নাকের বদলে নরুণ চাই না

Kamaruzzamanকাবেরী গায়েন: একটি প্রচারণা চলছে কি চারিপাশে? কেমন যেন ফিসফাস। অনেকেই কথা বলছেন চুপে-চুপে। তারা যেন বলতে চাইছেন, কামারুজ্জামান যদি প্রাণভিক্ষা চায় রাষ্ট্রপতির কাছে, তাহলে যেহেতু তাকে অপরাধ স্বীকার করে নিতে হবে, সেটি-ই জামাতে ইসলামীর বড় নৈতিক পরাজয়। এই নিয়েই খুশি থাকা যেতে পারে। হচ্ছে কি এমন কোন সম্মতি আদায়ের চেষ্টা?

এমন কোন চেষ্টা যদি কোথাও চলে, আমি শুধু আমার তীব্র অসম্মতি জানিয়ে রাখছি।

একাত্তরের শেষেও এরা মহল্লায় ফিরে এসে কেঁদেছে, পা ধরে মাপ চেয়েছে। তাদের অনেককে মাপ করে দেয়াও হয়েছিলো। তার ফলাফল আমরা দেখেছি, দেখছি।

অতএব, প্রাণভিক্ষা চেয়ে সেই প্রাণ ফিরে পেয়ে ফের এইদেশের মানুষের জীবনের কৃষ্ণপক্ষকে আরো দীর্ঘায়িত করুক ‘বিধবা-পল্লী’ বানানো কামারুজ্জামানরা, এমন কে চাইবেন?

দুইদিন বয়সী শিশুকে নিয়ে হেঁটে দুশো মাইল পাড়ি দিয়ে শরণার্থী শিবিরে পৌঁছেছিলেন যে মা, তাঁর শিশুটি আক্ষরিক অর্থে না খেতে পেয়ে মরে গিয়েছিলো বলে সেই মা ইছামতি নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন তার সন্তানকে। এমন ১৯৭১ যারা তৈরি করেছে, কামারুজ্জামান তাদের নেতা। কামারুজ্জামানরা সেই ১৯৭১ সালের নির্মাতা যখন  নমঃশুদ্র গ্রামটির প্রত্যেকটি বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হলে রাতের অন্ধকারে নতমুখে ভিন দেশের শরণার্থী শিবিরে পায়ে হেঁটে যাত্রা করেছিলেন ঘটি-বাটি-খাবার-কাপড়হীন নিঃস্ব মানুষেরা। স্বাধীনতার পরে ফিরে এসে এতো বছরেও যারা তুলতে পারেননি নিজেদের সেই পুরনো বাড়ি ।

আমার কাছে প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীর জীবনের জন্য মানবতা দেখানো যুদ্ধের ভেতর দিয়ে যাওয়া কোটি মানুষের প্রতি বিরাট বিদ্রুপ, ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতা।

নাকের বদলে নরুণ পেয়ে খুশি হবার মতো বড় মানবতাবাদী আমি এ’জীবনে হতে পারলাম না  বলে দুঃখিত নই। ফের  কোনো জীবন পেলে চেষ্টা করে দেখা যাবে।

নির্ভয়ার মৃত্যুর পরে ভারতে ধর্ষণ-বিরোধী আন্দোলনকারীদের সুপারিশ ছিলো, কোনো ধর্ষণ কেসের প্রমাণিত আসামীর শাস্তি কমানোর এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির থাকবে না। এই দেশেও আইন করা হোক, যুদ্ধাপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া কারো শাস্তি কমানোর এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির থাকবে না, শুধু এই একটিমাত্র ক্ষেত্রে।

নাকের বদলে নরুণ চাই না।

কামারুজ্জামানদের ফাঁসি চাই।

এবং পবিত্র জুম্মার দিনে ফাঁসিতে ঝুলবার আকাঙ্ক্ষার রাজনীতিও কি জানা নেই আমাদের? মসজিদে ঢুকে সেজদারত ইমামকে হত্যার ১৯৭১ কেউ ভোলেনি।

তার ফাঁসি হতে হবে ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধী হিসেবে, একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম নেতা হিসেবে নয়, যা পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কার সাথে কোন সংকেত যোগ করে কী রাজনীতি করা হয়, সেটির ফাঁদ নিশ্চয় আমাদের অজানা নয়।

 

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.