থু থু দেই তোমাদের নপুংসকতায়!!

talakরীতা রায় মিঠু: আজ (১৫ এপ্রিল) সকাল আটটার পর যখন ফেসবুকে ঢুকলাম, হোম পেজে দুই একজনের পোস্ট দেখে থমকে গেলাম। ছবিতে অনেকগুলো পুরুষ চারদিকে, মাঝখানে বিবস্ত্র এক মেয়ে মাথা নীচু করে দুই হাত বুকের উপর আড়াআড়ি রেখে আপ্রাণ চেষ্টা করছে বুকের মাংসপিণ্ড দুটোকে পুরুষের থাবা থেকে বাঁচাতে। ( দুঃখিত কঠিন শব্দ ব্যবহার করার জন্য) পাত্তা দেইনি সংবাদটি কারণ সেই ছবির নীচেই দুই একজন কমেন্ট করেছে, ভুয়া ছবি, এটি মেয়ে নয়, ছেলে।

আমিও ভাবলাম, রেপ করে তো ইন্ডিয়ার পুরুষরা, এইজন্য তো বাংলাদেশের পুরুষরা আদর করে ইন্ডিয়াকে ‘রেন্ডিয়া, রেপিন্ডিয়া’ ডাকে। নিশ্চিন্তমনে ফেসবুক অফ করে ঘরের কাজে চলে গেছিলাম। চূলোয় শুটকি রান্না হচ্ছে, পান্তা করেছি। দুপুরে স্বামীকে পান্তা শুটকি খেতে দেবো, ঘর মুছে চকচকে করছি, ভাবছিলাম স্নান করে নতুন শাড়ি পরে সেজেগুজে ছবি তুলবো। কিন্তু মস্তিষ্কের কোথাও ফেসবুকে দেখা ছবিটা কুটকুট করছিল।

টিভি অন করা ছিল, ‘৭১ জার্নাল শুরু হয়েছে। স্নানে না গিয়ে টিভির সামনে বসে পড়লাম। এমন একটি ঘটনা যদি ঘটেই থাকে তাহলে ‘৭১ জার্নালে নিশ্চয়ই দেখাবে। মনে মনে চাইছিলাম, ঘটনা মিথ্যা হোক। বাংলাদেশের পুরুষরা সবাই সাধু, ওরা মেয়েদেরকে অনেক সম্মান করে। বাংলাদেশের পুরুষরা ইন্ডিয়ার পুরুষদের মত মেয়ে দেখলেই উসখুস করে না।

দেখাচ্ছিল রামপুরায় পুকুরের উপর তৈরী করা ঘর ধ্বসে ১১ জনের প্রাণহানির সংবাদ। মনে মনে ভাবলাম, তাই তো, বাংলাদেশে দালান ধসে পড়ে, ঘর ধসে পরে, গার্মেন্টস ফ্যাকটরি ধসে পড়ে মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে তো নারীরা রেপড হয় না। বাংলাদেশে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। ফেসবুকে ছবি যেটা দেখলাম, এটি নিশ্চয়ই ফটোশপ।

সাথে সাথে মিথিলা ফারজানা বলতে শুরু করলো, পহেলা বৈশাখের বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪ থেকে ১৫ জন নারীকে বিবস্ত্র করে তাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করা হয়েছে। মিথিলা জানালো, সেই মেয়েদেরকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন যে দুই তিনজন, তাদের মধ্যে লিটন নন্দীর ডান হাত ভেঙ্গে গেছে। মিথিলা তার অনুষ্ঠানে এনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ছাত্রনেতা লিটন নন্দীকে। ঘাড় থেকে ব্যান্ডেজে ঝুলানো ডানহাত লিটন নন্দীর মুখ থেকে যা শুনলাম, শুনে লজ্জায় ও ঘৃণায় দুই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

পুরুষ শোন, জামা কাপড়ের ভেতরে নারী এমন কিছু ঐশ্বর্য লুকিয়ে রাখে না। জামা কাপড়ের ভেতরে যা থাকে, তা নারীর দেহেরই অংশ, শুধুই মাংসপিণ্ড। জন্মের পর তুমি নারীর সেই মাংস পিণ্ড থেকে উৎসারিত ফল্গুধারা খেয়েই বেঁচেছিলে, বেঁচে থাকবে আগামীর শিশুরা।

রাস্তার মাঝে, ঘরের অন্ধকারে, ঝোপে ঝাড়ে, পুকুর পাড়ে নারীকে আঘাত করে কী সুখ পাও তোমরা?

ধিক পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত লক্ষ লক্ষ মানুষকে, তোমাদের চোখের সামনে ১৪/ ১৫ জন নারীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক নিপীড়ন করেছে, তোমরা কেউ এগিয়ে যাওনি মেয়েগুলোকে হায়েনার হাত থেকে বাঁচাতে। লিটন নন্দী এবং তাঁর দুই তিনজন সঙ্গী আপ্রাণ চেষ্টা করেছে মেয়েগুলোকে বাঁচাতে।
সেই ১৪ /১৫ জন মেয়েদের সকলেই কী লিটন নন্দীর মা-বোন ছিল?? তোমাদের কেউ ছিল না???

পুলিশ ভাই, আজ আপনাদের পক্ষে একটি কথাও বলবো না কারণ আপনিও সেই পুরুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যার, আপনিও পুরুষ।

থু থু দেই তোমাদের পৌরুষের গায়ে , থু থু দেই তোমাদের নপুংসকতায়!!

শেয়ার করুন:
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.