আন্তর্জাতিক নারী সাহসিকার অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

Awardউইমেন চ্যাপ্টার: বাংলাদেশের নারী সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন নারী তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সাহসিকতার পরিচয় দেয়ায় এবছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ পুরস্কার তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

২০০৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব নারী তাদের ব্যতিক্রমধর্মী কাজ, সাহস এবং মানবাধিকার রক্ষা, নারীর সমানাধিকার এবং সামাজিক উন্নতির ক্ষেত্রে অবদান রাখেন, বিশেষ করে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন, তাদেরকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়ে থাকে। বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতেই মূলত এই অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়।

এ বছর যারা এই অ্যাওয়ার্ড পেলেন:

Sharmeen_150_1নাদিয়া শারমিন, সাংবাদিক (বাংলাদেশ): নাদিয়া শারমিন একজন নিবেদিত সাংবাদিক এবং নারী অধিকার রক্ষায় সবসময়ই সোচ্চার। স্কুলে থাকতেই নাদিয়া একজন সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তার সাংবাদিকতায় পদার্পণ। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি মৌলবাদীদের রোষানলে পড়ে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হন। সমাবেশের ৫০ থেকে ৬০ জন লোক মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়, লাথি মমারে, মাটিতে ফেলে দেয়। এতে শারীরিকভাবে তিনি আহত হন। কিন্তু নিজ কর্মস্থল এর দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তার চিকিৎসার খরচ থেকে তাকে বঞ্চিত করে, এক পর্যায়ে চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করে। স্থানীয় পুলিশ অজ্ঞাত ৬০ জনের নামে মামলা নিলেও আজ প্রায় দুবছর হয়ে গেলেও কাউকে ধরা হয়নি, এমনকি সনাক্তও করা হয়নি। মিজ শারমিন এখন অন্য এক চ্যানেলে ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন।

Rahmani_150_1ক্যাপ্টেন নিলুফার রাহমানি, ক্যাপ্টেন, আফগান এয়ার ফোর্স (আফগানিস্তান): আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নারী পাইলট নিলুফার। মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিলুফার মিডিয়াতে তরুণ মেয়েদের আফগান এয়ার ফোর্সে নিয়োগের ঘোষণা শুনেছিলেন। ঘোষণায় পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগও ছিল। এর পরপরই তিনি অফিসার প্রশিক্ষণে তালিকাভুক্ত হন এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে গ্রাজুয়েট হন। ২০১২ সালের জুলাই মাসে মাত্র দুবছর পরই ক্যাপ্টেন রাহমানি ফ্লাইট স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন এবং এককভাবে সেপ্টেম্বরে সিঙ্গেল ইঞ্জিনের চার আসন বিশিষ্ট সেসনা ১৮২ বিমান চালনা শেষ করেন। তিনি তার দক্ষতা বাড়ানোর সবগুলো ধাপই পেরিয়ে যেতে থাকেন একের পর এক, অনেক বাধার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে যখন তিনি অ্যাডভান্সড ফ্লাইট ট্রেনিং শেষ করে সেনাবাহিনীর কার্গো বিমান সি-২০৮ চালানোর জন্য মনোনীত হন, তখন তিনি বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেন। দুর্ভাগ্যবশত তার এই সংবাদ প্রকাশের পর ক্যাপ্টেন রাহমানি ও তার পরিবার তালেবানের কাছ থেকে হুমকি পেতে শুরু করে, হুমকি থেকে বাদ যায় না রাহমানির বিয়েসূত্রে পরিবারের সদস্যরাও। ওই পরিবার তার ক্যারিয়ার এবং উচ্চাভিলাষকে অনুমোদন দেয় না। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার পরিবারকে নিতে হয় অতিরিক্ত সতর্কতা এবং বেশ কয়েকবারই আফগানিস্তানের ভিতরেই তাদের জায়গা বদলাতে হয় নিরাপত্তার খাতিরে। এসব হুমকি সত্ত্বেও রাহমানি তার ইচ্ছাপূরণে অবিচল থাকেন এবং আফগান এয়ারফোর্সে ক্যারিয়ার ধরে রাখেন। নিজের পাশাপাশি অন্য মেয়েরাও যাতে এই পেশায় আসে, সে ব্যাপারে তিনি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

