সেই ঈদটিকে কি আমি ভুলতে পেরেছি?

child-girl-rapeফেরদৌসি খান: আর কিছুদিন পর কোরবানির ঈদ। মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ। আগে জানতাম বাঙালীদের ঘরে ঘরে কিন্তু এখন এটা একান্তই মুসলমানদের খুশির ব্যাপার।

যাই হোক, যে কথা বলার জন্য আজ অনেকদিন পর কাগজের পাতা খুলেছি। আমার এখন দুটি সন্তান। দুটিই ছোট খুব বেশি বড় হয়নি। ঠিক আমি যেমনটি বড় ছিলাম না। বয়স ছিলো আমার ১০ কি ১১।

ঈদের খুশিতে যখন সবাই ব্যস্ত তখন প্রতিবারই মনে পড়ে যায় আমার সেই ভয়াবহ স্মৃতি। শরীরের বিভিন্ন অংশের পশম গুলো গরুর পশমের মতোন করেই দাঁড়িয়ে যায়। আতংকে আমার চোখের নিচে কালি পড়া অংশগুলো কিঞ্চিত নীল হয়ে আসে। কোরবানীর ঈদের সাথে মিশে গেছে আমার এই স্মৃতি। কি হয়েছিলো সেই ঈদে…..

বাড়িতে একটি গরু কোরবানী দেয়া হবে বলে ঠিক করা হলো। গরুটি বাড়িতে এলো যেদিন সেদিন আমাদের খুশির আর শেষ নেই। গরুকে ঘাস খাওয়ানো থেকে শুরু করে ওর মলমূত্র ত্যাগ করানো পর্যন্ত আমার ঘুম নেই। সেদিনও তাই করলাম। সন্ধ্যায় সব কাজ সেরে বাথরুমে গেলাম হাতমূখ ধুতে। আমার তখন বুকটাকে ঢাকবার জন্যে ফ্রকের উপর আলাদা একটা কাপড় বসানো হয়েছিলো।

এটাকে মা বলতো ডিজাইন কিন্তু আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছিলাম যে, পুরুষের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্যই মায়েরা এই ডিজাইনের আবিস্কার করেছে। সে যাই হোক, কল পাড়, কেউ নেই সেখানে। আমি একাই চাপছি আর হাতমুখ পরিস্কার করছি। হঠাৎ মনে হলো আমার পেছন থেকে কে যেন আমার বুকের উপর একটি হাত রেখেছে। তড়িৎ গতিতে সেই হাত সরিয়ে দিয়ে পেছন ফিরে দেখি আমাদের মসজিদের হুজুর। যার কাছে আমি কোরআন পড়ি। সে জাপটে ধরলো আমাকে। আমার ছোট্ট বুকটিতে প্রচণ্ড জোরে চাপ দিলো। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম। লোকটা আমার প্যান্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলো। আমি ধাক্কা মেরে সরে পরলাম আর সেটা করতে গিয়েই ছিটকে পড়লাম কলের উপর। আমার কপালের একাংশ কেটে গেলো। কিছু বুঝে উঠবার আগেই হারামজাদা তখন অনেকদূর চলে গেছে। কলপাড় খালি। আমার বোন ছুটে এসে আমাকে তুলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। তখন মাকে জানাতে ইচ্ছে করছিল, আলগা কাপড় দিয়ে বুকগুলো ঢেকে রাখলেও শয়তানদের চোখ সেই কাপড়ে আটকায় না।

ঈদের সকালে আমাদের গরুটা জবাই করলো ঐ হারামজাদা। সেবারের সেই গুরুর মাংস আমি খাইনি, খেতে পারিনি। অতোটুকুন বয়সে যে ঘৃণা আমার মনে জন্মেছিলো সেই ঘৃণাই ঐ গরুর মাংস খাওয়া থেকে আমাকে বিরত রেখেছিলো। আজও মনে পড়লে বুকের ব্যথাটা অনুভব করি। একটু বড় হবার পর মনে হতো মসজিদে ঢুকে ঐ লোকটির আচরণের কথা সকলকে জানিয়ে দেই।

আজানের মতো করে সকলকে বলি ওর কাছে কাউকে কোরআন পড়তে দিও না। ও যে নষ্ট মানুষ। ও যে পচা মানুষ, ও মানুষকে কি ঈমান শেখাবে???

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.