঘাটা পাঁচবাড়ি পূজা কমিটি আগে থেকেই ঠিক করেছিলেন ভিন্ন কিছু করার। আঘাতের প্রত্যুত্তরে পাল্টা আঘাত দেয়ার সামর্থ্য যখন দেশে নেই, প্রশাসন যখন নীরব এসব ঘটনায়, তখন শান্তিপূর্ণ কায়দায় নিজেদের প্রতিবাদের ভাষাটা কী করে পৌঁছে দেয়া যায়, কী করে নাড়া দেয়া যায় সমাজকে, সেই ভাবনা থেকেই এমন প্রতিবাদী প্রতিমা বানানোর চিন্তা। এরকমটিই জানালেন আয়োজকরা। 

পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য সৌরভ চৌধুরীও বলছিলেন, “অনেকে অনেকভাবে করছে কিন্তু আমাদের টার্গেট ছিল কিভাবে অল্প খরচে মানুষের কাছে একটি মেসেজ দেয়া যায়”।

তিনি বলেন, ” আসলে এই পূজাটা সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন দেখতে আসে আর দেখতে আসলে যেন তাদের কাছে একটি মেসেজ যায় সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য, আমরা চেষ্টা করেছি দেশব্যাপী যে অন্যায় হয়েছে তা তুলে ধরতে”।

পাঁচবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ চৌধুরী শিবুর পরিকল্পনায় এই পূজামণ্ডপটিতে কেবল সংখ্যালঘু নয় নারী নির্যাতনের বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপজুড়ে টাঙানো বিভিন্ন ফেস্টুনে সেই প্রতিবাদের বিষয়গুলোই উঠে এসেছে। 
 
12179198_997692663585867_1998180219_nপূজা দেখতে আসা অনেকেই বলছিলেন, আসলে এটি খুব সময় উপযোগী কাজ, পূজা পালনের পাশাপাশি যে নিপীড়নের প্রতিবাদ করা যায় তা দেখে তারা অভিভূত। বিশেষ করে যখন কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না, তখন এছাড়া আর কীইবা করার আছে, এমনটিও বলছিলেন অনেকে।

যেমন উর্মি ঘোষ নামে একজন বলেন, “অনেক তো মানববন্ধন হলো, ওসব কেউ আমলেই নেয় না, এবার যদি ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ কিছু মাত্র নাড়া দেয় সেটাই অনেক”।

পূজা দেখতে এসেছিলেন হাবিবুর রহমান নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। তিনি বলেন, “আমি মনে করি সকল ধর্মের মানুষের নিরাপদে যার যার ধর্ম পালনের অধিকার আছে, পূজা এলেই হিন্দুদের প্রতিমার উপর আঘাত আসলে খুবই দুঃখজনক, এসবের প্রতিকার সরকারকেই করতে হবে”।

(সিলেটটুডে থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.