salvatierra_150_1রোজা জুলিয়েতা মন্তানো সালভাতিয়েরা, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক(বলিভিয়া): এনজিও অফিসিনা জুরিদিকা পারা লা মুজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তিনি। স্বৈরাশাসনামলে কারাভোগ করতে হয়েছে তাকে। সুশীল সমাজের মারকুটে নারী হিসেবে তিনি স্বদেশে বেশ পরিচিত। বলিভিয়ার নারীদের অধিকার আদায়ে সবসময় তিনি সোচ্চার। তার এনজিও’র মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধর্ষণের ঘটনা, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনী সহায়তা দিয়ে থাকেন। এ পর্যন্ত তার সংস্থা বলিভিয়ায় তিন হাজারেরও বেশি নারীকে সহায়তা দিয়েছে এবং গত ৩০ বছর ধরে দেশটিতে নারী অধিকার আদায়ে যেসব আইন প্রণীত হয়েছে, সবখানেই মিজ সালভাতিয়েরার অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর অ্যাডভোকেসির কারণেই দেশটিতে ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। পাশাপাশি বলিভিয়ার ২০১৫-২০২০ সালের আইনসভাটিকে বিশ্বের অন্যতম নারীর সমতাভিত্তিক নিশ্চিত করা হয়েছে।

Phyu_150_1মে সাবে ফিউ, পরিচালক, জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি নেটওয়ার্ক (মিয়ানমার): নারীর প্রতি বৈষম্য, গোষ্ঠীগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অবসানে তাঁর এনজিও নেতৃত্ব দিচ্ছে। ৯০টিরও বেশি সংস্থার সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে তাঁর জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি নেটওয়ার্ক নামের এই সংগঠনটি। কাচিন প্রদেশের সংখ্যালঘু নারীদের প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন কাচিন পিস নেটওয়ার্ক এবং কাচিন উইমেন পিচ নেটওয়ার্ক। সরকার এবং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের সবচেয়ে বেশি কুফল বইছেন কাচিনের নারীরা। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা দমনে তাঁর প্রচেষ্টা শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছে অনেকক্ষেত্রে। আইনী প্রক্রিয়ায় বেশকিছু পরিবর্তনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি হয়রানি এবং হুমকির মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাকে এসব কাজের জন্য। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফিউ এর সংকল্পবদ্ধ দৃঢ়তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও নমনীয় হতে বাধ্য করেছে। নারী অধিকার সংরক্ষণে নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

Epaye_150_1বিয়াত্রিস এপায়ে, প্রেসিডেন্ট, ফাউন্ডেশন ভোখ দু সোয়ার (সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক): বিয়াত্রিস এপায়ের প্রিয় স্বদেশ নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠীর খাবারের নিশ্চয়তা নেই, এক পঞ্চমাংশেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অনবরত হুমকি এবং দেশের ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের হুমকির মুখে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারপার্সন এবং সরকারের সাবেক মন্ত্রী বিয়াত্রিস বিভিন্ন সম্মেলন আয়োজন করেন, রেডিও ইন্টারভিউয়ে অংশ নেন এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করে দেশের সংকট তুলে ধরেন। ন্যাশনাল ডায়ালগের প্রিপারেটরি কমিটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিয়াত্রিস সশস্ত্র সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমঝোতায় আসতে তিনি বিশাল ভূমিকা রাখেন। তাঁর দাতব্য সংস্থাটি পথশিশুদের নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যেসব শিশু নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছে, পরিত্যক্ত শিশু যাদের আশ্রয় প্রয়োজন, যাদেরকে যৌনকাজে বাধ্য করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের সবার নিরাপদ আশ্রয় তাঁর ফাউন্ডেশন। এছাড়াও তিনি সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সুশীল সমাজের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অবদান রেখে চলেছেন।

