স্টিল ইটস অ্যা মেন্স ওয়ার্ল্ড!

mens-world-3তানিয়া মোর্শেদ: You could be a teacher and a male chauvinist!

You could be a doctor and a male chauvinist!

You could be an engineer and a male chauvinist!

You could be a scientist and a male chauvinist!

You could be a law maker and a male chauvinist!

You could be a writer and a male chauvinist!

You could be a poet and a male chauvinist!

You could be a musician and a male chauvinist!

You could be a painter and a male chauvinist!

You could be famous and a male chauvinist!

You could be an atheist and a male chauvinist!

You could be a believer and a male chauvinist!

You could be a “moderate religious” and a male chauvinist!

You could be a religious and

Must be a male chauvinist!

You could be a religious fanatic and

Must be a male chauvinist!

You could be a male and a male chauvinist!

You could be a female and a male chauvinist!

(The list goes on  and on ………….)

Or you could be “anyone” and NOT a male chauvinist!

The choice is yours!!

(not inspired but angered by a post on Facebook)

………..লেখাটি ফেইসবুকে দেবার পরদিন ঘনিষ্ট বন্ধুর ফোন, “কে তোকে রাগালো?” অনেকক্ষণ চললো বন্ধুর সাথে কথোপকথন। আমাদের দু’জনের মা কর্মজীবী ছিলেন। তাঁদের কর্ম জীবন যখন শুরু তখন বাংলাদেশে খুব কম নারীই কর্ম জগতে প্রবেশ করেছেন। স্বাধীনতার আগে। বন্ধুর মা আমার মায়ের থেকে বয়সে বড় হওয়াতে তাঁর কর্মজীবন আগে শুরু। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমার মা এনজিও-তে। এই শব্দ শুনলে আজকাল মানুষের প্রধানত যে ধারণা হয় সে ধরনের নয়। নারী ও শিশু ছিল তাঁর কর্ম জীবনের পুরোটা জুড়ে। এ নিয়ে অনেক আগে লিখেছি। পুনরাবৃত্তি করবো না এখন। আমরা দু’ বন্ধু ছোট্টবেলা থেকে মায়েদের দেখেছি বাবাদের মত ব্যস্ত। কখনো বাবা-মা এর ভূমিকাকে আলাদা হিসাবে ভাবতে হয়নি। মানে পাল্লা দিয়ে মাপতে হয়নি, কার গুরুত্ব কত সংসারে। বাবাকে কখনো দেখিনি মাকে নারী বলে কোনো অবমাননাকর আচরণ করতে বা কথা বলতে। এই পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমার মন-মানসিকতা অনেকের থেকেই আলাদা হবে বই কী!

আমার মা কাজের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং একাধিক দেশে একাধিকবার গেছেন। বাবা আমাদের দেখে রেখেছেন। অফিস থেকে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হওয়া ছিল খুবই নিয়মিত ব্যাপার। কোনো অপ্রিয় কথা বা কিছুই ঘটেনি আমাদের বাড়ীতে। চৌদ্দটি জেলা জুড়ে ছিল তাঁর কর্মক্ষেত্র। আমার মায়ের কর্ম জীবন প্রায়  ৪০ বৎসরের।

মূল কথায় ফিরে আসি। ফেসবুকে কোনো বন্ধু কারো পোস্টে মন্তব্য করলে বা লাইক দিলে তা দেখা যায়। এভাবে অনেক মানুষের লেখা চোখে পড়ে, যারা বন্ধু নন তাদেরও। সেভাবেই কিছুদিন আগে এক আলোচনা চোখে পড়ে। আলোচকেরা প্রায় সবাই লেখক, বই-এর পাঠক, পরিচিত ব্লগার ইত্যাদি। মানে আলোকিত মানুষ, ধারণা করা যায়। এদের প্রায় সবার নাম অন্তত পরিচিত আমার কাছে, একটি গ্রুপের কারণে।

প্রগতিশীল এক মানুষ শুরু করেছিলেন বিষয়টি। সম্ভবত একজন লেখক বইমেলায় তাঁর কি কি বই যাচ্ছে এনিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তাঁর বন্ধু ঠাট্টা করে লিখলেন, বই-এর সাথে বান্ধবী ফ্রি হিসাবে থাকবে কি না? এরপর আরো অনেকেই যুক্ত হোন এই আলাপে। প্রশ্ন চলে, কয়টা বই-এর সাথে কয়টা বান্ধবী ফ্রি! ইত্যাদি! লেখাগুলো পড়ে মনে হয়েছিল, এঁরাই বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতিনিধি? লেখক নিজে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বটে। তার পরিচিতি ব্যাপক। এর বেশী বলতে চাই না। তিনি নিজেও সেই ঠাট্টায় ভালো মতই যোগ দিয়েছিলেন।

না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই নারীর অধিকারে সচেতন হবেন এমন কখনোই নয়। আমার বাবাদের সময়েও এই কথা সত্য ছিল।

