আমার না বলা গল্প-১২

Dress 2সুরঞ্জনা চৌধুরী: সেক্স মানুষের শরীরে থাকে, নাকি মনে? এ নিয়ে বেশ এক পশলা বিতর্ক হয়ে গেল আজ। মেয়েটি যতোই বলার চেষ্টা করে যে, সেক্স সম্পূর্ণই একটা মানসিক ক্রিয়া। আগে মন সায় দিতে হবে, মনকে প্রস্তুত করতে হবে, ততোই পুরুষটি তার এতোদিনকার ধ্যান-ধারণা থেকে বলতে থাকে যে, ‘জীবনের এতোগুলো বছর যেভাবে সেক্সকে শিখে এসেছি, দেখে এসেছি, তার বাইরে তো আমি কিছুই জানি না। এটা হচ্ছে নেহায়েতই অজুহাত মাত্র। আমার সাথে না শোয়ার বাহানা’।

মেয়েটি মরমে মরতে মরতে আবার ভেসে উঠে। চোখ তার উজ্জ্বল হয়, মনটাও চঞ্চল হয়ে উঠে।

সম্পর্কটা এভাবে তিক্ত হয়ে যাক, এটা সে চায় না। বলে, আগে আমাকে তৈরি করো, ইচ্ছা জাগাও, তারপর। এরপরের পর্ব অপেক্ষারই কেবল।

এ যাত্রা সম্পর্কটা হয়তো টিকে গেল, কিন্তু জীবনের বাকি কটা বছর কীভাবে কাটবে? মেয়েটি ভাবে।

মনে পড়ে যায়, বড় ভাই আর ভাবী বছরের আট মাসই কথা বলতো না। তাহলে কী তাদের সেক্স থেমে থাকতো? মোটেও না। মফস্বল শহরের বাড়িতে গাদাগাদি করে বসবাসের কারণে কোনকিছুই গোপন থাকতো না। রাতের নির্জনতায় সব প্রকাশ্য হয়ে যেত। আর যেত, সন্ধ্যায় ভাবীর হাত-মুখ ধুয়ে এসে ঘাড়ে-পিঠে-বুকে পাউডার মাখানো দেখেই। তখন ছোট ছিল বলে কখনই ভাবা হয়নি, এই সম্পর্কগুলোর মধ্যে ‘মন’ ‘নিজের ইচ্ছা’ বলে কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে। দিনের আলোতে যারা কথা বলে না, রাতের অন্ধকারে তারাই আবার মিলে যেতো দেহ-মনে। সূর্য উঠার সাথে সাথে আবার কথা বন্ধ। এ কেমন সম্পর্ক রে বাবা!

কলেজে উঠার পরই এক বন্ধুর বিয়ে হয়ে যায়। বরের বয়স ডাবলের চেয়েও বেশি। বিয়ের দিন বরকে দেখে বন্ধুদের কারোরই ভালো লাগেনি শুধুমাত্র বয়সের কারণে। কিন্তু ডাক্তার পাত্র হাতছাড়া করতে চাননি তিন মেয়ের ‘সিঙ্গেল মা’। বিয়ের কদিন পর সুযোগ বুঝে জিজ্ঞাসা করি, ‘বিয়েটা কেমন লাগেরে তোর?’ বরাবরই চাছাছোলা মুখের এই বন্ধুটির ঝটপট উত্তর, ‘ভীষণ বেগের পর টয়লেট হলে যেমন আরাম লাগে, সেক্সটাও তাই’। এই কথার আগামাথা কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি তখন। তবে সেক্সটা যে আনন্দের এবং আরামের, এটা বোঝা গেল বন্ধুর কথায়।

কিন্তু কোথায় সেই আনন্দ? জীবনভর মেয়েটি স্বপ্ন দেখে এসেছে মোমবাতির স্নিগ্ধ আলোয় মুখোমুখি বসবে দুজন, শরীরের সুন্দর সুগন্ধ একে-অপরকে মাতাল করবে, কথার মালা সাজিয়ে নিজেদের ওই সন্ধ্যায় বা রাতে মোহনীয় করে তুলবে, হয়তো কবিতা হবে, হয়তো বা গান, স্বপ্ন থাকবে উপচে পড়া, কিন্তু এর কোনটাই হয়নি ওর জীবনে। পুরুষ তাকে চেনেনি, তার মন চেনেনি, চিনেছে কেবল শরীর।

‘উঠ ছেরি, তোরে লাগাই’ টাইপের জীবনে চরম অস্বস্তি নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে সে, স্বপ্ন তার অধরাই থেকে গেছে। মনে পড়ে যায়, ওর এক বান্ধবী এসে বলেছিল, সেক্স হচ্ছে একটা আর্ট বা শিল্প, একে আস্তে আস্তে করে খুলে আনতে হয়। মনে মনে হাসে মেয়েটি। আর্ট, শিল্প! কোথায় পাবে সে এসব?

সূর্য অস্তমিত জীবনে এই শিল্পের দেখা আর মেলেনি। ধুমধাম, জোর-জবরদস্তি করে অর্গাজম বের হওয়াটাই তার জীবনে সেক্স হিসেবে এসেছে, সেখানে শিল্পের স্থান নেই, আর মোমের আলোও নেই। বিষন্ন মেয়েটি উদাস মনে তাকায় সামনে-পিছনে, কোথাও নেই সেই শিল্পের ছোঁয়া।

 

শেয়ার করুন:
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.