Adnan_150_1তাবাসসুম আদনান, কোয়েন্দো জিরগা (সোয়াত, পাকিস্তান): সাবেক তালেবান-নিয়ন্ত্রিত সোয়াত উপত্যকা থেকে আসা তাবাসসুম আদনান নারী অধিকার আদায়ে একজন অন্যতম সোচ্চার ব্যক্তি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায়। ২০ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর আদনান তার স্বামীকে তালাক দেন। এই ঘটনায় তিনি তার সন্তান, বাড়ি, অর্থসম্পদ সব হারান। সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত এবং দারিদ্র্যের মাঝে থেকে তিনি তার নিজের এনজিও খোয়েন্দো জিরগা অথবা সিস্টার্স কাউন্সিল শুরু করেন। নারীদের জন্য এটাই ছিল প্রথম একটি আলাদা সংগঠন। জিরগার প্রধান কাজ ছিল সাপ্তাহিক বৈঠকের আয়োজন করা, যেখানে অনার কিলিং, এসিড হামলা এবং অপরাধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নারীদের অন্যদের হাতে তুলে দেয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা, তাদের নিরাপত্তা, ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজও হয়ে থাকে এই জিরগায়। সহিংসতার শিকার নারীদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দেয়া ছাড়াও নারী উন্নয়নে নিয়মিতভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের আয়োজন করে জিরগা। শিশু ধর্ষণের একটি ঘটনায় মিজ আদনানের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে পশতুন ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে তিনি গ্রান্ড মালে জিরগায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। নানারকম হুমকি সত্ত্বেও মিজ আদনান তাঁর কাজে অবিচল।

syria_chourbaji_150_1মাইদ চৌরবাজি, এক্সটার্নাল রিলেশন্স ডিরেক্টর, উইমেন নাউ ফর ডেভেলপমেন্ট সেন্টারস (সিরিয়া): রাজনীতি এবং শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্দী নারীদের রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন মাইদ চৌরবাজি। ২০১১ সালে সিরিয়ায় যখন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার দাবিটি সামনে চলে আসে, তখন মিজ চৌরবাজি নিজ শহর দারায়া থেকে সংস্কার এবং পরিবর্তনের দাবিতে নেতৃত্ব দেন। আসাদ সরকার যখন মানবাধিকার কর্মীদের বন্দী করতে শুরু করে, তিনি তখন কারাবন্দীদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন। হাজার হাজার বন্দীর মুক্তির দাবিতে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তাকে বন্দীও হতে হয়। কিন্তু তিনি সরে দাঁড়াননি, ভেঙেও পড়েননি। তিনি অন্য বন্দীদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকত্ব বিষয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করেন। এর ফলস্বরূপ সুবিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ১৫০ জন নারী বন্দীকে ধর্মঘটে যেতে উৎসাহিত করতে পারেন। অহিংস এই তৎপরতা আসাদ সরকারকে বাধ্য করে বন্দী নারীদের আদালতের সুবিধা পেতে। পরবর্তীকে মিজ চৌরবাজিসহ ৮৩ জন নারী মুক্তি পান। তবে এজন্য তাকে সিরিয়া ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তিনি আশ্রয় নেন লেবাননে। আজও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বন্দীদের অধিকার আদায়ে এবং সিরিয়ার নারীদের কণ্ঠ যাতে পৌঁছাতে পারে বিশ্বের সব জায়গায় তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লেবাননে উইমেন নাউ ফর ডেভেলপমেন্ট সেন্টারস এর জনসংযোগ পরিচালক হিসেবে মিজ চৌরবাজি সিরিয় নারীদের তাদের কমিউনিটিতে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করছেন, স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে নারীদের প্রস্তুত করছেন।

