দিল্লির ঘটনায় খোদ ধর্ষকেরই বড় গলা

India Rape 2উইমেন চ্যাপ্টার: দিল্লির বহুল আলোচিত ‘নির্ভয়া’ ধর্ষণের ঘটনায় খোদ ধর্ষক নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত তো হয়ইনি, বরং উল্টো মেয়েটির নাকি ধর্ষণের সময় লড়াই না করে আপোসে রাজী হওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

দিল্লিতে একটি বাসে ধর্ষণের ওই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাসচালক মুকেশ সিং এই মন্তব্য করেছেন একটি প্রামাণ্যচিত্রে।

তিনি সাক্ষাতকারে বলেছেন, ধর্ষণের সময় মেয়েটির প্রতিরোধ করা উচিত হয়নি। তার উচিত ছিল চুপ থেকে ধর্ষণ করতে দেয়া। তাহলে একে একে ধর্ষণ শেষে তাকে ছেড়ে দিতাম। শুধু সাথের ছেলেটিকে মারতাম”- তথ্যচিত্রের নির্মাতা লেসলি উডউইন মন্তব্য করেছেন – মুকেশ সিং এর এসব কথা তার কাছে ‘ভয়ানক এবং হতবাক করার মতো’ বলে মনে হয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২৩ বছর বয়সী  প্যারা মেডিকেলের এক তরুণী তার বন্ধুর সাথে ‘লাইফ অফ পাই’ সিনেমা দেখে বাসে করে ফিরছিলেন। বাসে একজন কিশোর বয়সীসহ আরও ছয়জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই মিলে  মেয়েটির বন্ধুটিকে মারধর করে এবং মেয়েটিকে একের পর এক ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি, এরপর নৃশংসভাবে লোহার রড দিয়ে নির্যাতন করে দুজনকেই চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়। পরে ১৬ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে মেয়েটি শেষপর্যন্ত হার মানে।

এ ঘটনায় তখন ভারতজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়। সরকার বাধ্য হয় নড়েচড়ে বসতে এবই আইন কঠোর করতে। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় রায়ে। অপর তিনজনের সাথে মুকেশ সিংও তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

বিবিসি বাংলা জানায়, ওই ঘটনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় দেয়া এক সাক্ষাতকারে মুকেশ সিং আরো কিছু মন্তব্য করেছেন যা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি বলেছেন, “কোন ভদ্র মেয়ে রাত নয়টায় বাইরে ঘোরাঘুরি করে না”। তার কথায়, “ধর্ষণের জন্য পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি দায়ী”।

যদিও ভারতের সংবিধানে নারীর সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তবে মুকেশের দাবি “নারীরা শুধু ঘর সামলানোর কাজ করবে। ডিসকো, বারে যাওয়া এমনকি সঠিক পোশাক না পরা তাদের কাজ নয়”।

মুকেশের দাবি, মৃত্যুদণ্ড মেয়েদের জন্যই ক্ষতিকর হবে। “আগে হলে মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হয়তো ফেলে যেত, বলতো যে, সে কাউকে বলে দেবে না এই ঘটনা। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে কেউ ধর্ষণ করে ফেলে যাবে না। মেয়েটিকে মেরে ফেলবে”।

মুকেশ পুরো ঘটনাটিকে এক কথায় দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করে। বিবিসির এই প্রামাণ্য চিত্রটি সম্প্রচার করা হবে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে।

এদিকে আইনজীবী, যারা আসামীদের পক্ষ হয়ে লড়ছেন এই মামলায়, তারাও আসামীদের কথামতোই সব দোষ মেয়েদের ঘাড়ে চাপাতে তৎপর। এর আগে এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে আইনজীবী এপি সিং বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে বা বোন যদি বিয়ের আগে কোন ধরনের সম্পর্কে জড়িত হয়, নিজেকে অসম্মানিত করে এবং চরিত্র কলংকিত করে, সমাজে মুখ দেখাতে না পারে, তাহলে আমি নিশ্চিত তাকে আমি আমার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পুরো পরিবারের সামনে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারতাম’। বিবিসির প্রামাণ্যচিত্রেও তিনি বলেছেন, তার আগের অভিমত থেকে তিনি তিলমাত্র সরে আসেননি। এটাই তার অবস্থান এবং এখানেই তিনি অনড় থাকবেন।

অপর এক আইনজীবী এম এল শর্মা বলেছেন, ‘আমাদের সমাজে আমরা কখনও আমাদের মেয়েদের সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা বা সাড়ে সাতটা বা সাড়ে আটটার পর বাড়ি থেকে অচেনা মানুষের সাথে বের হতে দেই না।’

প্রামাণ্য চিত্রটিতে নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিই ফুটে উঠেছে।

 

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.