আমি শুনেছি সে ‘ডেন্স’ করে

Sunny 3উইমেন চ্যাপ্টার: হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম, হুজুর সানি লিওন সম্পর্কে আপনি কি জানেন? কি শুনেছেন তার সম্পর্কে? টেলিফোনের ওপাশ থেকে জবাব এলো, “আমি শুনেছি সে ‘ডেন্স’ করে এবং মনমাতানো অনুষ্ঠানগুলো সে করে”।

কথা হচ্ছিল নারায়ণগঞ্জের সবচাইতে বড় মসজিদ ডিআইটি মসজিদের খতিব এবং হেফাজতে ইসলামী জেলা শাখার আমীর মাওলানা আবদুল আউয়ালের সঙ্গে। মাওলানা আউয়াল গতকালই (শুক্রবার) মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে ঘোষণা দেন, ‘বাংলার জমিনে কোনও নর্তকীকে বেলেল্লাপনা করতে দেয়া হবে না’।

কেন এই বক্তব্য দিলেন তিনি? কোথায় শুনলেন এ তথ্য? টেলিফোনে শুধাই তাকে।

“সে নায়িকা। তাকে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা মঞ্চ করবে। তাকে ‘ডেন্স’ করাবে, নাচাবে এবং তার দ্বারা কিছু দেহ ব্যবসা করাবে।  এগুলো বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে পেয়েছি তো, এজন্য এটার প্রতিবাদ জানিয়েছি”।

এবার খোঁজ লাগাই সানি লিওন বাংলাদেশে আসবেন এই খবরটি মিডিয়ায় কিভাবে এসেছে?

Sunny 4ঘাঁটাঘাঁটি করে যা পেলাম তাতে জানা যাচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে সানি লিওনকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করা হবে। সেখানে দর্শনীর বিনিময়ে দর্শকেরা যেতে পারবেন, সর্বনিম্ন টিকেট হবে পনেরো হাজার টাকা। ভেন্যু ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন হল। তবে কোনও খবরেই ‘বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চ করে ডেন্স করার’ বিস্তারিত পেলাম না। যদিও চলচ্চিত্রে যেহেতু সানি লিওন নাচেন-টাচেন, তাতে হয়তো এই অনুষ্ঠানে এসেও তিনি নাচবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু হুজুর কিভাবে জানলেন?

এই নিয়ে আরো একটু অনুসন্ধান চালাই। আসলেই কি বাংলাদেশে আসছেন সানি! নিয়মানুযায়ী কোনও বিদেশী শিল্পীকে বাংলাদেশে আনতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়।

নাহ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় লিখিত কোনও আবেদন পত্র পায়নি এখনো। ঢাকার পুলিশও কিচ্ছুটি জানে না। যদিও যেকোন ধরনের জমায়েত আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতি নেবারও বিধান রয়েছে।

যারা এ ধরনের অনুষ্ঠানের খবরাখবর রাখেন তারা বলছেন, বাংলাদেশে চারটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম সানি লিওনকে আনার চেষ্টা করছিল। তবে সবই আলাপ আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সানি লিওন এখনো কাউকে শিডিউলই দেননি।

Sunnyআরো পাকা খবর জানলাম এক ছোটবোন মারফত। ‘ক্যালাইডস্কোপ’ নামে একটি ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম, যেটির বাংলাদেশে একটি শাখা রয়েছে, সেটি একটি পরিকল্পনা করছিল সানি লিওনকে বাংলাদেশে আনার। কোনও কিছু চূড়ান্ত নয়। শুধুমাত্র পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার অংশ ছিল সম্ভাব্য সময়, স্থান এবং টিকেটের দাম। এগুলো তারা ঘোষণাও করেনি। কিন্তু সম্ভবত কোনও অতি উৎসাহী এই তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছে। আর ঘটনার সাথে যেহেতু সানি লিওনের নাম আছে, তাই এই নিউজ ছাপানোর ব্যাপারে পত্রিকাগুলোর উৎসাহেরও কোনও কমতি হয়নি।  এ সুযোগে সানি লিওনের কিছু ‘মনমাতানো’ ছবিও ছাপানো গেল।

যাই হোক, শেষ খবর হলো, হেফাজতের একটি জেলা শাখার দাবড়ানি খেয়ে ক্যালাইডস্কোপের লোকজন এখন পুরো আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে। এদের কাউকে কথা বলার জন্যও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ভেতরের খবর হচ্ছে, জরুরী মিটিং করে সানি লিওনকে বাংলাদেশে আনার ‘পরিকল্পনা’ বাদ দিয়েছে তারা।

কিন্তু এরই মধ্যে সানি লিওনকে বাংলাদেশে আনার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে ফেসবুকে অন্তত গোটা দশেক পেজ, গ্রুপ এবং ইভেন্ট চালু হয়ে গেছে। কমেন্ট আর স্ট্যাটাসে সয়লাব ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড, সাথে অবশ্যই সানি লিওনের ‘মনমাতানো’ ছবি। নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতারা যুদ্ধ ঘোষণা করে ফেলেছেন। প্রয়োজনে বিমানবন্দরে হামলা চালাতে প্রস্তুত আছেন তারা। আর চট্টগ্রামের শফি হুজুরের ঘনিষ্ঠ নেতা ইলিয়াস ওসমানী এই লেখককে টেলিফোনে জানাচ্ছেন, তারা ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। দু’একদিনের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয়ভাবেও একটি করণীয় ঘোষণা করবে।  

কানটা তাহলে চিলেই নিয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.