বাংলাদেশের নারীরা লড়াই করে এগিয়ে চলেছে

news
আর্থার আরকান

আঙ্গুর নাহার মন্টি (উইমেন চ্যাপ্টার): জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি আর্থার আরকান এদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে এক্ষেত্রে অগ্রসরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারীরা এখনও সর্বক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে লড়াই করে এগিয়ে চলেছে। আর এ লড়াইয়ের পথটাও খুব মসৃণ নয়।

দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে যেসব নারী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের দিয়ে এদেশের সাধারণ নারীদের সার্বিক চিত্র উঠে আসে না- এমন মন্তব্য করে আর্থার বলেন, এখনো এদেশের বেশিরভাগ মেয়েশিশু ১৬ বছর হওয়ার আগেই বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে একদিকে দেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, অন্যদিকে নিজ পরিবারের মধ্যে নারীর সিদ্ধান্ত বা মতামত দেওয়ার অধিকার হাতেগোনা নারীরা নিতে পারছেন। এমনকি সন্তান জন্মদানের জন্য হাসপাতালে যাওয়া বা স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা নেওয়ার মতো অথবা বিয়ে করবে কিনা এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করলেও এই জাতিসংঘের এই প্রতিনিধির সুপারিশ, কার্যকর সমতা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন মূলধারার পরিকল্পনায় জরুরি এজেন্ডা হিসেবে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

ইউএনএফপিএ’এর প্রতিনিধি হয়ে আর্থার আরকান ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে আসেন। এরপর টানা প্রায় ছয়টি বছর তিনি জাতিসংঘের এই সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০ জুন বুধবার তিনি স্ত্রী আর দুই মেয়ে নিয়ে নিজ জন্মভূমি নেদারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন। সেখানে কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে ছুটবেন নতুন কর্মস্থল ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে। ঢাকা ছাড়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে আর্থার তুলে ধরেছেন তার অভিজ্ঞতার আলোকে এদেশের প্রজনন হার, জনসংখ্যা সমস্যা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসহ একাধিক বিষয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সংস্থায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা ইউএনএফপিএ’এর এই প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অনন্য ও সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানালেন।

বাল্যবিয়েকে বাংলাদেশের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আর্থার বলেন, এদেশে অর্ধেকেরও বেশি মেয়েশিশু ১৬ বছরের আগেই বিয়ের পিড়িঁতে বসতে বাধ্য হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন না, মেয়েশিশুদের অভিভাবক বা বাবা তাদের ভালবাসেন না। বরং সামাজিক নিরাপত্তা, কুসংস্কার, শিক্ষার অভাব, যৌতুক প্রথাসহ নানা কারণে নিজের মেয়েটিকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাল্যবিয়ে মেয়েশিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তার মতে, এদেশে একটি ধারণা রয়েছে যে, মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে তারা শিক্ষিত হতে থাকবে। তখন উপযুক্ত পাত্র পাওয়া কঠিন হবে। আর অল্প বয়সে বিয়ে দিলে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বড় ধরণের যৌতুকের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এই মানসিকতা খুবই অনভিপ্রেত যা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে মানানসই নয়। এ পর্যায়ের দুই কন্যার এই জনক বলেন, আমি খুব মর্মাহত হয়েছি যখন দেখেছি আমারই কন্যার বয়সী কারো বিয়ে হয়েছে বা মা হয়েছে।

মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে অগ্রগতি হলেও কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার, গর্ভবতী মায়ের জন্য যথাসময়ে যানবাহন ব্যবস্থ্যা করা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌছুঁতে বিলম্ব ঠেকাতে অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকারের মাতৃত্বকালীন ভাতা ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, গর্ভবতী মায়ের পরিবার ও স্বজনেরা মূলত অর্থের অভাবের কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অনীহা করে। বাসায় প্রসবের প্রথার দোহাই দেয়। অথচ সরকারের সুচিন্তিত ভাতাব্যবস্থা প্রসূতিকে অন্তত:পক্ষে হাসপাতালে নিতে সক্ষম হয়েছে। তবে এখনো হাসপাতালে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হচ্ছে। এর কারণ হাসপাতালে আনতে নানা বিলম্ব।

