“ললিতা” এক অলৌকিক জাদুকরী শিল্প-১

Lolitaফারহানা রহমান: বহু বছরআগে নোবেল বিজয়ী রুশ-মার্কিন উপন্যাসিক ভ্লাডিমির নাবুকভের (১৮৯৯-১৯৭৭) বিখ্যাত বই “ললিতা” পড়েছিলাম, যা কখনই ভুলতে পারিনি। লেখকের অনবদ্য গদ্যশৈলী কিংবদন্তীয় রূপ ধারণ করেছিল তাঁর জীবনকালেই।

“ললিতা” সর্বপ্রথম  ১৯৫৫ সালে প্যারিসে, ১৯৫৮ সালে নিউ ইয়র্কে ও ১৯৫৯সালে লন্ডনে বের হয়।  প্যারিসে  বইটা প্রকাশ হবার পর পরই বিশ্বজোড়া  সাড়া পড়ে যায়।

গল্পটিতে এমন এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনা ছিল যা পাঠকের চেতনাকে আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করতে বাধা দেয়।

গল্পের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই এক নবযৌবনা কামাক্ষী কিশোরী ললিতাকে। যে তার অর্ধনগ্ন শরীর দিয়ে নানা কামাতুর ভঙ্গিমায় তার বিপিতাকে চোখের ভাষাতে হাতছানি দিয়ে তাকে উত্তপ্ত ও উদ্ভ্রান্ত করে তুলছে।

কিন্তু ভেতরের প্রকৃত ছবিটা ছিল ঠিক উলটো। গল্পের নায়ক হাম্বার্ট একজন ইউরোপীয় সাহিত্যের পণ্ডিত, তিনি তার শৈশব প্রণয়ীকে অকালে হারান এবং সম্ভবত সে কারণেই পরবর্তীতে তিনি ৯-১৪ বছর বয়সী মেয়ে শিশুদের প্রতি গভিরভাবে যৌন আকর্ষণ বোধ করেন।

দেখা যায় যে, ১২ বছর বয়সী ললিতাকে দেখে তার বিপিতা এতোই লোভাতুর হয়ে ওঠেন যে, তিনি ললিতার মাকে বিয়ে করেন শুধুমাত্র মেয়েটির সংস্পর্শ পাওয়ার আশায়। পরবর্তীতে হাম্বার্ট নির্মমভাবে, লোভাতুর, কামাতুর চোখ দিয়ে ও ভোগের লালায়িত লিপ্সা দিয়ে, প্রতিনিয়ত ললিতাকে বলাৎকার করে চলেছিলেন।

মাতৃহারা শিশু ললিতার শেষ ভরসা ছিল তার বিপিতা। যার অভিভাবকত্বের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল তার নিরাপত্তা। কিন্তু চিরকালের শিকারী পুরুষ, তার নগ্ন ভোগাকাঙ্খা চরিতার্থ করবার জন্যে নানারকম নীতিবাক্য উদ্ভাবন করে পাঠককে তার পক্ষে দাঁড় করিয়ে নারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবার যথার্থ আয়োজনই করেছিলেন।  এবং বহুলাংশে সক্ষমও হয়েছিলেন।

১৯৬২ ও ১৯৯৭ সালে দু দুবার এই বইটি নিয়ে চলচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। সিনেমাগুলো দেখেও আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম।

পরবর্তীতে ইরানী অধ্যাপক আজার নাফিসির লেখা আত্মজীবনী “রিডিং ললিতা ইন তেহরান” পড়ে আমি আবারও সীমাহীন বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি। পরবর্তীতে এই বইটির উপরও আলোচনা করার ইচ্ছে আছে…।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.