তুই নাস্তিক, আয় তোরে কোপাই     

Free 1নাজিয়া হক অনি: আচ্ছা, স্টিফেন হকিং যদি এদেশে কোনদিন আসে সেও কি কোপ খাবে? মহাবিশ্ব সৃষ্টির তার থিওরি “বিগ ব্যাং” থিওরি থেকে তো যে কেউ জানবে সে নাস্তিক। ঈশ্বর এর অস্তিত্বে বিশ্বাসী নয়। পঙ্গু, হুইল চেয়ারে বসা অসম্ভব মেধার কি কোন মূল্য থাকত যদি সে আজ এই দেশে জন্মাত?

আজ যদি বাংলাদেশে এমন কেউ জন্মায় তাকে কি করা হতো? পঙ্গু হয়েও যার মস্তিষ্ক, কেবল মস্তিষ্ক কাজ করে বলে সে এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর মর্যাদা পাচ্ছেন। আমার প্রশ্ন তার মত কেউ কি এদেশে জন্ম নেবার সাহস করবে? যদি সাহস করেও তাকে বেঁচে কি থাকতে দেয়া হবে?

আজকাল সারাদিন মাথায় কেবল এই চিন্তা গুলো ঘুরছে। কীভাবে এই দেশে কোন বড় কেউ জন্ম নেবে? কোন বড় বিজ্ঞানী, বড় চিত্রকর, বড় দার্শনিক, বড় চিন্তাবিদ কীভাবে জন্ম নেবে? চিন্তা করার জন্য যে নুন্যতম স্বাধীনতা দরকার তা কি আছে এদেশে? চিন্তা করার, কথা বলার জন্য যেভাবে একটা মানুষকে বেড়ে উঠতে দিতে হয় তা কি সম্ভব এদেশে? তাহলে কীভাবে হবে?

এদেশে কোনদিন নিউটন, আইনস্টাইন জন্ম নেবে না। স্টিভ জবস জন্ম নেবে না। বিল গেটস জন্ম নেবে না। অ্যাপল এর মত বাংলাদেশের জাতীয় ফল “কাঁঠাল” নামে কোন কোম্পানি হবে না। উইনডোজ এর মত বাংলার “আকাশ” বলে কোন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি হবে না। কোনদিন পিকাসো, ভিঞ্চি, ভ্যানগগ জন্ম নেবে না। পুরুষদের মধ্যে এমন কেউ তো নেবেই না, নারীদের মধ্যে আরও নেবে না।

এদেশের মেয়েরা জন্মাবে মুখে রঙ মেখে সং সেজে ন্যাংটো হয়ে শরীর দুলিয়ে ছেলেদের বশ করে রাখার সকল কলা কৌশল আয়ত্ত করতে। তাই নায়লা নাইম যতটা না তার ডাক্তারির জন্য তার চেয়ে বেশি তার বক্ষ ও পশ্চাৎদেশের চর্বির জন্য বিখ্যাত হয়।

হ্যাঁ নায়লা নাইম অনেক জন্মাবে এ দেশে। প্লাস্টার মেখে সেজে গুজে ঘুরে বেড়াবে চারপাশে। বেগম রোকেয়া জন্মাবে না। তসলিমা নাসরিন জন্মাবে না। কারণ তাদের ‘টুঁ’ শব্দ শোনার সাথে সাথে খড়গ নেমে আসবে ঘাড় বরাবর। নাহলে দেশ থেকে পালিয়ে থাকতে হবে।

কে চাইবে সাধ করে মরতে?? কে চাইবে এমন জীবন? এর চেয়ে তো রঙ মেখে সুখী সুখী ভাব করে বেঁচে থাকা অনেক সহজ। সেই তো ভাল তাই না?

আমার কেন জানি মনে হয়, ছেলেদের মধ্যে এখনও এতটা নষ্টামি আসেনি। এখনও আশা করা যায়, এদেশের ছেলেদের নিয়ে। তারা চিন্তা করতে জানে, ভয়ে ভয়ে হোক, তবু জানে। আমি যত কথা বলি ছেলেদের খারাপ দিক নিয়ে তা যতটা না মেয়েদের জানানোর জন্য, তার চেয়ে বেশি ছেলেদের শাসন করে বোঝানোর জন্য। হয়ত বা নিজের কোন ভাই নেই বলে সবাইকে ভাইয়ের মত শাসাতে যাই।

সেই অধিকারেই বলি, ভাইয়েরা আমার, তোরা আইনস্টাইন, নিউটন, স্টিফেন হকিংস, না হতে পারিস, অন্তত মানুষ থাকিস, খুনি হইস না। বদমাশ হইস না। দুটা পয়সা কম থাকুক, তাও নিজের আত্মাকে বিক্রি করিস না। রক্তকে বিক্রি করিস না। তোদের গায়ে যে রক্ত তা অনেক মূল্যবান। একটা দেশ স্বাধীন হয়েছে এই রক্তে। এর অমর্যাদা করিস না। মানুষ থাকিস।

(লেখকের অভিমতের সাথে দ্বিমত না করেই বলতে চাই, এখানে শুধু পুরুষরা কেন, মেয়েরাও তো আইনস্টাইন, নিউটন, স্টিফেন হকিং হতে পারেন – সম্পাদক, উইমেন চ্যাপ্টার)

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.