লেগিংস বনাম আধুনিক পুরুষ

Frida Kahloউম্মে ফারহানা মুমু: আজকে এক প্রথিতযশা (ইনার লেখা পড়ি নাই,তবে পড়ালেখা করে এমন বন্ধুদের কাছে নাম শুনছি। কাজেই ভারী একটা বিশেষণ ব্যবহার করলাম) লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস পইড়া টাশকি খাইলাম।

ভদ্র(!)লোক মেয়েদের পোশাক নিয়া মহা চিন্তিত। উনার মতে লেগিংস একটা ভেতরে পরার জিনিস। মেয়েরা এই জিনিস কেন বাইরে পরতেছে এই চিন্তায় এই সাহিত্যিকের ঘুম হারাম হইছে।

আমাদেরই এক আপা বলেন, নারীপ্রশ্ন হইলো অ্যাসিড টেস্ট। সবাই এটা পাশ করতে পারে না। আসলেই তাই। বড় বড় প্রগতিশীলও এই টেস্টে পাশ করতে পারে না। আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই ধরা খায়। এদের কাজকারবার দেইখা আমি সকাল বিকাল টাশকি খাই।

এদের দেখি আর আমার মাতামহ পিতামহ বাপ কাকা মামা ফুফা খালু আর যে যে আত্মীয়রা আমাদের পুর্বনারীদের জীবনে পুরুষ হিসাবে ছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জাগে।

তাঁরা হয়তো বাড়ি বাড়ি গিয়া যাচাই বাছাই কইরা মেয়ে দেইখা বিয়া করতেন, কিন্তু বৌ হইয়া গেলে তার দায়িত্বও নিতেন। তাঁরা হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতেন, কিন্তু রোজগার কইরা খাওয়াইতেনও। তাঁরা হয়তো রান্না খারাপ হইলে বাটি উড়ায় মিল্লা মারতেন, কিন্তু বাজারটা ঠিকই কইরা আনতেন।

আমাদের জেনারেশনের পুরুষদের এইসবের বালাই নাই। এরা বিরাট প্রগতিশীল, নারীবান্ধব। এরা মেয়ে দেইখা বিয়া করাকে ঘেন্না করবে, প্রেম করবে,লিভ টুগেদার করবে,এরা বৌ/প্রেমিকা/ফিয়াঁসে কে স্বাধীনতা দিবে(!),একলগে বইসা আড্ডা মারবে।বদলে দায়িত্ব নেওয়া থিকা শতহস্ত দূরে থাকবে।

এদের সঙ্গী হিসাবে পাইতে হইলে রাস্তায় একা দাঁড়াইয়া অপেক্ষা করতে জানতে হবে। এক জেলা থিকা অন্য জেলায় একা ভ্রমণ করতে জানতে হবে।দশজনের সামনে দশটা বিষয় নিয়া কথা বলতে জানতে হবে। নিজের চাকরির বেতনটা তুইলা বাসায় আসার পথে বাজারটা নিয়া আইসা রান্নাটা চাপায় দিয়া পরে কথা কইতে হবে। এবং এই পুরা প্রক্রিয়া হইতে হবে বিয়া করার আগেই।এদের কাছে বিয়াটিয়া হইলো ফালতু কাগজ।

প্রগতিশীল পুরুষ ঘুম দিয়া উইঠা অফিস/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত স্ত্রী/স্ঙ্গী/প্রেমিকাকে চা/নাশতা/ভাতের হুকুম দিবে আর রক্ষণশীলদের গুষ্টি উদ্ধার করবে। কিন্তু আবার মতের অমিল হইলে মাইরধোর করতেও ছাড়বে না।

ট্রাডিশনাল জেন্ডার রোলে নিজের দায়িত্ব নেওয়ার সময় হইলে সমতার দোহাই পারবে। আগায় দিতে হবে কেন/ পৌঁছায় দিতে হবে কেন জাতীয় প্রশ্ন তুইলা পিছলায় যাবে। সঙ্গী নারীকে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। মানুষ হিসাবেও,নারী হিসাবেও।

এই জেনারেশনের সাহিত্যিক যে লেগিংস নিয়া চিন্তিত থাকবে এ আর আশ্চর্য কী? তবু আমি সকাল বিকাল টাশকি খাই। টাশকি খাই আর ভাবি – আগে কত সুন্দর দিন কাটাইতাম!!!

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.