আফগান নারীকে পুড়িয়ে হত্যা, কবর দিল নারীরা মিলে

Kabul Womenউইমেন চ্যাপ্টার: জিনসের প্যান্ট পরা একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মার খাচ্ছে, সারামুখ তার রক্তে ভেসে যাচ্ছে, চিৎকার করার শেষ শক্তিও তার নেই। পুরো দৃশ্যটি লোমহর্ষক। আর গোল হয়ে সেই তামাশা দেখছে উপস্থিত সবাই। কেউ এগিয়ে আসেনি মেয়েটিকে বাঁচাতে। একপর্যায়ে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করেও ক্ষান্ত হয়নি ধর্মান্ধ মানুষগুলো, পুড়িয়ে মারলো শেষপর্যন্ত।

ঘটনাটি ঘটেছে আফগানিস্তানে। মেয়েটির দোষ ছিল, সে নাকি কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। কিন্তু কেউ এই ঘটনা দেখেছে বলে দাবি করেনি। অনেকেই দাবি করেছে, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু এরও সপক্ষেও কোন প্রমাণ মেলেনি।

মেয়েটির নাম ফারখুন্দা। রোববার তাকে দাফন করেছেন দেশটিরই বেশ কয়েকজন নারী অধিকার কর্মী। তার আগে তার কফিনটিও তারাই বহন করে নিয়ে যায়।

ফেসবুক পেইজে খবরটি শেয়ার করে নিলুফার রাহমান নামের একক আফগান মেয়ে লিখেছেন, ‘ঘটনাটি খুবই দু:খজনক, মেয়েটি সম্পূর্ণ নির্দোষ, যে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে, সেই প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি’। অনেকেই এই ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শংকা প্রকাশ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার কাবুলে খোদ পুলিশের সামনেই বর্বর এ ঘটনাটি ঘটে। মোবাইল ফোনের চিত্রে দেখা গেছে, পুলিশ কাছেই দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ২৭ বছর বয়সী মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। তবে তার শেষকৃত্যে এসে অনেকেই বলেছেন, অভিযোগটি মোটেও সত্য নয়। জেনারেল মোহাম্মদ জাহির সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সব ডকুমেন্ট এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করে দেখেছেন, কোথাও ফারখুন্দা কোরআন পুড়িয়েছেন বলে তথ্য মেলেনি। ফারখুন্দা সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন তিনি।

রোববার তার শেষকৃত্যে কয়েকশ মানুষ জড়ো হন। বৃহস্পতিবার একদল মানুষ ফারখুন্দার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে প্রথমে প্রচণ্ড মারধর করে। একপর্যায়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়, এবং কাবুল নদীতে ফেলে দেয়। এমনটিই জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ফারখুন্দার কোরআন শরীফ পোড়ানোর অভিযোগের কথা বললেও দেশটির পুলিশ কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দেন। এই ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বর্বরোচিত’ বলে অভিহিত করে এর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মি. ঘানি বলেন, এই ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। দেশটির পুলিশ এখন তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশি মনোযোগী। সুতরাং কমিউনিটি পুলিশ ব্যবস্থা চালু করতে হবে এসব ঘটনা মোকাবিলায়। বিশ্বজুড়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে মি. ঘানি এই মন্তব্য করেন।

আফগানিস্তানের সংবিধানে নারীর সমতার কথা বলা হলেও নারীদের অধিকার সেখানে রক্ষিত হয় না বললেই চলে। প্রায়শই নানা নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়। নারীর বিরুদ্ধে যে কোনো সহিংসতারই বিচার সেখানে হয় না।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.