প্রত্যেক মায়ের গর্ভাবস্থায় তার বিছানার পাশে চিকিৎসক বা দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী বা দক্ষ ধাত্রীকে পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করা গেলে ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। কারণ কোন ধরণের বিলম্ব না করে যেসব মায়েরা হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন, তারা নিরাপদে সন্তানের জন্ম দেন। দক্ষ ধাত্রীসেবা নিশ্চিত না করা গেলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন এমন মন্তব্য করে আর্থার বলেন, মাতৃমৃত্যু অনেক বড় ট্রাজেডী। এ ব্যাপারে কোন ধরণের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এ পর্যায়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে এ মুহুর্তে ২১ হাজার দক্ষ ধাত্রী প্রয়োজন। সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করেছে এবং ২০১০ সাল থেকে ইউএনএফপিএ দক্ষ ধাত্রী প্রশিক্ষণে কাজ করছে।

আর্থার মনে করেন, মোট প্রজনন হার কমানো, শিশু মৃত্যু হ্রাস, পরিবার পরিকল্পনায় বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে এদেশের জনসংখ্যা সমস্যা, এইচআইভি/এইডস প্রকোপ, জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতির ব্যবহার কম প্রভৃতি বিষয়গুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। এর সঙ্গে প্রতি বছর নতুন করে ২৫ লাখ মানুষ যোগ হচ্ছে। এই বাস্তবতায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ প্রজনন হার কমিয়ে এনেছে। ২০১৫ সাল নাগাদ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করবে। তবে এদেশের মোট জনসংখ্যা নিয়ে কোন ধরণের বিতর্ক এড়াতে তিনি বাধ্যতামূলক জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের কারণে সঠিকভাবে জনসংখ্যা গণনা করা দিনে দিনে কঠিন ও জটিল হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে তিনি তার দেশ নেদারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বের মতো কেন্দ্রিয় তথ্যভান্ডার গঠনেরও সুপারিশ করেন। এতে দেশের যেখানেই কোন জন্ম-মৃত্যু বা অভিবাসন হলে তা ঐ এলাকায় নিবন্ধন করা হবে এবং তা সরাসরি কেন্দ্রিয় ডাটা-বেইসেও যুক্ত হবে। আর জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবেলায় সকল অঞ্চলের জন্য একই ধরণের কৌশল গ্রহণের পুরনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে স্থান ও সমস্যাভিত্তিক কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করে তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত বর্তমানে বেশীরভাগ মানুষই দু’সন্তানের বেশী নিতে চান না। তাই ১ দশমিক ৯ প্রজনন হারের খুলনার মতো কৌশল সিলেট ও চট্টগ্রামে পরিবার পরিকল্পনার কৌশল নিলে হবে না। এসব অঞ্চলের জন্য ভিন্ন কৌশল নিতে হবে।

আর্থার আরকান বলেন, বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখনো সেই জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়িভিত্তিক কর্মসূচীই প্রাধান্য পায়। আর জন্ম নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য পদ্ধতিগুলো প্রচার নেই। অন্যদিকে জনবলের সংকট, মাঠ পর্যায়ে নিবিড় কার্যক্রমের অভাব, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর অনিয়মিত সরবরাহ এবং পুরুষদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারা এসব কারণে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতোসব সমস্যার সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক অবস্থান ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

এদেশের তরুণদের উদ্যম ও অংশগ্রহণমূলক মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, আজকের তরুনদের জীবনযাত্রা ও চিন্তাভাবনার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগে তরুন সমাজকে প্রতিনিয়ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তবে তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, নিজের দেহ, সম্পর্কসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য জানাতে হবে। তাহলে অকালে গর্ভধারণ, যৌনরোগ, এইচআইভিসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো সহজে মোকাবেলা করা সহজ হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি শিশু ও মহিলা বিষয়ক এবং যুব মন্ত্রনালয়ের চলমান প্রকল্প ইয়ুথ ক্লাব এবং নেদারল্যান্ডের অর্থায়নে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে নতুন প্রকল্প ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রো’র প্রশংসা করে বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার জেন্ডারসমতা, আচরণগত পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ে তরুণ সমাজকে তথ্য দিচ্ছে।

