আমি তো কোনও দোষ করিনি, তাহলে আমি কেন লজ্জা পাব?

suzattee_jordanউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (২০ জুন): ‘আমি তো কোনও দোষ করিনি, তাহলে আমি কেন লজ্জা পাব? বরং যারা আমার সঙ্গে এত বড় অপরাধ করেছে তাদের তো লজ্জা পাওয়া উচিত!’ এই কথাগুলো বলেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের শিকার সুজেট জর্ডন।

বিবিসি বাংলা এই খবর জানিয়ে বলে যে, ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্র পার্ক স্ট্রিটের একটি ক্লাব থেকে রাতে ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হন সুজেট। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে মূল অপরাধীসহ আরো একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। অন্য তিনজন ধরা পড়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, এই ঘটনার পর একবছর চার মাস কেটে যাওয়ার পরও মূল অপরাধী ধরা না পড়ায় এর প্রতিবাদে সুজেট প্রকাশ্যে বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে সুজেটের প্রাক্তন আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা এ ব্যাপারে বলেন, মামলার অন্য দুইজন আসামী ধরা না পড়ায় মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বহুল আলোচিত এই ঘটনার প্রধান আসামীকে এখনো গ্রেফতার করতে কলকাতা পুলিশ কেন ব্যর্থ হলো সেসম্পর্কে কোন সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি তাদের কাছ থেকে।

এদিকে ভারতে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের মামলাগুলির নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে কলকাতার আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ বলেন, ধর্ষণের পর স্নান করা বা জামাকাপড় যে ধোয়া উচিত না, সেটা আজ পর্যন্ত ভারতীয় নারীদের বোঝানো গেলোনা। এটা কিছুটা সচেতনতার অভাব। আবার কেউ খুব সাহস সঞ্চয় করে পুলিশের কাছে গেলেও দক্ষ তদন্তকারীর অভাবে নির্যাতিতাকে আরো হেনস্থা হতে হয়।’

তিনি আইনের প্রক্রিয়াগত পদ্ধতির সমালোচনা করে যোগ করেন, ধর্ষণ মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে। আর এই রিপোর্ট পেতে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু-বছর সেময় লেগে যায়। কখনো বা আরো বেশি। মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে এটিও একটি কারণ।

তিনি আরো বলেন, আর এসব পদ্ধতিগত সমস্যার সুযোগ নিয়ে মাঝে মাঝে অপরাধীরা জামিন এমনকি খালাসৱও পেয়ে যাচ্ছে।

সুজেট জর্ডেনকে মানসিক চাপ কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করেছেন সমাজকর্মী শান্তশ্রী চৌধুরি। তিনি নিজেও এ ধরনের নির্যাতনের শিকার।

মিস চৌধুরি বলেন, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ সময় নেয়াটা একজন নির্যাতিতার মানসিক চাপ বাড়ায়। এ ধরনের অপরাধের বিচার নিষ্পত্তিতে দ্রুত বিচার আদালতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সচেতনতা আর সংবেদনশীলতার অভাবে তারা ধর্ষণের মামলার অভিযোগপত্র দেয়ার সময় গাফিলতি করে থাকেন। মাঝে মাঝে তারা অসমাপ্ত ও অর্ধসমাপ্ত অভিযোগপত্রও দিয়ে থাকেন। ফলে অপরাধীরা এসব ফাঁকফোকর দিয়ে খুব সহজেই বের হয়ে যায়।
গত বছরের শেষের দিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক কলেজ ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তখন এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলেও এখন পর্যণ্ত তেমন কোন পদক্ষেপই ভারত সরকার গ্রহণ করেনি।

শেয়ার করুন:
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.