ধর্ষণের রায় ও একটি প্রতিক্রিয়া

0

Enoughউইমেন চ্যাপ্টার: “ধর্ষণ করে হত্যার শাস্তি সংক্রান্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারাটি অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আইনটির ৬(২) ধারায় ধর্ষণ করে হত্যার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-এ বিধানটিকেই অসাংবিধানিক বলছেন আদালত। একই সঙ্গে আইনটির ৬(৩) ও ৬(৪) ধারা এবং ২০০০ সালের সংশোধিত আইনের ৩৪(২) ধারাকেও অসাংবিধানিক বলা হয়েছে রায়ে। ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর করা একটি রিটের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ এই রায় দিলেও এই সুনির্দিষ্ট মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন”।

রিট মামলাটির সূচনা হয় মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানাধীন একটি গ্রামের এক ধর্ষণ করে হত্যা মামলাকে ঘিরে। ১৯৯৬ সালের ১১ জুন ওই গ্রামের শুক্কুর আলী (১৪) একই গ্রামের সুমি (৭) নামের এক শিশুকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে বলে মামলা হয়। এ মামলায় ২০০১ সালের ১২ জুলাই বিচারিক আদালত শুক্কুর আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে পরবর্তীতে হাইকোর্ট এবং ২০০৫ সালের আপিল বিভাগ এ রায় বহাল রাখেন।

এরপর ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ১৯৯৫ এর এই ধারাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। এ রিট আবেদনের একটি পক্ষ ছিল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শুক্কুর আলী। রিটের প্রেক্ষিতে তার ফাঁসির আদেশ স্থগিত করা হয়। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে নারী অধিকার আদায়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে বলেই আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে এরই মধ্যে অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এই রায় নারী অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিনের নারী সংগ্রামকেই অপমান করেছে। রাষ্ট্র নারীবান্ধব নয় মোটেও। নারীবান্ধব হলে যখন প্রতিদিন ধর্ষণের খবর পড়ে পড়ে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, ঠিক সেইমূহূর্তে এরকম একটি রায় ঘোষণা করা সম্ভব হতো না।

অনন্য আজাদ নামের একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক লিখেছেন তার স্ট্যাটাসে, “বাড়ি থেকে কিংবা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আপনার বোন কিংবা মেয়েকে যদি কেউ ধর্ষণ করে তবে আপনি কোথায় যাবেন? পুলিশের কাছে যাবেন, কোর্টে যাবেন, তাই তো? কিন্তু আজকে বাংলায় নষ্ট এক অধ্যায়ের জন্ম নিয়েছে। মাননীয় (পুরুষতান্ত্রিক) আদালত ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে বাতিল করে রায় দিয়েছেন। যে অপরাধের শাস্তি যত লঘু সে অপরাধ ঘটবে ততো প্রবলভাবে।

নষ্ট পুরুষতান্ত্রিকতার জয় হয়েছে। বাঙলার নারীরা পরাজিত হয়েছে। বেগম রোকেয়া প্রীতিলতার বাঙলা ধর্ষণের অধিকারে গেছে। এই বাংলায় একটি বিপুল সংখ্যক নষ্ট পুরুষ ধর্ষণে নারীকে দায়ী করে, তারা জয়যুক্ত হয়েছে। ধর্ষণে পোশাক দায়ী, সুতরাং ধর্ষণ বাঞ্ছনীয়-এমন মতবাদে বিশ্বাসী অসৎ মানুষেরা বিজয়ী হয়েছে।

মাননীয় আদালত কী পুরুষ! আদালতের কোন লিঙ্গ থাকার কথা নয়, তবে কীভাবে কেনো এমন রায়? আদালত চালাচ্ছে পুরুষ, সমাজ চালাচ্ছে পুরুষ, নষ্ট নিয়ম জোরপূর্বক বাধ্য করে শেখাচ্ছে মানাচ্ছে পুরুষ। যে দেশের আইন একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের পক্ষে কাজ করে, সে দেশে নারীর সম্মান পুরুষদের পায়ের নিচেই থাকবে।

আজ থেকে বাংলায় ধর্ষণের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে এবং এতোদিন দেখা গেছে গরীব দরিদ্র নিম্নবিত্তের সাথেই ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এবার যে কোন পেশার, যে কোন বয়সের, যে কোন বিত্তের মেয়ের সাথেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটবে। পরোক্ষভাবে কোন পথে ছুটছে বাংলাদেশ”!

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১৮৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.