পাল্টা আঘাতের শুরু হোক এভাবেই

Palta Aaghatউইমেন চ্যাপ্টার: বর্ষবরণে নারী নিপীড়নের ঘটনার জের ধরে গতকাল যে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়ে দিল পুলিশ, তাতে আর বসে থাকার অবকাশ নেই। পাল্টা আঘাত কর্মসূচির প্রথম পাঠ বেশ ভালভাবেই শেষ হয়েছে বলা চলে। এবার হোক তার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো। একটার পর একটা আঘাত হানতে হবে। ওরা কত জলকামান মারবে, কত টিয়ারগ্যাস মারবে, কত মেয়েকে বুটের লাত্থি মারবে, কত ছাত্রনেতাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক লাঠিপেটা করবে! করুক।

আমরা একটা একটা করে এর জবাব দিয়ে যাবো।

ইসমত জাহান জো এর যে ছবিটি কতিপয় মুখোশধারী সরকারি চ্যালা-চামুণ্ডা শেয়ার করছে পুলিশের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তা নিয়ে বিব্রত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এই ছবিটিই আমাদের প্রেরণা হয়ে উঠুক। আমরা জেনে নিই, মেয়েরা এখন পাল্টা আঘাত করতে শিখেছে। যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে আমরা আর মার খাবো না, পারলে কয়েকজনকে কুপোকাত করেই ঘরে ফিরবো। ওরা কয়জনকে আটকাবে?

পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়নের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল অনেক সংগঠন। কিন্তু সরকারের নির্লিপ্ততায় বা বলবো সরকারের ইঙ্গিতে তারা চুপসে গেছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে একমাত্র প্রগতিশীল ছাত্র ইউনিয়নই। সেই ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই গতকাল (রোববার) তারা ডিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে গিয়েছিল স্মারকলিপি দিতে। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে এইসব স্মারকলিপি-জাতীয় পুতু পুতু আন্দোলনের বিপক্ষে, তারপরও একটা বড় সংগঠন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আপত্তির কিছু নেই।

ছাত্র ইউনিয়ন ইতিহাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোনদিন কোথাও কোন আন্দোলনে মারমুখী হয়েছে বলে আমার জানা নেই (জানায় ভুল থাকতে পারে স্বীকার করছি)। কাজেই গতকাল তারা ডিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে সেটা দখল করে ফেলবে এমনটি ভাবা মনে হয় বাহুল্যই বটে। সেখানে তাদের নির্লিপ্ত করতে ছুটে এলে জলকামান, টিয়ার গ্যাসসহ পুলিশ বাহিনী।

যে পুলিশের সামনে বর্ষবরণের দিন নারীর নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, যে পুলিশের সামনে ড. অভিজিৎ রায়কে খুন করা হয়, সেই পুলিশ বাহিনী বীরদর্পে চলে এলো নিরীহ একটা ছাত্র সংগঠনকে ঠ্যাঙানি দিতে। শুধু তাই নয়, একটি মেয়ে তাদের জলকামানের ওপর ভাঙা ইটের টুকরো ছোঁড়ায় তাকে যেভাবে  হেনস্তা করলো, তাতে পুলিশ বাহিনীর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বৈকি!

সোশ্যাল মিডিয়ায় যখনই নিরীহ ওই প্রতিবাদের ওপর পুলিশী হামলার ছবি বের হচ্ছে, তখনই একদল এসে জো এর ইট মারার দৃশ্যসহ ছবিটি দিয়ে বোঝাতে চাইছে পুলিশী হামলা আসলেই যৌক্তিক ছিল। রাতে যখন এসব ছবি দেখি, সত্যি বলছি, নিজের শরীরে মনে হয় কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রাতটা পার করে মনে হচ্ছে, এই ছবিটিই আমাদের আন্দোলনের মূলশক্তি হয়ে উঠুক। মেয়েরা এখন পাল্টা আঘাত দিতে শিখেছে, সেটাকেই উপজীব্য করে চলুন আমরা আঘাতের পর আঘাত হানি। আর নয় ঘরে বসে থাকা।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকি আক্তার লিখেছেন, ‘এই ছবিটা দেখিয়ে যদি আপনে বলেন যে, ‘ঠিকই তো আছে। পুলিশকে উত্তেজিত করলে পুলিশ কি ছেড়ে কথা বলবে! তবে আপনি হচ্ছেন তাদেরই দলে যারা নারীর উপর নিপীড়নের জন্য নারীর পোষাককে দায়ী করে। কিন্তু এই ছবিটিই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এবং এই ছবিটি দেখিয়ে দেয় কিভাবে‪#‎পাল্টা_আঘাত‬ হানতে হয়। আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দিকে বেপরোয়াভাবে এগিয়ে আশা এই আর্মার্ড পুলিশ কারের সামনে যে মেয়েটি একটি ঢিলকেই নিজের অস্ত্র ভাবতে পারে তার সামনে যৌন নিপীড়করা তো নস্যি!!!

Ismat Jahan Jo ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। আমরা তাঁর জন্য গর্বিত’।

লাকি আক্তারের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে চাই, শুধুমাত্র ছাত্র ইউনিয়নের বন্ধুরা নয়, যারাই এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, তারা এই ছবিটিকেই বেশি করে ছড়িয়ে দিন। এই ছবিটি আমাদের সাহস যোগায়। সাহস যোগাবে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে।

ব্রিটিশদের কাছে প্রীতিলতা একজন সন্ত্রাসী ছিলেন।

আর মুক্তিকামী ভারতবাসীর কাছে একজন বীর।

কাজেই এই ছবিটিই আমাদের বুকে ধারণ করে চলুন শত্রু-মিত্র চিনতে রাস্তায় নামি। আর নয় ঘরে বসে থাকা, যেখানেই আঘাত, সেখানেই হোক পাল্টা আঘাত। দশভুজা নারীদের দাবিয়ে রাখা যায়নি কখনও, যাবেও না। আসুন সবাই।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.