দিল্লি ধর্ষণ: প্রামাণ্য চিত্রের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা

Rapistsউইমেন চ্যাপ্টার: দিল্লির আলোচিত ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাতকারসহ তৈরি প্রামাণ্য চিত্রটির সম্প্রচার বন্ধে আদালত রুল জারি করেছে। এছাড়া সাক্ষাতকারটি প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রেও আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই ঘটনায় ভারতে আবারও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে একজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা কি করে কারাগারের ভিতরে গিয়ে মুকেশ সিংয়ের সাক্ষাতকার নিতে পেরেছেন, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকার।

দিল্লির ‘নির্ভয়া’ ধর্ষণের ঘটনা কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল দু বছর আগে। ২৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে মৃতুদণ্ড দেয় আদালত। মুকেশ সিং তাদের একজন। সে ওই প্রামাণ্য চিত্রের সাক্ষাতকারে বলে যে, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির উচিত ছিল না ঘটনায় বাধা দেয়া। তার উচিত ছিল সায় দেয়া, তাহলে একে একে ধর্ষণ সেরে তাকে ছেড়ে দেয়া হতো। তাছাড়া, রাত-বিরেতে মেয়েরা ঘরের বাইরে গেলে এমন ঘটনার শিকার হতে পারে বলেও সাফাই গায় মুকেশ সিং’। তার এই বক্তব্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

চলচ্চিত্র নির্মাতা লেসলি উডউইন এর এই সাক্ষাতকারটি ‘ভারতের কন্যা’ শীর্ষক বিবিসি স্টোরিভিলে ডকুমেন্টারিতে আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রদর্শিত হওয়ার কথা। এছাড়া ভারতের এনডিটিভিতেও এটি প্রদর্শনের কথা ছিল।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেন এবং তিনি তিহার জেল এর মহা পরিচালকের সাথে কথা বলে জরুরি প্রতিবেদন চেয়েছেন এ ব্যাপারে। পিটিআই বার্তা সংস্থা একথা জানায়।

দিল্লি পুলিশ বলছে, তারা এই চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছেন, যেখানে ভারতের পেনাল কোড ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ প্রধান বিএস বাসির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ‘আমরা ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাক্ষাতকারটি প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছি’।

এদিকে মিজ উডউইন বলেছেন, তিনি আবেদন করেছিলেন জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এবং তিহার জেলের মহা পরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়ের কাছ থেকে সাক্ষাতকার নেয়ার অনুমতি নিয়েই কাজটি করেছেন। তিনি জানান, চিঠিতে তিনি বলেছিলেন যে, এটা একটা প্রচারণামূলক ফিল্ম। ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অনুমতির আবেদন করেন, দু সপ্তাহের মধ্যেই ‘হ্যাঁ সূচক’ অনুমতিও পেয়ে যান। দুপক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক অনুমতির পরই তিনি কাজে নামেন।

এর আগে একজন সুপরিচিত নারী অধিকার কর্মী এনডিটিভিকে চিঠিতে এই চলচ্চিত্রটি দেখানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, এতে করে আদালত অবমাননার ঘটনা ঘটবে। তবে নির্মাতাও নাছোরবান্দা। তিনি বলেছেন, যেকোনো ভাবে চলচ্চিত্রটির সম্প্রচার বন্ধ করার চেষ্টা মানেই বাক স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন।

এনডিটিভিতে এক আলোচনায় উডউইন বলেন, চলচ্চিত্রটি একজন ধর্ষকের ‘মানসিক অসুস্থতার’ কথাই তুলে ধরা হয়নি, সমাজের ‘অসুস্থতা’টিই এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরিবারও নির্মাতার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সিং এর মন্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ হলেও, চলচ্চিত্রটি সম্প্রচারের ব্যাপারে তাদের সমর্থন রয়েছে।

বিবিসির একজন মুখপাত্র বলেন, প্রামাণ্য চিত্রটি পুরোটাই ভিকটিমের পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এমন একটি ভয়ংকর অপরাধের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে, যা কিনা ঘটনার অব্যবহিত পরই বিশ্বে তোলপাড় তুলেছিল এবং নারীর প্রতি মনোভাব পরিবর্তনের দাবিতে ভারতজুড়েও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।  তাছাড়া, চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে ইস্যুটির প্রতি সম্পূর্ণ দায়িত্বশীলতা এবং সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনেই।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.