‘গ্যাস সংকটের কারণে সারাদেশে ২৩ লাখ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত’

gyas nai উইমেন চ্যাপ্টার (২৩ জুন) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেছেন, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের একটি পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় সারাদেশের ২৩ লাখ গৃহস্থালী গ্রাহকের অধিকাংশই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের গ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোর কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তিনি এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে বলেন, বিবিয়ানা ক্ষেত্রের গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্টের পাইপ লাইনের ‘কারিগরি’ ত্রুটি থেকে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারত, এই আশংকা থেকেই সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে, শনিবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় তীব্র গ্যাস সংকটে ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিদ্ধেশ্বরী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ঝিগাতলা, রামপুরাসহ আরো অনেক অঞ্চল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী গ্যাসের অভাবে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

বাসায় রান্না করতে না পেরে অনেকেই ভিড় করছে রেস্টুরেন্টে। কিন্তু অনেক রেস্টুরেন্ট গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকায় ফিরে গেছে অনেক মানুষ। কোন কোন রেস্টুরেন্ট গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করলেও সেটা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

সকালে গ্যাস না পাওয়ায় বাচ্চাদের না খাইয়েই স্কুলে পাঠাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা একজন অভিভাবক। স্কুল থেকে ফিরে কি খাবে সেটা নিয়েও দুশ্চিন্তা করছেন তিনি।

রামপুরার বাসিন্দা এক নারী উইমেন চ্যাপ্টারকে জানান, দুপুর হয়ে গেলো এখনো গ্যাস আসেনি। সবাই না খেয়ে আছে। রেস্টুরেন্টে গিয়েও খাবার পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঝিগাতলার শত শত মেসের হাজার হাজার ছাত্র গ্যাসের অভাবে রান্না না হওয়ায় প্রচণ্ড দুর্ভোগে পড়েছে। তারা ভিড় করছে রেস্টুরেন্টগুলোতে। দুপুর না হতেই রেস্টুরেন্টেও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। রেস্টুরেন্টের মালিকরা বলছেন, আগে কোনদিন এমন সংকটে তারা পড়েননি। এই আকস্মিকতার জন্য তাদের কোন ধরনের প্রস্তুতিও ছিল না। অনেক লোকজন খাবার কিনতে এলেও তারা তা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই এই সংকট ঠিক হয়ে যাবে বলে জানানো হলেও এখনও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি এলাকা গ্যাস পাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে গ্যাসের চাপ কম থাকায় তা দিয়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মিরপুরের একজন বাসিন্দা।
উদ্ভুত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিবিয়ানা ১-এর পাইপ লাইনে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে বিবিয়ানায় পাইপ লাইনে ত্রুটির কারণে গ্যাস সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে রাউজানের ক্ষমতার দুই নম্বর ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.