দুই ধর্ম কেন নয়?

220150902152653 (1)উম্মে রায়হানা: একইসঙ্গে কোরআন পাঠ ও মূর্তিপূজা করার ‘অপরাধে’ এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের মতে একই ব্যক্তি দুই ধর্মের অনুসারী হতে পারে না।

এক বাড়ীতে দুই ধর্মমতের অর্চনা হলে তা লোকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। এই দম্পতির পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসীর ভূমিকাও ছিলো। তবে খবরে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ‘দোষী’দের বিরুদ্ধে পুলিশের মতটাই ছাপা হয়েছে।

এ দেশে ভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার অধিকার রয়েছে। পরস্পরের ধর্মের প্রতি এবং নিজের ধর্মের প্রতি যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করে আবেদন করলে আদালত ভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষকে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়ে পরিবার গঠনের অনুমতি দেন। এই সমস্ত বিশেষ ধরনের পরিবারে সন্তানসন্ততিও জন্মায়। এই সন্তানদের ধর্ম তাহলে কী হবে?

এই সমস্যার সহজ সমাধানও রাষ্ট্রের কাছেই রয়েছে। চলমান পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পিতার ধর্মই সন্তানের ধর্ম। পিতাই পরম গুরু ও সন্তানের বৈধ,আইনানুগ অভিভাবক। মা কেবল লালনপালনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তার বেশি কিছুই নন।

কিন্তু মানুষের জীবন সবসময় আইন মেনে চলতে পারে না। যে কোন মানুষের কাছে পিতামহ-পিতামহীর মতন মাতামহ-মাতামহীও সমান প্রিয় ও পূজনীয় হয়। ফলে এই বিশেষ আইনে গঠিত পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে দুই ধর্মের প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক।

রাষ্ট্র ও প্রশাসন কি এই সমস্ত শিশুদের ওপরও নজরদারী করবে? পুলিশ আইনের রক্ষকমাত্র, জনগণের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা নয়। পুলিশের কী অধিকার আছে কারো ধর্ম চর্চায় হস্তক্ষেপ করার? দুই ধর্মের দুইজন মানুষ যদি এক বাড়ীতে থাকতে পারে, দুই ধর্মের দুই উপাস্য কেন থাকতে পারবে না?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.