স্কচটেপ এবং তোষামোদকারী আমরা

Shamina
সামিনা আখতার

সামিনা আখতার: প্রিপারেটরি স্কুলের শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এমনিতেই মন তিরিক্ষি হয়ে ছিল, তার উপর ফেসবুকে সম্ভবত সেই স্কুলেরই শিক্ষকেরই একটা লেখা দেখে মেজাজ আরও খারাপ হলো…সেই লেখায় তিনি শিশুটির চাইতে প্রিন্সিপালের সাথে অভিভাবকরা  কতটুকু খারাপ ব্যবহার করেছেন তা নিয়েই অধিক চিন্তিত ছিলেন এবং আর কিছু কথা লিখেছেন যার অর্থ “কে নির্যাতিত হয়েছে তাকে বা তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি”……।

আমার খুব অবাক লাগছে কিভাবে প্রমাণ চাচ্ছেন এই নারী শিক্ষিকা…সেই শিশুটির বাবা মা কে কি এখন সবার সামনে মেয়েকে নিয়ে এসে ঊচ্চস্বরে বলতে হবে “এই আমার মেয়ে শিশু, যার শরীরের এই এই স্থানে স্থানে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে”

ঠিক একইভাবে আর একটি স্কুলের(সম্ভবত শাহীন স্কুল মনে নেই) ঘটনায় এক শিক্ষিকা এভাবে প্রিন্সিপালের পক্ষ নিয়ে তিলকে তাল করার জন্য অন্যদের উদ্ধার করছিলেন ফেসবুকে…যেন তিল হলে সমস্যা নেই তালের জন্য অপেক্ষা করছেন উনি। তাকে ছোট্ট করে হলেও জবাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার যখন দেখলাম তখন সময়ের অভাবে লিখতে পারিনি।

এইসব শিক্ষকের মত মানুষেরা তোষামোদী করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতেই পারবেন চিরকাল, কিন্তু সমাজের উপকার/ভাল কাজ এদেরকে দিয়ে সম্ভব নয়…

কিন্তু মারাত্মক বিষয় হোলো শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এই ধরনের মানুষের হাতে দেয়া হয়েছে।

এই শিক্ষিকার কাছে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে, নারীর জন্য পঙ্কিল এই সমাজে তিনি নিজে বড় হয়েছেন, তার নিজের, নারী আত্মীয়স্বজন, বা বন্ধুর এই ধরনের নির্যাতনের কয়টা ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে পেরেছেন!

এই শিক্ষিকা কি জানেন না এই সমাজ মারাত্মক একটা “স্কচটেপ” মেরে রেখেছে নারীর মুখের ওপর, আর সেই সুযোগে পুরুষ যৌন নির্যাতন চালায় অহরহ, নারী শিশুরা এর মারাত্মক শিকার।

শিশুরা শেখে সমাজ থেকে, যেহেতু এই ধরনের কোন শিক্ষা দেয়া হয় না এবং অভিযোগেরও কোন উদাহরণে তারা অভ্যস্ত নয়, তাই অজানা এক আশঙ্কায় শিশু ভোগে মানসিক অশান্তিতে, কিন্তু মুখ খুলতে পারে না। অভিভাবকরাও একই কারণে প্রকাশ করেন না। কারণ সমাজ ভুক্তভোগীর পক্ষে দাঁড়ায় না।

অনলাইন পোর্টাল women chapter এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত “আমার না বলা গল্প” আমাদের সমাজের স্কচটেপের নিচে থাকা সেই মারাত্মক চিত্র।

সুতরাং বুঝে নিতে হবে এই ঘটনাগুলো প্রকাশ পায় কিছুটা গুজবের মাধ্যমেই। এবং গুজবকে ধরেই সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এসব বাড়তেই থাকবে।

অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিবাদকারীদেরকেই নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে তাতে যে “স্কচটেপটা” কেউ কেউ যে একটুখানি খুলতে শুরু করেছে তাও দ্রুততর হতে পারছে না। এর কারণ হলো সমাজে তো তোষামোদী বাণিজ্য রমরমা !!!!!!

শিক্ষক প্রিন্সিপালকে তোষামোদ করবেন…তা সে যতো দোষই করুক,

অফিস সহকর্মী বসকে তোষামোদ করবেন….তা সে সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে বললেও করবেন।

দলের কর্মী দলের মহা গুণ কীর্তন করবেন,…তা সে পহেলা বৈশাখে যৌন নির্যাতন করলেও করবেন………বরং প্রতিবাদকারীকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করবেন……

তা না হলে নিজের বাণিজ্য হবে কিভাবে!!! এইসব মানুষ আসলে নিজের স্বার্থের কারণে মনুষ্যত্বের সব গুণাবলী বিক্রি করে দিয়ে কেবলই শারীরিক মানুষ। এইসবের শিকার কিন্তু শুধু মেয়ে শিশুরাই নয়, ছেলে শিশুরাও আছে। কিন্তু নির্যাতনকারী সবক্ষেত্রেই বেশীরভাগই পুরুষ।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.