থ্রি-হুইলার বন্ধ: মানুষপুর কতদূরে?

3 Wheelersমাহা মির্জা: মহাসড়কে সকল প্রকার থ্রি হুইলার নিষিদ্ধ হওয়ায় এক শ্রেণী খুব খুশি। এই দেশের গণপরিবহনের অভিজ্ঞতা-বিহীন প্রিভিলেজড শ্রেণীর মধ্যে রাষ্ট্র নির্মিত রাস্তাঘাট এবং মহাসড়কের প্রতি বরাবরই এক ধরনের ‘সেন্স অফ এনটাইটেলমেন্ট’ কাজ করে। প্রাইভেট কারে চড়লে রিক্সায় চড়া মানুষ এবং পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়া মানুষ জনকে কিলবিলে তেলাপোকার মতো লাগে, মনে হয় বাঁদরের মত রাস্তা পার হওয়া মানুষগুলোই পৃথিবীর সব সমস্যার মূলে।

প্রযুক্তি-উন্নত দেশগুলো যখন ফসিল ফুয়েল মুক্ত পরিবেশ বান্ধব বাইসাইকেল আর থ্রি-হুইলার ভিত্তিক টাউনশিপের দিকে ঝুঁকছে, তখন সেকেন্ড-হ্যান্ড ইমপোর্টেড গাড়ির ভাগাড় এই ঢাকা শহরে প্রায়ই শুনি ‘রিক্সা উঠিয়ে দেয়া হোক’ ধরনের দম্ভোক্তি। তবে সেটা অন্য প্রসঙ্গ।

স্টেট নির্মিত হাইওয়ে নামক অবকাঠামোটির মালিক জনগণ। অলিপুর গ্রাম থেকে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সদরে গিয়ে ডাক্তার দেখান যে অন্ত:সত্ত্বা নারী অথবা আশি বছরের বৃদ্ধ (তার বাড়ির কাছে হাইওয়ের বাস থামে না) মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধ হলে তিনি সদর হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাবেন কেমন করে? জবাব দেন কেউ।

আপনার-আমার প্রিভিলেজ নিশ্চিত করতে, বাস ট্রাকের রেকলেস ড্রাইভিং নিশ্চিত করতে, কাদা মাটির রাস্তা পাড়ি দিয়ে গরুর গাড়িতে দশ দুনিয়া ঘুরে গন্তব্যে যাবেন তারা?

তিন চাকার ভ্যান গাড়ি চালান যিনি এবং ভ্যান গাড়িতে চড়েন যারা, এরা সবাই এই দেশের নাগরিক। বিকল্প লেনের ব্যবস্থা না করে, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা না করে, মহাসড়ক থেকে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে উচ্ছেদ করার ঘোষণা, মাস পিপলের সঙ্গে সরকারের বাড়তে থাকা দূরত্বের আরেকটি নজির।

৩. হাই স্পিডের মহাসড়কে স্বল্পগতির তিন চাকার যানবাহন চলাচল বিপদজনক সন্দেহ নেই। গতির তারতম্যের জন্যে দুর্ঘটনাও ঘটে প্রচুর। কিন্তু লাগামহীন ড্রাইভিং-এর কারণে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রতিবছর হাজারে হাজারে মানুষ মরে। বাসের ধাক্কায়, ট্রাকের ধাক্কায় প্রাইভেট কার উল্টিয়ে মানুষ মরে। তাই বলে মহাসড়কে গ্রিন লাইন, হানিফ, টয়োটা, নিসান, প্রাডো চলাচল বন্ধ করে দেয়া যায়?

৪. থ্রি হুইলার চালকেরা আজ দিনভর রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, যারা বিক্ষোভ করছেন, তারা কেন বিক্ষোভ করছেন তিনি সত্যি বুঝতে পারছেন না। বুঝতে পারতেন যদি ফুলপুর গ্রাম থেকে প্রতিদিন পা ঝুলিয়ে ভ্যান গাড়িতে করে সদরে যাওয়া শত শত মানুষের সঙ্গে কখনো কথা বলতেন। বুঝতে পারতেন যদি পেটে লাথি পরা ভ্যানগাড়িওয়ালা দুখু মিয়ার সঙ্গে আলাপ করতেন। বুঝতে পারেননি কারণ সচিবালয় থেকে মানুষপুর অনেক দূর।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.