যাদের জন্য প্রযোজ্য-৫:  হিজাব পরার উপকারিতা!

Sina Akhter
সীনা আক্তার

ড. সীনা আক্তার: গ্রামে গঞ্জে বিশাল আয়োজন করে মাইকে ওয়াজ করা বা ধর্ম প্রচার আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ। এইসব ওয়াজে আদর্শ নারীর নমুনা, নারীর পোষাক-পরিচ্ছদ এবং নারী-পুরুষের সম্পর্ক মনে হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় আলোচনার বিষয়! ধর্ম প্রচারে নারীর বিষয় থাকতেই হবে!  কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপার বলে কথা!!

যাইহোক, সবচেয়ে আলোচিত ওয়াজ সম্ভবত, নারীর পোষাক-পরিচ্ছদের সমালোচনা এবং হিজাবহীন নারীকে খোসা ছাড়ানো ‘কলা, কাঠাল’ এর সাথে তুলনা করা। যুগ পাল্টেছে,  গ্রামে-গঞ্জে এখনো এ ধরনের ওয়াজ হয় কি না জানিনা। কিন্তু ধর্ম প্রচারতো বন্ধ করা যায় না!  এই ডিজিটাল যুগে এখন ওয়াজ করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কয়েকটা নমুনা দিচ্ছি:

১. এক পুরুষ ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প বানায় যেমন: তরুন-তরুনীদের কাছে আইপ্যাড মূল্যবান এবং কাংখিত। এই মূল্যবান আইপ্যাড কেনার সময় আপেল কম্পানী নাকি পরামর্শ দেয় আইপ্যাড যত্ন করে রাখতে এর জন্য একটা আচ্ছাদন দরকার। তরুনীরা মুল্যবান প্রিয় আইপ্যাডকে অতি যত্নে রাখতে বাড়তি টাকা খরচ করে আচ্ছাদন কিনতে কুন্ঠাবোধ করে না। তো আইপ্যাডের চেয়ে অনেক বেশী মুল্যবান  সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত তরুনীর সৌন্দর্য। সেই সৌন্দর্যকে যত্নে রাখতে আচ্ছাদন বা হিজাব পরিধান কেন নয়! …

২. এবার এক নারী ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প লেখে, স্বর্ণের অলংকার নারীর কাছে অতি মূল্যবান এবং কাংখিত। এই মূল‍্যবান প্রিয় অলংকারকে প্রায় সকল নারী অতি যত্নে গোপন করে রাখে। এতে প্রিয় অলংকার নিরাপদ থাকে, বাইরের ধুলা-বালিতে নষ্ট হয় না। প্রিয় অলংকার যদি যত্ন নিরাপত্তার জন্য মানুষের চোখের আড়ালে রাখা যায় তাহলে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত নারীর মহামূল্যবান সৌন্দর্য কেন মানুষের চোখের আড়ালে রাখা হবে না!!…

”জড় পদার্থ” আইপ্যাড এবং স্বর্ণের অলংকার এর সাথে রক্তে মাংসে তৈরী মানুষের তুলনা! যেমন আগে দেয়া হতো ”খাদ্য” কলা-কাঠালের সাথে!! মুখোমুখি পরিবেশেও অনেকে অভিনব যুক্তির পক্ষে মুখর। একবার এক মা তার কিশোরী মেয়ের আচরণ নিয়ে পেরেসানির কথা বলছিলেন। সমস্যা কি? সমস্যা হচ্ছে অতি গড়ম আবহাওয়ায় মেয়ে হিজাব পড়তে অস্বিকৃতি জানিয়েছে কিন্তু মা তা মানতে নারাজ। বিষয়টা স্পর্শকাতর বিধায় আমি জানতে চাইলাম এ পরিস্থিতিতে তিনি কি করেন। সেই মা’র উত্তর, ”আমি মেয়েকে বলেছি – দোযখের আগুন এর চেয়ে অনেক বেশী গরম,  হিজাব পরে পৃথিবীর গরম সহ্য করতে পারো না তাহলে দোযখের সেই ভয়াবহ গরম তুমি কিভাবে সহ্য করবে? আমি ভাষাহারা!

কোরানে নারীর হিজাব পরিধানের কথা বলা হয়েছে, আমি জানি। সেই প্রাচীন যুগের সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সেই সময়ে নারীর পোষাক পরিচ্ছদের কথা কোরানে লেখা হয়েছে। কোরানের অনেক নিয়ম নীতি বর্তমান সমাজ-সংস্কৃতির আলোকে এর উপকারিতা, উপযোগিতা ব্যাখ্যা করা হয়ছে। কিন্তু হিজাবের ব্যাপারে তেমন ব্যাপক আলোচনা আমার চোখে পরেনি।

যাইহোক, ইসলাম ধর্মে শিক্ষা এবং জ্ঞান অর্জনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের জন্য চীন দেশ ভ্রমণের কথা বলেছেন। এখানে চীন বলতে দেশ-বিদেশে জ্ঞান অন্বেষণের কথা বোঝানো হয়েছে, আমার ধারণা।

সঠিক শিক্ষা এবং জ্ঞান মানুষকে ভাল-মন্দ, সঠিক-ভুল, উপকারিতা-অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করে যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। আমি মনে করি সেজন্যই জ্ঞানার্জনকে ধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি নিজে এমন একটা পরিবারে বড় হয়েছি সেখানেও শিক্ষা এবং জ্ঞান অর্জনকে বিশেষ মূল্যবোধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

আমি এখনও জানার-শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হিজাব পরিধানে উপকারিতা কি,  মানে এতে ইহলোকে কি উপকার হয়? জানার চেষ্টায় আছি …।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.