আপনারা-আমরা কবে জাগবো?

Kannaফারহানা আনন্দময়ী: প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়, ফেসবুকের হোমপেজে কত শত খবর চোখে পড়ছে… বেশিরভাগই নেতিবাচক। যতই আলো হাতড়ে বেড়াই না কেন, জীবনের অন্ধকারটুকুই যেন খামচে ধরতে চায়।

কখনো কোনো খবর এড়িয়ে যাই, কখনো বিষণ্ন হই, কখনো বা লজ্জিত হই নিজের কাছেই। গতকাল একটা খবরে চোখ আটকে গেল। পড়লাম, একবার, দু’বার… কয়েকবার। বুঝতে পারলাম শুধু চোখই নয়, আমার বোধটাও অসার হতে শুরু করেছে। ক্রোধ, নাকি ঘৃণা, না ক্ষোভ? নাকি বাচ্চাটার জন্য কষ্ট? হয়তো বা নিজের প্রতি গ্লানি? কোনটা?

যা পড়লাম, দেখলাম, তা নতুন কিছু নয়, অজানা নয়, পুরনো গল্প, আড়ালের গল্প… শুধু আঙ্গিকটা নতুন এবং অবিশ্বাস্যরকম ভয়াবহ। অনেকেরই কমবেশি পড়ার বা দেখার অভিজ্ঞতা আছে এই বর্বর বিকৃতির প্রসঙ্গে। সকলেই বিষয়টি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখি, শুনি, অল্প বিস্তর ভাবিও। কিন্তু কাজের কাজ কিছু করি না। তাতে কিন্তু আমাদের জীবনযাপনের জন্য আত্মিক অসুবিধে খুব একটা হয় না, কিছু সময়ের জন্য শুধু বুকের ভেতরে অনাত্মীয় শিশুটির জন্য হাহাকার জেগে ওঠা ছাড়া।

শিশু রাকিবকে বলি, তোমাদের জন্যে বাসযোগ্য একটা নিরাপদ পৃথিবী দিতে না পারার অক্ষমতার জন্যে আমাদেরকে ক্ষমা করো।

আর দানবরূপী মানুষদের বলছি, একটু মানুষ হোন, এবারের মত রেহাই দিন আমাদের শিশু সন্তানদের।

প্রিয় কবি শংখ ঘোষ’এর সঙ্গে একমত হতেই হয়।
“…আমাদের প্রতিবাদগুলি তাকে ঘিরে খেলা করে
রঙ ছোড়ে, নাচে
আর ঘটনাগুলি ঘটতে থাকে
আর আমাদের প্রতিবাদগুলি খেলা করে
আমরা গুমরোই, গান গাই
আমরা কথা বলি, পিঁপড়ে হয়ে এগোই
যা ঘটবার তা ঘটতে থাকে
আমরা প্রতিবাদ করি
করতে করতে ঘুমোই
ঘুমোতে ঘুমোতে কথা বলি
যা ঘটবার ঘটতে থাকে
ঘটতে থাকে।“

মানুষ জাগো, ভেতরের মানুষটাকে জাগান,
এই নির্মমতার ভিডিও ক্লিপ নেই ব’লে কি আমরা ঘুমের ঘোরেই থাকবো ?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.