এ মেয়ে তুই বের হোস কেন?

Draupodi 1ফেরদৌসি রিতা: তোকে না বলেছি তুই বাইরে বের হবি না। তোকে না বলেছি তোর মাথায় সব সময়ের জন্যে এক গজ কাপড় পেঁচিয়ে রাখবি। তোকে না বলেছি তুই যখন-তখন শাড়ি পরবি না। আমার যে অসুবিধা হয়। তোর চেহারা, শরীর আমাকে টানে। তোর চুল আমার ভেতরে চুলকানি তোলে। তোর শাড়ি পরা দেখলে আমার পুরুষাঙ্গ দাঁড়িয়ে যায়। আমি আর নিজেকে সামলাতে পারি না। তাইতো যেখানে-সেখানে আমার তোদেরকে এভাবে ভেজাতে ইচ্ছে জাগে।

তোকে হাজারো বার বলেছি, আমি যখন দোকানে যাবো তুই আমার সামনে আসবি না। আমি যখন মেলায় যাবো, তুই আমার পাশ দিয়ে হাঁটবি না। আমি যখন কাজ শেষে ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরবো, তুইও তোর কাজে ট্রাকে উঠবি না। তোর প্রথম শ্রেণীতে পড়া মেয়েটির কথা বলেছি, ওকে আমার কাছ থেকে দূরে রাখবি। ওকে স্কুলে পাঠানোর দরকার নেই। কারণ সেই স্কুলেই তো আমি ক্যান্টিনে কাজ করি। তোর মেয়েকে দেখে আমার টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতে মন চায়।

তুই কেন বুঝিস না রে? এই সোজা কথাটা কেনো বুঝিস না? তোরা ঘরের ভেতরে বন্দি থাকলে তো আমরা আর তোদের কাছে যেতে পারতাম না, আর আমাদেরও এতো জোর করে তোদের শরীর ভোগ করতে হতো না। আমরা সকলে আমাদের বাড়ির ভেতরে বউ, মেয়ে সন্তান, বোন, মা, দাদী, নানীকে সব সময় ধর্ষণ করতাম। আমাদের আর কেউ দায়ী করতো না। আমাদের জন্যে তোদের রাস্তায় নামতে হতো না। কারণ আমরা তখন বলতাম যে, তোরা আমাদেরই সম্পত্তি।

হ্যাঁ এই রাষ্ট্রও তাই মনে করছে। এই রাষ্ট্র ইনিয়ে-বিনিয়ে আমাদের বলতে চাচ্ছে, আমরা ঘর বন্দি এখনো হচ্ছি না কেন? আমাদের মাথায় কাপড় নেই কেন? আমাদের মগজে এতো প্রতিবাদ কেনো? কি হয় একটু হাত দিলে? কি হয় একটু দুষ্টুমি করলে? কি হয় তার উত্তর আমাদের জানা আছে।

কি হয় এর উত্তরে আমি  বলবো,  হ্যাঁ বন্ধু আমার কিছু হয়। আমার অমতে আমার শরীর কেউ ছুঁয়ে দিলে আমার ঘেন্না হয়। আমি যখন প্রিপারেটরি স্কুলের বাচ্চাটির মনের কথা পড়তে পারি, তখন আমার এই সমাজের সেই পুরুষদের দুই পা ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে হয়। আমি যখন গারো মেয়েটির আর্তচিৎকার শুনতে পাই, তখন আমার এসিড দিয়ে ওদের পুরুষাঙ্গ জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়। আমি যখন বাসের মধ্যে সেই মেয়েটার আকুতির কথা মনে করি, তখন আমার সেই পুরুষদের পুরুষাঙ্গ ইট দিয়ে থেঁতলে দিতে ইচ্ছে হয়।

আর নয়, আর ঘরে বসে থাকা নয়। বেরিয়ে আসুন সবাই। ওরা আমাদের ঘর বন্দি করতে চাচ্ছে আর আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেই আসুন ওদের মুখোমুখি দাঁড়াই। মিছিলে পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে নয়, মিছিলে যোগ দিয়েই এই সমাধান করতে হবে। তৈরী হতে হবে এই বাংলার সকল নারীকে, আর কিছু হাত তো তৈরী আছেই, চলুন না সেই হাতে হাত মেলাই সকলে।

আর সমন্বরে বলি, তোরা যতই বের হতে মানা করিস, রাস্তায় আমাদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়বেই……….

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.