তরুণদের যৌন জীবনের মতো বিষয়গুলোতে তথ্য সরবরাহে বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল দেশের নীতি-নির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রক্ষণশীল নয়, বরং প্রগতিশীল। তবে এ বিষয়টি এদেশের নীতিনির্ধারকরা মানতে চাননা। তার মতামতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আর্থার বলেন, নগরায়নের ফলে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও স্যাটেলাইট তরুণ প্রজন্মের লাইফ স্টাইলেও এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। নারীরা তৈরী পোশাক খাতে বিপ্লব এনে দিয়েছে। তরুণ-তরুণী হাত ধরাধরি করে রাস্তায় বা পার্কের বেঞ্চে বসে গল্প করছে। এক বা দুই প্রজন্ম আগে এমন দৃশ্য হয়তো কল্পনাও করা যেতো না। নিশ্চয়ই এতোটা অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশকে আর রক্ষণশীল বলা যায় না। অথচ তথাকথিত রক্ষণশীলতার নামে তরুণ সমাজকে বয়োঃসন্ধিকালের সমস্যা, প্রজনন স্বাস্থ্যসহ জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দেয়া হবে না। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রায়ই বলা হয়, খোলামেলা আলোচনা তাদের সংস্কৃতি নয়। তবে আশার বিষয় তারা এখন উপলব্ধি করছেন, তরুণ সমাজকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে হবে।

এক পর্যায়ে আর্থার আরকান তরুণ সমাজের শাহবাগ আন্দোলনের ব্যাপক প্রশংসা করে বলেন, এদেশের তরুণরা ঐতিহাসিকভাবেই আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তো বটেই, রাজনৈতিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। প্রজন্ম চত্বরের অহিংস আন্দোলন রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাবও বলে মনে করেন তিনি।
সমাজ পরিবর্তনে এদেশের গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রশংসা করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে ইউএনএফপিএ’র এই বিদায়ী প্রতিনিধি বলেন, যে কোন সমস্যা সমাধানে দরকার আলোচনা। সেটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যে সমস্যাই হোক না কেন। আর এটি এদেশের রাজনীতিবিদরা বেশ ভাল বুঝেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আর্থারের মন্তব্য হচ্ছে, এদেশের সরকারের উন্নয়নের জন্য অঙ্গিকার রয়েছে। এ কারণেই সরকারের যে কোন পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগীরা সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।

বাংলাদেশ তার কর্মজীবনে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে জানিয়ে আর্থার বলেন, বাংলাদেশে চমৎকার পেশাগত সময় কাটিয়েছি। এখানকার পুরোটা সময় সত্যিই বেশ উপভোগ করেছি। ইউএনএফপিএ’র সঙ্গে কাজ করলে সকলেরই বাংলাদেশে অবশ্যই আসা উচিত। কারণ এখানে মাতৃস্বাস্থ্য, জেন্ডার, স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সব বিষয়ে কাজ করার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যেতে পারবে। এসব বিষয়ে সরকার ও জনগণের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলনাহীন।

দীর্ঘ ছয় বছরের বাংলাদেশে প্রবাসী জীবনে খারাপ কোন অভিজ্ঞতা নেই বলে জানালেন এই বিদেশী উন্নয়ন সহযোগী। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ খুবই ভাল মনের এবং অসাধারণ। যে কোন পরিস্থিতিতে তারা প্রানখুলে হাসতে পারেন। আমি এই হাসি মুখগুলো সারাজীবনেও ভুলবো না। অকুণ্ঠ চিত্তে জানালেন, এতো রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এদেশে থাকাকালে তিনি কোনো বিদেশী কূটনীতিক বা প্রতিনিধি বা কর্মকর্তার মুখে শুনেননি যে, এই দেশ ছেড়ে যেতে পারলেই বাঁচেন। আর্থার আর সবশেষে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালবাসি। আমি এই দেশ ও এদেশের মানুষকে খুব মিস্ করবো।’

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.