উত্তেজনা কমানোর টিকা প্রয়োজন

Poster against violenceনায়না শাহরীন চৌধুরী: মেয়েদের অপমান বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত করা আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মজ্জাগত। এ নিয়ে কম লেখা হয়নি। এর বিশ্লেষণ আমার মতো মূর্খের থেকে অন্যরা ভাল দিতে পারবেন।

আমি খুব সাধারণ মানুষ…থুক্কু…নারী। বলা ভাল অবলা নারী, অবলা গৃহপালিত গরুর মতো। অবলা নারীও আমাদের সমাজেরই প্রচলিত কথা। তারপরও দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে বাঘিনী কিন্তু বাঘের থেকে ক্ষিপ্র হয়ে ওঠে। এখন বোধ হয় আমাদের সবারই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমরা কি মিউ মিউ করে অন্ধকারে কাঁদবো, নাকি গর্জন করে যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব!

সাম্প্রতিক যে আঘাত, যে তীব্র অপমান বছরের শুরুতেই জাতি উপহার পেল তার বহু নৈতিক, জৈবিক ব্যাখ্যা ফেসবুকে ভর্তি। আমার এত ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন নাই। আমি যেভাবে বাঁচতে চাই, আমি সেভাবেই বাঁচব। ন্যাংটা পাগলকে জোর করে কাপড় পরানো যায় না, বস্তা পাগলকেও বস্তা থেকে বের করা যায় না। এমন করতে গেলে কামড় খেতে হয়। ওরা পাগল তাই কামড়ায়।

আমরা যারা স্বাভাবিক তাদের কি করা উচিত। আমি যখন স্কুলে পড়ি তখন এক পঞ্চাশোর্ধ্ব হুজুর আমাকে আরবি পড়াতেন। তিনি নানা অজুহাতে আমার হাত ধরতে চাইতেন। বাসার কাজের মেয়েদেরকেও ছুঁতে চাইতেন। আমি একদিন ঐ হুজুরের হাতে কম্পাস দিয়ে খোঁচা দিয়ে রক্তাক্ত করে দিলাম। তারপর সে আর সাহস করত না।

অফিস থেকে যখন বাসার দিকে আসি, তখন অনেক চোখেরই আমাকে দেখার খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনটা জৈবিক সেটা চাহনি দেখলেই টের পাওয়া যায়, এবং তাদের উত্তেজনা যাতে না বাড়ে আমি এমন পোশাক পরেই হেঁটে আসি, কিন্তু তারপরও অনুভূত হয় তারা যৌন জীবনে খুবই অতৃপ্ত, তাই রাস্তায় এসে চোখকে এক্সরে মেশিন বানিয়ে পরনারী দেখার লোভ সামলাতে পারে না। আমার একই সাথে করুণা ও ঘৃণা দুটাই জাগে।

এরা তো ঘৃণ্য জন্তুর চেয়েও ঘৃণ্য। এদের কি করে নিধন করা যায়! আমাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে হয়। একটি শিশু আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তাই কিছু বলার সময় বা রুচি কোনোটাই থাকে না। শুধু ওরা যেভাবে তাকায় আমিও ওদের দিকে সেভাবে তাকাই। ওরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কোন মেয়ে এভাবে তাকাতে পারে ওরা ভাবতে পারে না। একটা মেয়ে যে অস্বস্তিতে ভোগে ওরাও নিশ্চয়ই প্রায় একই অস্বস্তিতে ভোগে।

যারা সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে যুক্ত তারা, আমার ধারণা, বেশিরভাগই অবিবাহিত। এই ধরনের ভাইদের জন্য একটা টিকা থাকা প্রয়োজন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন। উনাদের উত্তেজনার সাথে আমরা নারী সমাজ তাল মেলাতে পারছি না। তাই হয় আমাদের উত্তেজনাও বাড়িয়ে তোলার কোন টিকা করা হোক, অথবা উনাদের উত্তেজনা কমানোর কোন টিকা বাধ্যতামূলক করা হোক।

এমনিতেই জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য কম বয়সে বিয়ের, আর তিন সন্তান গ্রহণের আশকারায় পোলাপান পাগল হয়ে গেছে। এখন জাতির অভিভাবক হিসেবে এবং নারী সমাজের প্রতিভূ হয়ে এই উপকারটা করেন।

নয়তো, আমাদের যার কাছে যা আছে, তাই নিয়ে আমাদের দেহ আর ইচ্ছে রক্ষা করতে হবে। এটা শুধু সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য নয়। এটা নানান সময়ে প্রত্যেকটা বঞ্চিত লাঞ্ছিত নারীর মনে আপনার কোমল হাতের মলম হবে। আর তাদের আনন্দাশ্রুর সাথে থাকবে অনেক দোয়া এইটুকু তো আপনিও জানেন।

নায়না শাহরীন চৌধুরী

সঙ্গীতশিল্পী ও লেখিকা

২০/০৪/১৫

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.