‘অপ্সরার দুধ মা ছিলাম আমি’

Opshora
হাসপাতালে ছোট্ট অপ্সরা

উইমেন চ্যাপ্টার: বাংলায় ‘দুধ মা’ বলে একটা শব্দ প্রচলিত আছে। অনেক শিশুকে নিজের মায়ের দুধ খাওয়ানো যায় না বিভিন্ন কারণে, তখন দুধ খাওয়াতে সক্ষম অন্য কোনো মা সেই শিশুকে এসে দুধ খাওয়ায়। আগেকার দিনে দুধ মা তৈরিই থাকতো রাজা-বাদশাদের প্রাসাদে। কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্রামে-গঞ্জে এই নিয়মটা প্রচলিত থাকলেও শহুরে জীবনে এমনটি সচরাচর চোখে পড়ে না। হয়তো ঘটে, কিন্তু সেই খবর কানে আসে কম।

সাংবাদিক ফাহমিদা মাহবুবের একটা ফেসবুক পোস্টে গতকাল চোখ আটকালো, গত বছরের একটি ঘটনার বিবরণ। বেশ মনকাড়া, আবেগপ্রবণ লেখা। মনে করিয়ে দেয়, না এতোসব অনুযোগের পরও কিছু মানুষ কোথাও না কোথাও ঠিকই আছে, যারা মানুষের বিপদে এগিয়ে যায়। গতবছর ফাহমিদাও ছুটে গিয়েছিল জীবনসংকটে থাকা এক অজানা শিশুকে দুধ খাওয়াতে। খুব ভালো লেগেছিল সেই সময়ে খবরটি শুনে। তাই এখানে শেয়ার দেয়া হলো উইমেন চ্যাপ্টারের পাঠকদের জন্য।

Auni
ফাহমিদা মাহবুব

ফাহমিদা মাহবুব: গত বছরের সেপ্টেম্বরের কোন একদিন ফেসবুকে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের একটা নিউজে চোখ, মন দুটোই আটকে গেল। বন্ধু মানসুরা হোসেইন এর  “দুধের জন্য কাঁদছে ছোট্ট অপ্সরা” রিপোর্টটা পড়েই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো।

এক মূহূর্ত দেরি না করে যোগাযোগ করলাম মানসুরার সাথে। টেলিফোনে কথা হলো অপ্সরার  বাবার সাথে।  সেইমতো পিজি হাসপাতালে গিয়ে দেখা পেলাম আমার ছোট্ট মেয়েটার। ওকে তখন নেয়া হয়েছে চোখ পরীক্ষার জন্য। হাসপাতালের বারান্দাতেই ওকে আমার কোলে তুলে দিলেন ওর দাদী।

কী মায়াকাড়া ছোট্ট একটা বাবু! এর আগে এতো ছোট বাচ্চা আমি কোলে নেইনি। আমার দুটো বাচ্চাই হয়েছে আট পাউন্ডের উপর, সেই তুলনার অপ্সরা তো এক ফোটা।

এর পরের কাহিনী  শুধুই মা-মেয়ের, পেটে না ধরেও মা হয়ে ওঠার। জানলাম অপ্সরার লুপাস আক্রান্ত মা তখনো চোখের দেখাও দেখেনি মেয়েটাকে। বুকে জড়িয়ে ধরে অপ্সরার সাথে কোন পার্থক্য পাইনি আমার মেয়ে আয়ানার। আমি ছাড়াও বেশ কজন মা অপ্সরাকে দুধ খাইয়েছে।  কিনতু শুধুমাত্র আমার কাছ থেকেই সে সরাসরি খেত। প্রিম্যাচিউর হবার কারণে একটু খেয়েই টায়ার্ড হয়ে বুকের মধ্যে ঘুমিয়ে যেত। মাঝে মাঝে আবার বড় বড় চোখ মেলে অবাক হয়ে দেখত।

যেদিন পিজিতে যেতে পারতাম না সেদিন আমার কাজের জায়গা এনটিভিতে এসে ফিডারে করে ওর জন্য খাবার নিয়ে যেত অপ্সরার বাবা কিংবা চাচা। ওর টেনে খাবার দৃশ্য দেখে বেশ আশান্বিত হয়ে উঠছিলেন ডাক্তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সময়ের অনেক আগেই পৃথিবীতে চলে আসায় নানা রকম সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ওকে বাঁচানো যায়নি।

অপ্সরাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তাই আমার ছোট্ট বাবুটাকে ঢাকা থেকে চলে যাবার পর আর দেখিনি আমি। আজ সকালে আমার ছোট্ট মেয়েটাকে আবার মনে করিয়ে দিল ফেসবুক। আমার কাছে থাকা অপ্সরার এটাই একমাত্র ছবি। ফিডিং এর পর এভাবেই আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো সে। হয়তো বড় বড় চোখে অব্যক্ত বেদনার কথা জানাতো।

যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস মামনি। আমি নিশ্চিত জানি অন্য কোন পৃথিবীতে আবারো দেখা হবে তোর সাথে। আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.