সার্কাসের দেশ!!!

57ইতু ইত্তিলা: ৫৭ ধারার খেলা বেশ জমেছে দেখছি। কিছুদিন আগে একইসঙ্গে মূর্তিপূজা ও কোরআন পড়ার অপরাধে সোলেমান ও তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম’কে আটক করেছে পুলিশ। নূরজাহান বলেন, “ধনসম্পদ প্রাপ্তিসহ সন্তানের মঙ্গলের আশায় দীর্ঘদিন থেকেই আমরা সাধনা করছি। কিছুদিন আগে স্বপ্নে বাড়িতে কালীপূজা ও কোরআন তেলাওয়াতসহ জিকির-আসকার করার নির্দেশনা পাই।”

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, “একটি মানুষ কখনোই দুটি ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।” খুব জানতে ইচ্ছে করছে, কোন ব্যক্তি একই সঙ্গে দুটি ধর্মের অনুসারী হলে ঠিক কোন ধর্মের মানুষের অনুভুতিতে আঘাত লাগে? সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কথা বলা হয়। সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করা যাবে, কিন্তু একাধিক ধর্ম পালন করা বা বিশ্বাস করা যাবে না! তাতে নাকি অনুভূতিতে আঘাত লাগে!

সৌদি আরবের হজ ব্যবসা যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ব্যবসা এই কথা স্পষ্ট করে বলেছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। এরপর তার বিরুদ্ধে মিছিল, গ্রফতার হওয়া, মন্ত্রীত্ব বাতিল সহ নানাভাবে তাকে হেনস্থা করা হলো।

এবারের হজে সৌদি আরবের যুবরাজের যাতায়াতের সুবিধা করতে গিয়ে প্রায় হাজার খানেক লোকের প্রাণ গেলো। যদিও সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাকি বলেছেন, ১৩শ মানুষ আল্লার ইচ্ছাতেই পদদলিত হয়ে মারা গেছে। এই নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া্র কারণে মোহন কুমার মন্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক জামাতী নেতা যিনি বর্তমা্নে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন, সেই নেতার নাকি ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লেগেছে। তিনি আঘাতের চিকিৎসা নিতে পুলিশের কাছে গিয়ে ৫৭ ধারার মামলা করে এসেছেন।

পুলিশের জানা নেই মোহন কী লিখেছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতার দ্রুত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে মোহন কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে শুনছি, সৌদি আরবের মক্কা প্রশাসন ছয়টি কবরস্থানে ৭৪ হাজার ৭০০ কবর প্রস্তুত করছে। এসব কবরে মিনায় পদপিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া কিছুসংখ্যক হাজিসহ অন্যদের দাফন করা হতে পারে। যদিও সৌদি প্রশাসনের মতে মিনায় পদপিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া লোকের সংখ্যা সাতশ। তবে এত কবর কেন?

এখানে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, হজ ব্যবসায় ধস নামার ভয়ে মৃতের সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। এরপরও হজকে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ব্যবসা বলা যাবে না, বললেই ৫৭ ধারা। এই হজে আবার যৌন হয়রানিরও অভিযোগ পাওয়া যায়। বড়ই সৌন্দর্য!

বাংলাদেশের আইনগুলোর মধ্যে সম্ভবত ৫৭ ধারাটাই সবচেয়ে কার্যকর। ৫৭ ধারাটা না থাকলে বুঝতামই না যে বাংলাদেশে আইনকানুন বলে কিছু আছে!

আইএস বলেছিল পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতসহ সারা বিশ্ব দখল করার টার্গেট নিয়েছে। আগেই বলেছিলাম, বিশ্ব দখল করতে পারবে কিনা সেসব জানি না, তবে বাংলাদেশ দখল করতে বেশি দেরী নেই। দেরী নেই জানতাম, তবে এত তাড়াতাড়ি ঘোষণা দিয়ে হত্যা কার্যক্রম শুরু করবে, জানা ছিল না। দেশের বাইরে থাকার কারণে দেশের খবর পেতে হলে ইন্টারনেটই ভরসা।

খবর পেলাম, ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক খুনে জঙ্গি সংগঠন আইএসের ‘দায় স্বীকার’। অনেকের ধারনা বাংলাদেশে আইএস, আলকায়দা এইসব জঙ্গি সংগঠন বলতে বিদেশী কিছু জঙ্গি টঙ্গি। দেশে এত জঙ্গি কারখানা মাদ্রাসা থাকতে বিদেশ থেকে জঙ্গি আনার কি দরকার পড়েছে? বাংলাদেশে সব জঙ্গিদের পিতা জামায়াত শিবির, এটা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয়! আর জঙ্গিজঙ্গি ভাইভাই, কাজেই আইএস এর লক্ষ্য পূরণে জামায়েত শিবির এগিয়ে আসবে স্বাভাবিক।

যাইহোক, দেশ জঙ্গিতে ভরে যাক, তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু দেশ নাস্তিক মুক্ত রাখা জরুরি। এর জন্য তো ৫৭ ধারা আর সাথে চাপাতি আছেই। তবে আর চিন্তা কিসের?

দেশে বিনোদনমূলক সার্কাস চলছে, আপনারা উপভোগ করছেন তো?

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.