সমস্যাটা তো দেখায় আর মনে

women 7আমিনুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়ায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশের এশিয়ান টিভির সাংবাদিক মোঃ সোহেল রহমানের ২০ হাজার ডলার জরিমানা কিংবা প্রায় ছয় মাসের মতো জেল হয়েছে! এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে এইবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার সময় তিনি যে হোটেলে থাকছিলেন, সেখানে এক কানাডীয় ছাত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন।

এই বাংলাদেশি সাংবাদিক যে হোটেলে থাকছিলেন সেটা ছিল “‘ব্যাকপেকার” টাইপ। কমদামি এই হোটেলগুলো মূলত পর্যটকদের পছন্দ। বহুতল শয্যার এসব হোটেলের কক্ষে একসঙ্গে পুরুষ-নারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি।

একবার স্পেনে গিয়ে “ব্যাকপ্যাক” হোটেলে ছিলাম। তখনো আমি ছাত্র। টাকা পয়সা কম তাই এই ধরনের হোটেলে উঠা। যেহেতু এই সব হোটেল গুলোতে কেবল শোয়ার ব্যবস্থাই থাকে এবং খাট গুলো থাকে উপর-নিচ করে; তাই এক রুমে বেশ কিছু খাট থাকে। তো, আমার খাট ছিল উপরে আর নিচে ছিল এক বিদেশি মেয়ের খাট। পুরো রুমেই এই অবস্থা। আর ইউরোপে যেমনটা হয় আরকি। যেই সময়টায় আমি স্পেনে ঘুরতে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে সামার চলছিলো। আর ওদের গরম কালে ছেলে মেয়েরা বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় অর্ধ নগ্ন হয়েই ঘুরে বেড়ায়। আর হোটেলে ফিরলে তো প্রায় নগ্ন হয়েই থাকার অবস্থা!

আমি যখন রাতে হোটেলে ফিরলাম, দেখি আমার নিচের খাটে যেই মেয়েটি শুয়ে আছে, প্রায় অর্ধ নগ্ন হয়েই শুয়ে আছে। আশপাশের খাট গুলোতেও দেখি একই অবস্থা। ছেলেরা মেয়েরা সবাই প্রায় অর্ধ নগ্ন অবস্থায় শুয়ে আছে। অবাক হয়ে খেয়াল করে দেখলাম মেয়েরা এমন নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে রুমে, কিন্তু একই রুমে পুরুষদের দেখে মনে হলো না তাঁরা খুবই উত্তেজিত। বরং যা কিছু উত্তেজনা মনে হয় আমারই ছিল। বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই সবে অভ্যস্ত হওয়ার কথা নয়। তবে যে চারদিন ছিলাম ঠিক মানিয়ে নিয়েছি।

এই রকম একটা হোটেলেই হয়তো বাংলাদেশি ওই স্পোর্টস সাংবাদিক থাকছিলেন। যেহেতু ছেলে-মেয়েরা একই রুমে থাকে এমন হোটেলে, আর প্রায় অর্ধ নগ্ন হয়েই শুয়ে থাকে, তাই হয়তো আমাদের ওই সাংবাদিক কানাডীয় ওই ছাত্রীটির সাথে ঘুমন্ত অবস্থায় হালকা দুষ্টামি করছিলেন। এরা তো বাংলাদেশে বোরখা পড়া মেয়েদের সাথেই দুষ্টামি করাকে নিজের সম্পত্তি মনে করে, আর ওই দেশে তো জামা কাপড় অর্ধেক পড়া মেয়ে!

একজন বাংলাদেশি যখন বিদেশে যায়, তখন সে আর কেবল একজন ব্যক্তি থাকে না; সে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই সাংবাদিক অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যেই কাজটা করলো এতে করে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজসহ পুরো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

অথচ ওই সংবাদিক এতো দিন ধরে বলে আসছিলেন তিনি নাকি পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছেন তাই দেশে আসতে পারছেন না! একে তো যৌন হয়রানি করে অন্যায় করেছেন, এর পর জেলে থেকেও মিথ্যে বলে জানিয়েছিলেন পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ায় তিনি আটকা পড়েছেন। নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো মনে হচ্ছে প্রতিবার দেশ ছাড়ার সময় এদের হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়া দরকার।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.