তাঁদের সময়ের একজন, বর্তমানে বিখ্যাত লেখক, গবেষক, খুব পরিচিত মানুষ; সে সময়ে শিক্ষকদের ক্লাবে যাবার সময় বৌ-বাচ্চাদের বাইরে থেকে তালা দিয়ে যেতেন! যুক্তি, ফিরতে রাত হবে, ঘুম ভাঙ্গাতে চান না! একবারো মনে হতো না হঠাৎ যদি কেউ অসুস্থ হয়ে যায় বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটে (যেমন আগুন ধরে) তাহলে মানুষগুলো বের হবে কি ভাবে! তখন ল্যান্ড ফোনই খুব কম মানুষের ঘরে ছিল! এই তালা দিয়ে যাবার কথা একাধিক মানুষের কাছে শুনেছি। আমাদের সাথে পারিবারিক ভাবে যাতায়াত ছিল না।

সেদিন বন্ধুটিকে যখন বলেছিলাম, সে বলেছিল যে, এই মানুষের বৌ-কে ব্যক্তিত্বহীন মনে হয়েছে। মানে বরের আদলে চলতেন, এখনো তাই নিশ্চয়! (বন্ধুর পরিবারের সাথে ভালো যোগাযোগ ছিল।) এটা অনেক নামী মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিখ্যাত মানুষের বৌ খ্যাতির জৌলুষে অনেক সময় দেখতে ব্যর্থ হোন তার বরের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। বাংলাদেশে অনেক নামকরা লেখক, কবি, শিল্পী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, আইনজীবী সহ বিভিন্ন মানুষ পাওয়া যাবে যারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে ভীষণ প্রতিভাবান, প্রতিষ্ঠিত, পরিচিত, জনপ্রিয় কিন্তু মানসিকতায় ভীষণ ভাবে পুরুষতান্ত্রিক। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো পৃথিবীর ক্ষেত্রেই প্রযেজ্য। আইনস্টাইন থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ এই দোষে দোষী।

একজন সাধারণ মানুষের অপরাধও অপরাধ, একজন নামী মানুষের অপরাধও অপরাধ। আইনের চোখে সবাই সমান। নামী মানুষদের অপরাধের কিছু অতিরিক্ত দিক আছে। তারা অনুকরণীয় হোন হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ মানুষের। তাদের একটি কথা অনেকের মন প্রভাবিত করবার ক্ষমতা রাখে। আবার তাদের নামের কারণে অপরাধ দৃষ্টির আড়ালে থাকে, জানা থাকলেও সমাজ কিছু বলে না ইত্যাদি। আর খ্যাতিবান মানুষদের কাছে সবাই যান। অনেক নারীও যাবেন। খ্যাতিমান মানুষটির যদি নারীকে যৌন খেলনা হিসাবে দেখবার ইচ্ছে, অভ্যেস থাকে তাহলে তো কথাই নেই! তার শিকার হন কতজন তা কে জানে! আর যে সমাজ যে কোনো কারণে, ইভ টিজিং থেকে শুরু করে যৌন হয়রানি  ও ধর্ষণের জন্যও, নারীকেই দায়ী করে সেখানে ক’জন নারী বলবেন বিখ্যাত মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হবার কথা? বলে কি নিজের জীবন, ভবিষ্যত সব নষ্ট করবেন?

দেশ-বিদেশে অসংখ্য উদাহরণ আছে। বর্তমানে বিখ্যাত অভিনেতা বিল কসবির উদাহরণ চলছে। বাংলাদেশে কোনো নারী কি পারবে এভাবে কোনো বিখ্যাত মানুষের এরকম আচরণ সবার সামনে নিয়ে আসতে? সে পথ কেমন তা দু’ একজন হেঁটে দেখেছেন আগেই! যেই শিক্ষকের কথা লিখেছি, তালাবদ্ধ করে যেতেন বৌ বাচ্চাদের, তার সম্পর্কে তার এক প্রাক্তন স্টুডেন্ট লিখেছিলেন ফেসবুকেরই অন্য এক আলোচনায়। অনেক বৎসর আগের ঘটনা। না এখনো বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর অনেক জায়গায়ই ঘটে চলেছে শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী যৌন হয়রানি। যে দেশে আইনের প্রয়োগ আছে, নেই নির্যাতিত নারীর অবমাননা, সেখানে অনেকেই নীরবতা ভাঙ্গেন, হোক তা অনেক বৎসর পরও!

নারীর অধিকারে সচেতন করে শিশু  বয়স থেকেই গড়ে তুলতে হবে প্রতিটি শিশুকেই, মেয়ে এবং ছেলে। কাজটা সবাইকে ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। একজন মানবতাবাদী হতে হলে তাকে নারীবাদ জেনে বুঝে, নারীবাদী হয়েই মানবতাবাদী হতে হয়। হয়ত একদিন বলতে পারবো, ইটস অ্যা ওয়ার্ল্ড ফর অল!

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.