নিয়ন্ত্রণকারী পুরুষমাত্রই হুমকিস্বরুপ

alexandriastreetartbyayatarekতামান্না কদর: সকল পুরুষ সকল সময় লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন ভাবনায় আক্রান্ত ছিলো, আজো আছে। সকল পুরুষ খারাপ নয়! যদি বলি, সকল পুরুষ খারাপ। একেবারে মিথ্যে বলা হবে না। ধর্ষক পুরুষ, খারাপ? আর যে পুরুষটি মেয়েদের কাজ, ছেলের কাজ আলাদা বলে ভাবে-সে খারাপ নয়? যে পুরুষ মেয়েদের এই খেলা নিষেধ, এই করা নিষেধ, এই খাওয়া নিষেধ, সন্ধ্যের পর বাইরে থাকা নিষেধ, এইভাবে চিন্তা করে সে খারাপ নয়?

এখানে দু-রকমের পুরুষই খারাপ। কারণ দু-রকমের পুরুষই মেয়েদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে তার লিঙ্গকে কেন্দ্র করে।

সবচে বড় কথা এবং খারাপ কাজ যেটি তাহলো, পুরুষ নারীর জীবনযাপন পরিকল্পনা তৈরি করে দেয়ার স্পর্ধা দেখাচ্ছে। ধর্ষক সরাসরি খারাপ তার জৈবিক লিঙ্গটির অপপ্রয়োগের মাধমে আর আরেক প্রকার পুরুষ খারাপ তাদের সামাজিক লিঙ্গভিত্তিক চিন্তাগুলি প্রয়োগ করার কারণে।

ধর্ষক ধর্ষণ করছে তার শরীর দিয়ে, আর যারা নিজেদের বলছেন, আমরা ভালো, সব পুরুষ এক না, তারা ধর্ষণ করছেন চিন্তা-চেতনা দিয়ে। ব্যতিক্রম একটা-দুটো পুরুষ দিয়ে এই লিঙ্গবাদী সমাজের বিচার চলে না। এভাবে বিচার করলে তা অযৌক্তিক হবে।

এখানে বলা হয়েছে, পুরুষ খারাপ। পুরুষতন্ত্র খারাপ হয়ে থাকলে পুরুষ অবশ্যই খারাপ কারণ পুরুষতন্ত্র তৈরিকারী পুরুষই। পুরুষ অখবা পুরুষতন্ত্র খারাপ, যাই বলা হোক না কেন; একথা মিলের সময়েও বলা হয়েছে, মিল পুরুষ বলে ক্ষেপে যাননি, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কথাটির সামাজিক-বাস্তবিক প্রেক্ষাপট।

লিঙ্গবাদ-নারীবাদ নারীপুরুষের ব্যাক্তিগত মন্দ বিষয় নিয়ে কিন্তু আলোচনা করে না। নারীর মন্দ কাজের সাথে পুরুষের মন্দ কাজের তুলনা একেবারে অযৌক্তিক এবং হাস্যকর। পৃথিবীতে কয়টি প্রথা হয়েছে নারী দ্বারা পুরুষকে ‍নিয়ন্ত্রণ অথবা দমনের উদ্দেশ্যে, পৃথিবীতে কয়টি আইন হয়েছে নারী দ্বারা পুরুষকে ‍নিয়ন্ত্রণ অথবা দমনের উদ্দেশ্যে, পৃথিবীতে কয়টি ধর্ম এসেছে নারী দ্বারা পুরুষকে ‍নিয়ন্ত্রণ অথবা দমনের উদ্দেশ্যে?

বাবা পুরুষটি সবসময় সচেষ্ট থাকে তার কন্যাটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, ভাই পুরুষটি সবসময় সচেষ্ট থাকে তার বোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে, বিবাহিত পুরুষটি সবসময় সচেষ্ট থাকে তার বিবাহিত নারীটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে। এর বিপরীতে মা, বোন এবং বিবাহিত নারী নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট থাকে কি? বরং তখন নারীরা তাদের বাবা-ভাই-বিবাহিত পুরুষদের জন্যে অবারিত পৃথিবীকে স্বাগত জানায়।

আর গণ পুরুষেরা সবসময় সচেষ্ট থাকে গণনারীদের নিয়ন্ত্রণ এবং দমন করতে। একমাত্র ঈর্ষা এবং ভয় অন্যকে নিয়ন্ত্রণ আর দমন করতে উৎসাহ ও কুবুদ্ধি যোগায়। সময়ে সময়ে পুরুষ নারীকে নিয়ন্ত্রণ এবং দমন করতে কুবুদ্ধি এঁটেছে। বুদ্ধিমান এবং সাহসী নারীরা, সংখ্যায় অল্প হলেও খুবই অল্প সংখ্যায় পুরুষও গণপুরুষদের এইসব কুবুদ্ধি ধরতে পেরেছে এবং কুফল বুঝে এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং করছে।

এর ফলে একটি টার্ম তৈরি হয়েছে-এর নাম নারীবাদ। লিঙ্গবাদের প্রতিবাদে নারীবাদ এলেও নারীবাদ লিঙ্গবাদের বিপরীত শব্দ নয়। নারীবাদ বিষয়টি অত্যন্ত গভীর এবং গভীর উপলব্ধির বিষয় এজন্যে যে- পুরুষ সুদীর্ঘকাল থেকে নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার, দমন করার জন্যে যে সময় এবং শ্রম ব্যয় করেছে অন্য কিছুর পেছনে অত করেনি।

তাছাড়া নারীর প্রতি প্রবল ঈর্ষা এবং সুবিধাভোগের জন্যে পুরুষ সবসময় লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন ভাবনায় আক্রান্ত। নারীবাদেরও আবার অনেক প্রকারভেদ আছে। প্রকারভেদ যাই হোক মূল চেতনা একটিই আর তাহলো পুরুষ দ্বারা নারীকে নিয়ন্ত্রণ নারীবাদ মেনে নেয় না।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.