Tchecola_150_1মেরি ক্লেয়ার চেকোলা, এমারজেন্সি রুম নার্স, ডনকা হসপিটাল(গিনি): গিনির একটি ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দা। যিনি তার পরিবারের প্রথম শিক্ষিত নারী। চাইলেই তিনি ডাক্তার হতে পারতেন। তবে বেছে নিয়েছেন সেবিকা পেশাকে। তাঁর ভাষায়, ‘এই পেশায় নিজের হাতের স্পর্শে সেবা করা যায়’। ২০১৪ সালের জুলাই মাসের দিকে গিনিতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি কাজ করছিলেন গিনির রাজধানী কনাক্রেতে অবস্থিত ডনকা হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে শুধুমাত্র ডাক্তারদের মেডিক্যাল গ্লভস দেওয়া হতো। খালি হাতে রোগীর সেবা করতে গিয়েই ইবোলা ভাইরাস তাকে পেয়ে বসে। তখনও ইবোলার সংক্রমণের বিষয়ে বিস্তর তথ্য তাদের কাছে ছিলো না। আর ইবোলা ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গগুলো অন্যান্য অসুখের উপসর্গের সঙ্গে মিলে যায় দেখে তিনিও তেমন একটা গা করেননি। তবে তার সন্দেহ ঘনীভূত হলে তিনি নিজেকে টেস্ট করান। এরপর তার শরীরে ইবোলা ধরা পড়লে নিজ থেকেই পরিবার ও সহকর্মীদের কাছ থেকে দূরে সরে যান। চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ্ হন। সমস্যার সৃষ্টি হলো সুস্থ্ হওয়ার পরে। বাড়িতে ফিরলে তার বাড়ির মালিক তার কাছে আর বাড়ি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। যেন ইবোলা হওয়া মানুষেরা অচ্ছুত।  এরপর থেকেই শুরু হয় তার অন্যরকম লড়াই। ইবোলা থেকে বেঁচে আসা মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সেই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন তার সেবিকার পেশাটিও।

Osakabe_150_1সায়াকা ওসাকাবে, প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিনিধি, মাতাহারা নেট (জাপান): জাপানে কর্মক্ষেত্রে নারী এবং পরিবারকে কিভাবে যূথবদ্ধ করা যায় এ নিয়ে সংস্কার চেয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেন সায়াকা ওসাকাবে। মাতাহারা নেট নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যা কর্মক্ষেত্রে প্রসূতী হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। জাপানে সাধারণত গর্ভাবস্থায় নারীদের হয়রানি করা হতো অথবা ছাঁটাই করা হতো। তিনিও বাদ যাননি এ অবস্থা থেকে। প্রচণ্ড মানসিক চাপে ওসাকাবের দু’বার গর্ভপাত হয়। এরপর তিনি আইনের আশ্রয় নেন এবং ‘মেটারনিটি হ্যারেসমেন্ট-মাতাহারা’ নামের এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। যার একটি মামলায় ২০১৪ সালের অক্টোবর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত প্রসূতীকালীন হয়রানির বিরুদ্ধে রুল জারি করে। তার অদম্য সাহসিকতায় জাপান সরকার এবছর ২৩ জানুয়ারি এক নোটিশ জারি করে প্রসূতিকালীন চাকরিজীবী মা’দের ছাঁটাই বা হয়রানি করার সংস্কৃতি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

Xharra_150_1জেরি আরবানা জারা, এডিটর ইন চিফ (কসোভো): সার্বিয়া থেকে ২০০৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন করা দক্ষিণপূর্ব ইউরোপের ছোট্ট দেশ কসোভোর শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘কসোভো আরবানা জারা’র প্রধান সম্পাদক, জেরি আরবানা জারার রিপোর্টগুলো দেশটিতে গণতন্ত্রের আগমনের পথ সুগম করেছে। তার রিপোর্টে উঠে এসেছে কিভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদ কসোভো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে বাজে প্রভাব ফেলছে। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে উগ্রবাদীরা কসোভোকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের অর্থের উৎস; এনজিও ও স্থানীয় ইমামদের সঙ্গে বিদেশের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিস্তারিত প্রক্রিয়া তার প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসে। এরপর থেকে তিনি নানাভাবে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে জারা থেমে যাননি। তিনি দেশটির সরকারী সংস্থাগুলোতে অনিয়ম ও বড় বড় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্টিং করে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমান প্রজন্মে সাহসী সাংবাদিক তৈরির জন্য কাজ করছেন। যারা সত্যকে সামনে আনতে বদ্ধপরিকর হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.