যৌন দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করো

Kanij Aklimaকানিজ আকলিমা সুলতানা: মেয়েদের গায়ে হাত দিতে কি শরীরের ভাঁজ দেখতে হয়! ভাঁজ উত্তেজনা তৈরি করলে সিনেমা হল থেকে আধো অন্ধকারে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মাঝে শুয়োরেরা নারীর শরীরে হাত চালায় কি কারণে!

পহেলা বৈশাখে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেইটে নারী লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুইদিনে নানা সন্দেহের  জোয়ার বইছে। কারা দায়ী এই অসভ্যতার জন্য, কেন ঘটেছে ঘটনা, ছাত্রলীগ বা হেফাজত, নিদেনপক্ষে   মেয়েটির পোষাকটাই দায়ী কিনা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য ইত্যাদি।
দেশে সরকারের প্রশাসন আছে, আইন-আদালত আছে। তাহলে এতোবড় একটা ঘটনা ঘটলো কেমন করে? ঘটনা যেটা ঘটেছে তার প্রতিবিধান কে করবে? প্রশাসন কি নববর্ষের দিনে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে নারীদের প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল?

নীলকর বেনিয়া থেকে পাকিস্তানী সেনা, রাজাকার, জমি-ভোটের জোতদার থেকে বিকৃত রুচির পুরুষদের  যৌন আক্রমণের শিকার এই দেশের নারীরা। পাহাড়ে, সমতলে, গ্রামে, শহরে, উপকন্ঠে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোথায় নেই এই নির্যাতন! জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে বা জমি থেকে পরিবারকে উচ্ছেদ করতে বা শুধুই লালসায় নারীকে আক্রমণ করা হয়েছে বারবার।

আজ আমরা বাংলা সংস্কৃতির কথা ভেবে আতংকিত হচ্ছি। আগামীবার পহেলা বৈশাখে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে কিনা, তেঁতুল হুজুরের ঠিকাদারী অনুযায়ী আমাদের নারীদের উপর আঘাত আসছে কিনা, এমনটাই ভাবছি আমরা। কিন্তু বাস্তবে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই রকম ঘটনা প্রকাশ্যে দুই একবার ঘটলেও নীরবে ঘটে চলেছে বছরের পর বছর। প্রতিবার বইমেলায়, পহেলা ফাল্গুনে, বৈশাখের উৎসবে, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে নির্যাতিত হয়ে শত শত কিশোরী, তরুণী মনের মধ্যে অপমানের বেদনা নিয়ে ঘরে ফিরে! কতজন ভয়ে গুটিয়ে গিয়ে আজীবনের জন্য পুরুষ বিদ্বেষী হয়ে উঠে!

একটা সুস্থ, রুচিশীল সমাজের জন্য দরকার মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ যা বহুলাংশে তৈরী হয় সাংস্কৃতিক  কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। বছরে দুইতিন দিন ঢাকঢোল বাজালেই সংস্কৃতির বিকাশ বা মনোবিকাশ  হয় না। একটা ঘুণে খাওয়া সমাজ ব্যবস্থায় বাস করছে এই দেশের জনগণ। এখানে শারীরীক খাবারের জোগান নিয়ে ব্যস্ত সবাই।

এই দেশে অধিক খাদ্য ফলাও কর্মসূচী আছে, শিক্ষা উন্নয়নের কর্মসূচী আছে, কিন্তু মনের বিকাশের  কোনো কর্মসূচী নেই। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য অপরাধের সাথে নারীর প্রতি আক্রমণ, অশালীন ইঙ্গিত আশংকাজনক হারে বেড়েছে। কি লেখায়, কি জবানে, কি বাস্তবে  নারীর অপমান এখন সাধারণ ঘটনা। যে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষিত হয় সেই সমাজে হত্যা, রাহাজানি যৌন নির্যাতন বন্ধ হবে না এটা বলাই বাহুল্য।

১৪২২ এর পহেলা বৈশাখের ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসন এখানে একেবারেই  ব্যর্থ হয়েছে। কোন্ কারণে কে ঘটনা ঘটিয়েছে তা দেখার দায়িত্ব জনগণের নয়, সরকারের। সরকার কঠোর হাতে যৌন দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে পদক্ষেপ নেবে, এই দাবি এখন গণদাবি হওয়া উচিত।
জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের এই কথাটা তীব্রভাবে আবারও উচ্চারণ করলাম।

 

শেয়ার করুন:
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.