আমি সেদিন বাঁচলেও বাঁচেনি আমার গারো বোনটা

0

Haat 2জেসমিন পাঁপড়ি: বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটা! যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো পাশে আধা ঘণ্টার চেষ্টায়ও বাসে উঠতে না পেরে আতিককে জানালাম। কারওয়ান বাজারের নিজের অফিস থেকে বেরিয়ে সে তখন তেজগাঁও মাত্র (এনটিভির গাড়িতে)। বলল- তুমি বিশ্বরোডের দিকে এগুতে থাক। বাস পেলে চলে যেও, না পেলে বিশ্বরোডের রেল লাইন পার হয়ে মেইন রোডের পাশে অপেক্ষা কর। তোমাকে তুলে নেব। এটা নিয়মিত ঘটনা।

তেজগাঁ থেকে বিশ্বরোড আসার সময় অনুমান করে হেঁটেই এগুতে থাকলাম। কিন্তু বেশ অস্বস্তিকর রাস্তা, হাঁটতে গিয়ে অনেকের ইচ্ছাকৃত ধাক্কা খেলাম। কিছুদূর আসার পর খেয়াল করলাম একটি মোটর সাইকেল আমার পাশে পাশে আসার চেষ্টা করছে। আমি হাঁটার গতি কমিয়ে পিছিয়ে পড়লে সে থেমে ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলার ভান বলছে। আমি এগুলে সেও এগুচ্ছে।

নিজেও এক বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘটনাটিকে পাত্তা না দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এভাবেই আসলাম বিশ্বরোড পর্যন্ত। বেশ ভিড়। রাস্তার পাশে দোকান। কিন্তু সেপথেও হাঁটতে দারুণ অস্বস্তি লাগছিল। যেন আমি সার্কাস দেখাতে দেখাতে হাঁটছি। পুরো রাস্তা তাকিয়ে আছে। একসময় আমি ভীড়ের মাঝে হােরিয়ে গেলাম। দূর থেকে দেখলাম যেখানে সবাই বাসে উঠে সেখানে মোটর সাইকেল থামিয়ে ওই লোকটা আমায় খুঁজছে। এক নিঃশ্বাসে তার পিছন দিক দিয়ে রেল লাইন পার হয়ে এক পুলিশকে বললাম রাস্তা পার করে দিতে।

পুলিশ বলল- আপনি রাস্তা পার হন, কিছু হবে না, স্পিড ব্রেকার আছে।
রাস্তা পেরিয়ে আরেক বিপদ। ফ্লাইওভারের নিচে হওয়ায় জায়গাটা বেশ অন্ধকার। বুকটা শুকিয়ে উঠছিল। রাত তখন ১০টা পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকারী হিসেবে মিরপুর থেকে আসা অভিজাত বাসটি সামনে থামল। সেদিনকার মত বাঁচলাম। আতিককে ফোন করা হয়নি। ওই পরে ফোন করে জানলো, অপেক্ষা না করে গোড়ি পেয়ে চলে এসেছি। পুরো কাহিনীটা ওকে বলা হয়নি।

সেদিন আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। বাঁচেনি আমার গারো বোনটা। ঘটনাটি শোনার পর থেকে ডুকরে কান্না পাচ্ছে। আমি আর ওই রাস্তায় হাঁটব না- এমন পরামর্শ পাবো এবার?

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২,৫৮৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.