স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং জরায়ু মুখের ক্যান্সার

Napkinসাইফুল ইসলাম রাসেল: জরায়ু মুখের ক্যান্সার এ দেশের নারীদের অত্যন্ত কমন এক সমস্যার নাম। অথচ অনেকেই জানে না যে, পিরিয়ডের সময় ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন জরায়ু মুখের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে!

আর এই স্যানিটারি ন্যাপকিনই অতি প্রয়োজনীয় উপাদান একজন নারীর। একজন মা তার পূর্ণাঙ্গ জীবদ্দশায় আনুমানিক পনের হাজার পিস স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে থাকেন। তাই এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য ।

এখন দেখি এটা তৈরিতে কী কী ব্যবহার করে থাকে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলো-

ডাইঅক্সিন: এই ডাই

অক্সিন হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পদার্থ। এটা পারসিস্টেন্ট অর্গানিক পলুট্যান্ট গ্রুপ এর অন্তর্ভুক্ত। মূলত এটা ক্যামিকেল্লি পলিক্লোরিনেটেড ডাই

বেনজো পি ডাই অক্সিন (PCDD)। এটা অত্যন্ত টক্সিক এবং ইহা শরীরে এক্সপোজ হবার পরে অনেক দিন থেকে যায়,এমন কি

২০ বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে আর তৈরি করে নানা অসুখ,বিসুখ।

ডাই অক্সিন কী কী অসুখ তৈরি করে – এটা জরায়ু মুখের ক্যান্সার করতে পারে,আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করতে পারে,এন্ডোমেট্রাইটিস­ তথা নানা ইনফেকশান বিশেষ করে ফাঙ্গাল ইনফেকশান করতে পারে। তাছাড়া আপনার মাধ্যমে আপনার স্বামীর শরীরে যেতে পারে ফলে তার প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ডাই অক্সিন কেনো স্যানিটারি ন্যাপকিনে কোম্পানিগুলো ব্যবহার করে – এটা একটা ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, যার ফলে ন্যাপকিন এবং ট্যাম্পোনগুলো চকচকে সাদা হয়ে যায়, তাতে করে ক্রেতারা খুব সহজেই প্রলুব্ধ হয়। ডাইঅক্সিন ছাড়াও এ গোত্রের আরেকটি বস্তু ব্যবহার করে যা ফুরান নামে পরিচিত। এছাড়া রায়ান নামে আরেকটি ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করে থাকে কেউ কেউ।

সেলুলোজ জেল: অনেক স্যানিটারি ন্যাপকিন এ সেলুলোজ জেল থাকে, যার ফলে ইনফেকশান হয় অনেক রকম এবং এই সেলুলোজ জেল এর কারণে জরায়ু মুখের ক্যান্সার হতে পারে।

প্লাস্টিক: লিকুইড ফ্লো যাতে বাইরে ছড়িয়ে যেতে না পারে তাই অনেকে এর ভেতর প্লাস্টিক দেয় ইমপারমিয়েবল মেমব্রেন হিশেবে। ফলে ওখানে আলো বাতাস কিছুই যেতেই পারেনা। তখন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় খুব সহজেই কারন ব্যাকটেরিয়া এই পরিবেশে উন্মদ হয়ে যায়।

এসবোসটেস: কিছু কিছু কোম্পানি খুব চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়,তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন খুব দ্রুত শেডিং প্রোডাক্ট শুষে নেয়।

কিন্তু কীভাবে? তারা এসবোসটেস ব্যবহার করে তাতে। এসবোসটেস ব্লিডিং এবং ডিসচার্জ ইনডিউস করে। ফলে ব্লিডিং বেশি হবে, স্বাভাবিকভাবেই ন্যাপকিন বেশি কিনবে আর কোম্পানির পকেট ভারি হবে। এ ছাড়া লং টাইম ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিনগুলো রক্তকে জেল এ পরিণত করে। কিন্তু সমস্যা হলো পাঁচ ঘণ্টা যাবার পর সেখানে ফাঙ্গাল ইনফেকশান শুরু হয়ে যায় ।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর রিপোর্ট অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৮০% নারী গাইনিকোলজিক্যাল অসুখ বিসুখে ভোগে। তার মধ্যে ৬৩% ই ভোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন এর সঠিক ব্যবহার না করা এবং লো কোয়ালিটির স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের কারণে।

আপনার করণীয় কী:

১/ স্যানেটারি ন্যাপকিন ব্যাবহারের আগে সেটার কোয়ালিটি জেনে নিন,সবচেয়ে ভাল হয় আপনার বা আপনার সন্তানের জন্য শুরুটা হউক কোনো ভাল একজন গাইনিকোলজিস্ট এর পরামর্শ নিয়ে।

২/ দ্রুত ন্যাপকিন পরিবর্তন করুন,৩/৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর।

৩/ তুলার তৈরি/কটনের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

৪/ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন

৫/ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন নিন (স্কুল গোয়িং এইজে) …

একটি দেশ সমান তালে এগিয়ে যাবার প্রধান কারণ হলো নারী – পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য। তাই নারী স্বাস্থের প্রতি যত্ম নিন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসুন। আপনার সুস্বাস্থ্যই আমাদের কাম্য।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.