পেটানো!

0

Genderতানিয়া মোর্শেদ: শিশুদের চড়-থাপ্পর মারা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার বাংলাদেশে। বাবা-মা থেকে শুরু করে শিক্ষক, এমনকি আত্মীয়-স্বজনরাও মারতে পারেন! আর শিশু যদি হয় নিম্নবিত্ত পরিবারের, তাহলে তাকে যে কেউ চড় কেন, যে কোনোভাবেই মারতে পারেন! কেউ বাধা দেবার নেই।

না মারলে “শাসন” করা যায় না কি? শাসন না করলে “মানুষ” হবে কি করে ইত্যাদি চিন্তা এখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত। আর “চুরির” অভিযোগে যে কেউ যে কোনো বয়সের পুরুষ বা নারীকে পেটাতে  পারেন, পিটিয়ে মেরেও ফেলতে পারেন!

পকেট মারের কথা বলে কত যে হত্যা ঘটে তার হিসেব কে রাখে! চোর, ডাকাত সন্দেহে কতজন খুন হয়েছেন তা কে জানে! আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াতে “সাধারণ” মানুষদের এ ব্যাপারে একটুও দ্বিধা নেই!

বলতে ইচ্ছে করে, এতই যদি সাহস এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ তবে যারা দেশের সম্পদ চুরি, ডাকাতি করে চলেছে তাদের দু’ একটিকে না হয় কয়েকটা চড় থাপ্পর মেরে আসুন না কেন?

নিজের সন্তান, গৃহকর্মী, স্পাউস, সমাজের নিম্নবিত্তের যে কোনো মানুষ, পকেটমার, চোর, ডাকাত, কুকুর, বিড়াল, পাখী, অন্যান্য প্রাণী পেটানোর, হত্যার জন্য ক’জন সামান্য শাস্তিও পেয়েছেন? সমাজের এই ধারা দেখে যে শিশুরা বেড়ে ওঠে, তারাও একদিন পেটানো শুরু করে। এভাবেই চলতে থাকে “পেটানোর” এক চক্র।

অনেক উচ্চ শিক্ষিত বাবা-মা বলে থাকেন, “বাচ্চাদের মারা যাবে না!” আর উন্নত সমাজের শিশু অধিকারের বিষয়ে তো অনেকেরই নেতিবাচক ভাব! শিশু স্কুলে বা অন্য কাউকে যদি বলে দেয় বাড়িতে তাকে মারা হয় তাহলে চাইল্ড প্রটেকশন সংস্থা সন্তানকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। অনেক বাংলাদেশীর কাছে এটি বাড়াবাড়ি!

পেটানো সমাজে বেড়ে উঠা শিশুর অধিকারে পুরোপুরি বিশ্বাসী অনেক বাংলাদেশীই হতে পারেন না। ফেইসবুকে যে ভিডিওটি ঘুরছে (এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সম্ভবত রাজন নাম) তা কেন এবং কীভাবে মানুষ দেখছেন তা বুঝতে আমি অক্ষম।

এটুকুই শুধু বলি, হত্যাকারীদের যেন ছাড় দেওয়া না হয়, দ্রুত সময়ে বিচার ও শাস্তি যেন হয় সে ব্যাপারে যদি কিছু করতে পারেন, করেন। একটি কিশোরের এমন করুণ মৃত্যু দৃশ্য স্বেচ্ছায় দেখা সুস্থতার লক্ষণ কি!

রাজন, তুমি আমায় আবারো মনে করিয়ে দিয়েছো, গর্বিত হবার মত কোনো জাতিতে আমি জন্মাইনি!

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৮৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.