যেমন হওয়া চাই সাংবাদিক নেতা

Ethics 3সেবিকা দেবনাথ: ঘটনাটা কয়েকদিন আগের। সাংবাদিক সংগঠনের এক নেতার সাথে দেখা প্রেসক্লাবে। সামনা-সামনি পড়ে যাওয়ায় আদাব সালাম দিলাম। হেসে জানতে চাইলেন কেমন আছি, এখনও সংবাদে আছি নাকি।উত্তরে জানালাম, ভাল আছি। সংবাদেই আছি। এতটুকু পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল।

নেতার পরের কয়েকটা প্রশ্নই বেশ অপমানজনক মনে হলো আমার। সংবাদেই আছি বলার পর উনি বললেন, ‘সংবাদে বেতন হয়?’ ‘ওয়েজবোর্ড দেয় সংবাদ’? ‘তুমি এখনো সংবাদে পড়ে আছ কেন? হাউজ চেঞ্জ কর।’

ঠোঁট উল্টে আফসোসের সুরে বললেন, ‘সংবাদ তো আর আগের মতো নাই। ওটা এখন পাঠশালা।’ মনে মনে বললাম সবই যদি জানেন তাহলে আর এসব প্রশ্ন কেন?

এবার আসি তাকে দেয়া আমর উত্তরে। বললাম, ‘ভাই আপনি নেতা মানুষ সব খবরই জানেন। আমার থেকে বেশি খবরই জানেন।’ উনি হাসলেন। আমি বলতে লাগলাম, টাকার অংকটা খুব বড় না হলেও সংবাদ বেতন দেয়। ওয়েজবোর্ডও দেয় কয়েকজনকে। নিজের স্বার্থেই সংবাদে পড়ে আছি। ভাল রিপোর্টার হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারিনি তাই অন্য কোথাও যাওয়া হয় না। কথাগুলো বলে ঊনাকে বললাম, ভাই অ্যাসাইনমেন্ট আছে। যাই।

কোন হাউজ কর্মীদের কত বেতন দেয়, কোন হাউজ পুরোপুরি ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে, কোন হাউজ পাঠশালা, কোনটা বিশ্ববিদ্যালয় তা নেতারা অবশ্যই জানেন। না জেনে থাকলে নির্বাচনে জিতলেও নেতার গুণাবলী তার মধ্যে নাই। আমি অন্তত তা-ই মনে করি। চড়ুই পাখির মতো তিড়িং বিড়িং করার চেয়ে কোন পাঠশালাতেই স্থির হয়ে থাকার পক্ষে আমি।

আর হাউজ চেঞ্জের পরামর্শ দেয়‍ার চেয়ে, অন্যায় ভাবে কারও চাকরি চলে গেলে মালিকের কাছে এর জন্য কৈফিয়ত চাওয়‍া, বেকারদের চাকরির সংস্থান করে দেয়‍া, গণহারে কর্মী ছাঁটাই হলে মানববন্ধন আর বিবৃতির মধ্যে আটকে না থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়াই বোধ হয় নেতাগিরি। অন্তত আমার মতো চুনোপুঁটির তা-ই মনে হয়।

বিঃদ্রঃ লেখাটা অবশ্যই সব নেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।………

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.