অবিবাহিত মায়েদের আরেক ধাপ জয়

Nodiউইমেন চ্যাপ্টার: নারী অধিকার আদায়ে আরও একধাপ সূচিত হলো ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে। দেশটিতে অবিবাহিত মায়েরাই এখন থেকে সন্তানের অভিভাবকত্ব পাবেন। এজন্য বাবার সম্মতি, এমনকি বাবার নাম প্রকাশেরও কোনো প্রয়োজন নেই। এই রায়ের মধ্য দিয়ে এতোদিন ধরে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল, তা আপাত দূর হচ্ছে বলেই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। নারী অধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

খবরে জানা যায়, সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একজন অবিবাহিত নারী আবেদন করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল তাঁর সন্তানের বাবাকে তিনি বিয়েই করেননি এবং তাঁর সন্তানের বাবা ওই সন্তানের কথা জানেন্নও । সেক্ষেত্রে সন্তানের অভিভাবকত্ব এককভাবে তাঁকেই দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে দিল্লির ট্রায়াল কোর্ট ও দিল্লি হাইকোর্ট ওই আবেদনের বিরুদ্ধে রায় দেয়। সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে হলে বাবার নাম প্রকাশ করে তার সম্মতির প্রয়োজন আছে বলে ও্ই আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরবর্তীতে ২০১১ সালে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেন তিনি।

তাঁর যুক্তি ছিল, পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পিতৃ পরিচয় জরুরি না হলে সন্তানের অভিভাবকত্বে মায়ের অধিকার কেন স্বীকৃত হবে না? এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ভারতের সুপ্রিমকোর্ট দিল্লি ট্রায়াল কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেয় এবং জানায় যে, এখন থেকে পিতৃ পরিচয় ছাড়াই অবিবাহিত মায়েরাও সন্তানের অভিভাবক হতে পারবেন।

বাংলাদেশেও নারী অধিকার কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও এরকম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। একজন আন্দোলন কর্মী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ এই দেশে বিবাহিত মায়েরা সমস্ত নেতিবাচকতা মোকাবেলা করে বাবার সাপোর্ট ছাড়া সন্তান বড় করলেও সন্তানের বৈধ অভিভাবক হতে পারেন না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের এজন্য হয়রানির শিকার হতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।’

অপর একজন লিখেছেন তার প্রতিক্রিয়ায়- আজ থেকে ভারতে আর কোন জারজ সন্তান নেই!
ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আজ এ্ক যুগান্তর কারী রায় প্রদান করেন । কুমারী মাতা ও তার সন্তান রাষ্ট্রের অন্যান্য নাগরিকের মত সকল মৌলিক অধিকারের আইন গত স্বীকৃতি লাভ করেছে। এমনকি কুমারী মাতাকে সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য বল প্রয়োগ ও করতে পারবেনা। অর্থাৎ সন্তান তার মাতৃ পরিচয়েই বড় হতে পারে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ভারতের আদালতও জন কল্যাণে সংস্কারের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ একই সময়ে সৃষ্টি হওয়া আরেকটি দেশ যাকে আমরা ফাকিস্তান বলে উপহাস করি, সেখানে এখনো হিন্দু বিয়ের কোন আইনি অধিকার নেই। কুমারী মাতা হবার চিন্তা তো সেখানে একটা ভয়ংকর দু.স্বপ্ন।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.