জীবন যখন মুচকি হাসে

Women in chainsহাসিনা আকতার নিগার: নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা, এই শব্দগুলোকে জীবনের পথে মাঝে মাঝে বড় প্রশ্নবিদ্ধ করে নিজেকে। সমাজের চলতি নিয়মে পথ চলতে গিয়ে একজন নারী যখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে, তখন সে হয়ে উঠে সমাজের জন্য অন্যরকম উদাহরণ। প্রতিটি পদে পদে চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে রেহাই নাই তার। তাকে বাহবা না দেয়া হোক, অন্তত প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে অনেকটাই ইতস্তত বোধ করে এগিয়ে যাওয়া এই সমাজ।

নারীর এগিযে যাওয়ার পথ আজো মসৃণ হয়নি। সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে সত্যিকারভাবে নারী একজন মানুষ হিসাবে তার মযার্দা পাবে কিনা তা এখনো অজানা। কর্মজীবনে নারীদের জীবনে সফলতার প্রাপ্তিটা অনেক সময়ই হতাশার চাদরে ঢাকা পড়ে।

খুব সহজ করে যদি বলা হয়, তাহলে দেখা যায়, একজন পুরুষ যখন তার জীবনে সফল হয় কোন কাজে তখন পরিবার, সমাজ ,বন্ধু-বান্ধব বলাবলি করে যে, এটা তার পরিশ্রমের ফসল। আর একই  কাজ করে নারী যখন সফলতা অর্জন করে তখন গল্পটা হয়ে যায় ভিন্ন।

পরিশ্রম আর মেধার  বদলে আলোচনায় মুখ্য ভূমিকা পালন তার শারীরিক অবয়বসহ নানা ধরনের মুখরোচক  আলাপ। কিন্তু মেধাতে নারী যে পুরুষের চেয়ে ভালো করতে পারে তা হয়ে যায় গৌন।

ঠিক এমন পরিস্থিতে একজন নারী মানসিকভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে বেগ পেতে হয় তা হয়ত অজানাই থেকে যায়। তা হয়ে যায় তার একান্ত আপন কথন।
আর এই একান্ত কথনটা আরো বেশী যন্ত্রণাদায়ক হয় যখন সেই নারীর জীবন পথ হয় একলা চলার। বাস্তবতার যুদ্ধকে জয় করতে গিয়ে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় আপন পরিচয়ে। কিন্তু  তার পথ  সহজ নয়।

বিশেষ করে আমাদের সমাজের বাইরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াতে এখনও অনেকক্ষেত্রেই মুখ্য ভূমিকা পালন করে স্বামীর পরিচয়। প্রচলিত একটা কথা আছে ,‘নারীর আসলে নিজের কোন ঠিকানা নেই। জন্ম নেয় বাবার ঘরে, এরপর  স্বামীর ঘর, জীবন সায়াহ্নে ছেলের ঘর’।

আর সেই নারী সকল প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে নিজ পরিচয়ে কিছু করবে তা এখনো ভাবতে পারে না তথাকথিত আধুনিকতায় এগিয়ে চলা পরিবার, সমাজ কিংবা দেশ।
একজন নারী যতভাবেই প্রতিষ্ঠিত হোক না কেন তার স্বামীর পরিচয়টি যেন আসল পরিচয় । এটা যে শুধু মানুষের আচরণগত বিষয় তাই নয়। দাপ্তরিক কাজের প্রক্রিয়াগত পরিচয়ে যদি বলা হয় স্বামীর পরিচয় কেন, আমি কি আমার জন্য যথেষ্ট নই? তবে এর কোন উত্তর নেই। বলবে, এটা একটি নিয়ম মাফিক কাজ।
জীবনের সংগ্রামের কন্টকময় পথে আত্মপরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকার এমন অবস্থায় জীবন আসলে মুচকি হাসি দিয়ে বলে ‘তোমার একমাত্র পরিচয় তুমি নারী। যতই বলো তোমার নাম- ঠিকানা তোমার, তা মানবে না সমাজ আর সমাজের অনুশাসন।’

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.